BREAKING NEWS

১৮ অগ্রহায়ণ  ১৪২৯  সোমবার ৫ ডিসেম্বর ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

Advertisement

শহিদ জওয়ানের নামে জম্মু ও কাশ্মীরে স্কুলের নাম রাখল ভারতীয় সেনা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: May 13, 2017 11:05 am|    Updated: May 13, 2017 11:05 am

J-K: School to be renamed after slain hero Lt. Ummer Fayaz

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: জঙ্গি হানায় শহিদ লেফটেন্যান্ট উমর ফৈয়াজের নাম উপত্যকায় অমর ও অমলিন করে রাখতে এবার জম্মু ও কাশ্মীরের একটি স্কুলের নাম পাল্টে দিতে চলেছে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী৷ ভারতীয় সেনা সিদ্ধান্ত নিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের একটি স্কুলের নাম পাল্টে এবার রাখা হবে ‘লেফটেন্যান্ট উমর গুডউইল স্কুল৷’ খবর সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের৷

এদিন সোপিয়ানে শহিদ সেনার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে এই কথা জানিয়েছেন ভিক্টর ফোর্স, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং(জিওসি) মেজর জেনারেল বি এস রাজু৷ লেফটেন্যান্ট উমর ফায়াজের নশ্বর দেহ সোপিয়ানের জেলা হাসপাতালে পোস্টমর্টেমের জন্য নিয়ে আসা হয়৷ সেনা সূত্রে বলা হয়েছে, পুণের ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি ও দেরাদুনের ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ শেষ করে গত ডিসেম্বরে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন উমর৷ ভাল ব্যবহার, ক্ষুরধার বুদ্ধির জন্য সবার মন জয় করেছিলেন তিনি৷ “প্রচণ্ড জীবনীশক্তিতে ও টগবগ করে ফুটত”, জানিয়েছেন এক সেনাকর্তা৷ নিয়মিত হকি ও ভলিবল খেলতেন উমর৷ উমরের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে টুইট করেন অরুণ জেটলি, মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

গত বুধবার সোপিয়ানের হার্মান চক এলাকা থেকে উদ্ধার হয় ভারতীয় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যাণ্ট উমর ফৈয়াজের গুলিবিদ্ধ দেহ৷ বিয়েবাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে খুন করা হয় কাশ্মীরের ভূমিপুত্র তথা তরুণ সেনা অফিসার উমরকে৷ তাঁর আদি বাড়ি কুলগাম জেলায়৷ ২২ বছরের উমর ছিলেন সেনাবাহিনীর চিকিৎসক৷ কর্মসূত্রে কাশ্মীরের আখনুর জেলায় পোস্টিং ছিল তাঁর৷ তিনি ছিলেন ২ নম্বর রাজস্থান রাইফেলসের লেফটেন্যান্ট৷ সোপিয়ানে খুড়তুতো ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষে আগে থেকেই ক্যাজুয়াল লিভের আবেদন করেছিলেন তিনি৷ চাকরি জীবনে এটাই ছিল তাঁর প্রথম ছুটি৷ কিন্তু তিনি, তাঁর সহকর্মী ও পরিবারের কেউই ভাবেননি যে এটাই তাঁর শেষ ছুটি হয়ে যাবে৷ জুন মাসেই ছিল তাঁর জন্মদিন৷ সামনের মাসেই ২৩ শে পা দিতেন তিনি৷ সেনা ছাউনি থেকে বেরিয়েছিলেন হাসিমুখে৷ দু দিনের মধ্যে তেরঙা জাতীয় পতাকায় ঢাকা কফিনবন্দি লাশ হয়ে ফিরলেন নিজের গ্রামে৷ গত বুধবার উমরের দেহ পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে তাঁর পরিবার৷ গ্রামের হাজার হাজার শোকার্ত বাসিন্দার উপস্থিতিতে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় উমরের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়৷ উমরের কবরে মাটি দেন সেনা অফিসার ও কাশ্মীরের মন্ত্রীরা৷

[বিশ্ব আদালতের নির্দেশ অগ্রাহ্য, কুলভূষণের ফাঁসি রুখতে নারাজ পাকিস্তান]

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত ১০টা নাগাদ বিয়েবাড়িতে পাঁচ-ছয়জন অপরিচিত ব্যক্তি সেনাবাহিনীর পোশাকে এসে উমরের খোঁজ করে৷ ওই চারজনের সঙ্গে কথা বলতে বাইরে বেরিয়ে আসেন উমর৷ বেশ কিছুক্ষণ সময় কেটে যাওয়ার পরেও উমর না ফেরায় বিয়েবাড়ির লোকজন তাঁর খোঁজ শুরু করে৷ কিন্তু সেদিন রাতে আর তাঁর হদিশ মেলেনি৷ শেষ পর্যন্ত বুধবার সকালে হার্মান চক এলাকায় গুলিতে ঝাঁঝরা উমরের দেহ উদ্ধার হয়৷ অজ্ঞাতপরিচয় ওই চার সন্দেহভাজন জঙ্গির হদিশ পেতে তল্লাশি অভিযান জোরালো করে পুলিশ ও সেনাবাহিনী৷ সেনা গোয়েন্দাদের দাবি, সেনাবাহিনীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতেই পরিকল্পনামাফিক উমরকে অপহরণ করেছিল হিজবুল মুজাহিদিন ও লস্কর-ই-তইবার জঙ্গিরা৷ তাঁকে দিয়ে ভারত-বিরোধী আপত্তিকর কিছু বলানোর বা লেখানোর চেষ্টা করেছিল জঙ্গিরা৷ কিন্তু উমর তা না মানায় তাঁকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়৷ ভারতীয় সেনাবাহিনীকে শিক্ষা ও বার্তা দিতেই উমরকে হত্যা করেছে জঙ্গিরা৷

প্রতিরক্ষামন্ত্রক, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনা নজিরবিহীন৷ কারণ পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলি যাদের মধ্যে হিজবুল মুজাহিদিনের মতো স্থানীয় শক্তিশালী জঙ্গি সংগঠনও রয়েছে তারা কখনও ভূমিপুত্রদের উপর আঘাত হানে না৷ কাশ্মীরি যুবকদের খুন করে না৷ কিন্তু ভারতীয় সেনা অফিসার হওয়াতেই উমরকে খুন হতে হল৷ গত বছর সেনাবাহিনীর হাতে হিজবুল জঙ্গি কমান্ডার বুরহান ওয়ানির হত্যার বদলা নিতেই ২২ বছরের সেনা অফিসার উমরকে হত্যা করেছে জঙ্গিরা৷ কেন্দ্রীয় সরকারের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দাবি,  উপত্যকার ভূমিপুত্র হয়েও উমর ছিলেন দেশভক্ত সেনা অফিসার৷ এটাও ছিল রাগের কারণ৷ তাই তাঁকে মেরে জঙ্গিরা কঠোর বার্তা দিল, সেনাবাহিনী ও পুলিশে কর্মরত কাশ্মীরি মুসলিমদেরও ‘রেয়াত’ করা হবে না৷ কয়েকদিন আগে একটি ব্যাঙ্কের ক্যাশভ্যান লুঠ করে প্রায় ৫৩ লক্ষ টাকা নিয়ে উধাও হয় লস্কর ও হিজবুল জঙ্গিরা৷ ঘটনাস্থলেই তারা গুলি করে মারে পাঁচ মুসলিম পুলিশকর্মীকে৷ গত দুই সপ্তাহে একাধিক ব্যাঙ্ক লুঠের ঘটনায় বেশ কয়েক জন মুসলিম পুলিশকর্মী ও সিআরপিএফ জওয়ানকে হত্যা করেছে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গিরা৷ এঁরা সবাই ছিলেন কাশ্মীর উপত্যকার ভূমিপুত্র৷

[থানায় নগ্ন বিক্ষোভ, লজ্জায় পিছু হটলেন পুলিশরাই]

সেনাবাহিনীর আরেকটি সূত্র জানায়, কয়েক দিন আগে সোপিয়ানেই বড়সড় সেনা অভিযান হয়েছিল৷ জঙ্গি নিধন করতে ঘরে ঘরে ঢুকে তল্লাশি চালিয়েছিল সেনা৷ ৩০টি গ্রামে তিন-চার দিন ধরে তল্লাশি চলে৷ তল্লাশির সময় হিজবুল জঙ্গিদের সঙ্গে সেনাদের বিক্ষিপ্ত গুলি বিনিময় হয়৷ নিহত হন এক অসামরিক গাড়িচালক৷ এই তল্লাশি অভিযানের বদলা নিতেই নিরস্ত্র উমরকে হাতের কাছে পেয়ে ছাড়তে চায়নি জঙ্গিরা৷ আগে থেকেই খবর নিয়ে ওত পেতে ছিল জঙ্গিরা৷ নিরস্ত্র উমরকে ভুল বুঝিয়ে ডেকে নিয়ে গিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় গোপন জঙ্গি ডেরায়৷ তাঁর কাছ থেকে সম্ভবত সেনাদের গতিবিধি ও অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়৷ কিন্তু উমর কিছুই বলতে না চাওয়ায় তাঁকে গুলি করে মারে জঙ্গিরা৷ সোপিয়ানে সেনা অভিযানের বদলা নেয় জঙ্গিরা৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে