Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
রাম রহিম

ধর্ষক রাম রহিমকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার সুপারিশ হরিয়ানা সরকারের

লক্ষ্য বিধানসভা নির্বাচন!

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৫, ২০১৯, ১৪:০০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৫, ২০১৯, ১৪:০০

options
link
ধর্ষক রাম রহিমকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার সুপারিশ হরিয়ানা সরকারের zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: হাই কোর্টের হুঁশিয়ারিকে উড়িয়ে ধর্ষক রাম রহিমের প্যারোলে মুক্তির আবেদনকে সমর্থন করল হরিয়ানা সরকার। গত মে মাসে তার আবেদন খারিজ করেছিল পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্ট। তাদের যুক্তি ছিল, গুরমিত রাম রহিম সিং জেলের বাইরে বেরোলে ২০১৭ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কিন্তু, একমাস বাদে সেই পর্যবেক্ষণকে কার্যত পাত্তাই দিল না রাজ্য সরকার। তা অমান্য করে ৫১ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ধর্মগুরুর আবেদনের স্বপক্ষে সুপারিশ পাঠাল আদালতে। পালিত কন্যার বিয়েতে উপস্থিত থাকার জন্য প্যারোলের আবেদন করেছিল রাম রহিম। তাই মানবিক কারণে তার আবেদনকে মান্যতা দেওয়া হচ্ছে বলে জানায় খাট্টার প্রশাসন।

[আরও পড়ুন- আগস্টেই রেলে নির্বাচন, মোদি হাওয়ায় আধিপত্য খোয়ানোর আশঙ্কায় বাম-কংগ্রেস]

এপ্রসঙ্গে হরিয়ানার কারামন্ত্রী কে এল পানোওয়ার বলেন, “প্রত্যেক সাজাপ্রাপ্তের একবছর বাদে প্যারোলের জন্য আবেদনের অধিকার আছে। উনি একটা আবেদন পাঠিয়েছিলেন। আমরা সেটা সিরসা জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। রিপোর্ট দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নির্বাচনের সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই। যদি সত্যিই আমাদের সেই উদ্দেশ্য থাকত তাহলে লোকসভা নির্বাচনের আগে ওনাকে ছেড়ে দিতাম। সরকারের এই রকম কোনও চিন্তাই নেই।”

Advertisement

রাজ্যের অন্য দুই মন্ত্রী কৃষ্ণা পওয়ার এবং অনিল ভিজও ধর্ষণে সাজাপ্রাপ্ত ধর্মগুরুর আবেদনকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ডেরা সাচ্চা সৌদার প্রধান রাম রহিমের ব্যবহার জেলে খুব ভাল ছিল। তাই অন্য বন্দির মতো তারও প্যারোলে বাইরে বেরোনোর অধিকার আছে।

[আরও পড়ুন- ‘টার্গেট মিস করিনি’, জোরাল দাবি বালাকোটে হামলাকারী বায়ুসেনার পাইলটের]

গত মে মাসে ধর্ষক ধর্মগুরুর প্যারোলের জন্য পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে আবেদন জানান পালিত কন্যা। কিন্তু, তা খারিজ করে দেন বিচারপতি কুলদীপ সিং। তাঁর যুক্তি ছিল, সাজাপ্রাপ্ত জেলের বাইরে বেরোলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হবে। নতুন করে তাকে গ্রেপ্তার করতে সমস্যা হতে পারে। তাই প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার কোনও কারণ নেই। আইনজীবীরা বলছেন, একজন বন্দি দু’বছর পর প্যারোল পেতে পারেন। কিন্তু, রাম রহিম একবছর বাদেই সেই আবেদন করেছে। তাই, নিয়ম অনুযায়ী তা অনুমোদন পাবে না। পাশাপাশি এই বিষয়ে আদালতের নির্দেশ যুক্তিগ্রাহ্যও। কিন্ত, এটাই মানতে চাইছে না হরিয়ানা সরকার! বরং তার সমর্থনে আদালতে সুপারিশ করছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০০২ সালে হরিয়ানার বিতর্কিত ডেরা সাচ্চা সৌদার প্রধান রাম রহিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ডেরার দুই সাধ্বী রীতিমতো চিঠি দিয়ে অভিযোগ জানা জেলা প্রশাসনের কাছে। এই নিয়ে মামলা চলার পর তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। অন্য একটা মামলায় একজন সাংবাদিককে খুনের অভিযোগে ১৬ বছরের কারাদণ্ড হয়। কিন্তু, তাকে গ্রেপ্তার করার সময় প্রচণ্ড গন্ডগোল হয়। রাম রহিমের সমর্থকদের সঙ্গে কয়েকদিন ধরে গুলি, বোমার যুদ্ধ চলে প্রশাসনের। প্রচুর কাঠখড় পোড়ানোর পর নিজের ডেরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। তারপর থেকে রোহতকের সুনারিয়া জেল ছিলই স্বঘোষিত ধর্মগুরুর ঠিকানা। কিন্তু, কিছুদিন পর থেকে প্যারোলে মুক্তির জন্য বারবার আদালতের দ্বারস্থ হতে থাকে সে। মে মাসের পর গত ২১ জুনও চাষাবাদের জন্য ৪২ দিনের প্যারোল চায়। এখন আবার পালিত মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত থাকার জন্য আবেদন জানিয়েছে।

বিরোধীদের অভিযোগ, চারমাস পরে হরিয়ানায় বিধানসভা নির্বাচন। তাই পরিকল্পনামাফিক এই পদক্ষেপ নিয়েছে বিজেপি সরকার। কারণ, হরিয়ানা ও প্রতিবেশী পাঞ্জাবে রাম রহিমের প্রচুর সমর্থক আছে। প্যারোলের বিষয়ে সাহায্য করে সেই সমর্থকদের মন জয় করতে চাইছে খাট্টার প্রশাসন। নির্বাচন জেতার জন্যই এই পন্থা অবলম্বন করেছে ওরা!

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.