পশ্চিমবঙ্গের পরে এবার ঝাড়খণ্ড। ফের একবার বিপাকে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি। এবার ঝাড়খণ্ড পুলিশ পৌঁছে গেল ইডি-র দপ্তরে।
জানা গিয়েছে, জল সরবরাহ কেলেঙ্কারির তদন্ত করছে ইডি। এর মাঝেই রাঁচি পুলিশের একটি দল ১৫ জানুয়ারী সকালে বিমানবন্দর রোডে অবস্থিত ইডি-র অফিসে হানা দেয়। বিশাল বাহিনী নিয়ে পৌঁছায় তাঁরা। দাবি, জল সরবরাহ কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত সন্তোষ কুমারের করা অভিযোগের তদন্ত করছে পুলিশ। অভিযোগে যেখানে বলা হয়েছে, ইডি কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁকে হেনস্তা করেছে।
আরও পড়ুন:
রাঁচির আপার চুটিয়ার বাসিন্দা সন্তোষ কুমার অভিযোগ করেছেন, ইডি-র ডিরেক্টর (২) প্রতীক এবং তাঁর সহকারী শুভম তাঁকে হেনস্তা করেছেন। তাঁর অভিযোগ জিজ্ঞাসাবাদের সময় মারধর করে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, তাঁকে দপ্তরে ডাকার পরে প্রমাণ নষ্ট করে দেয় ইডি। সন্তোষ কুমারের জানিয়েছেন, আহত হওয়ার পর তাঁকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে তাঁর মাথায় ছয়টি সেলাই করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতালেও তাকে হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ডাক্তারদের জানিয়ে দেওয়া হয় যাতে সন্তোষ কুমারের আঘাতের আসল কারণ প্রকাশ্যে না বলা হয়।
সন্তোষ নিজের অভিযোগে জানিয়েছে, ইডি দপ্তরে ফিরিয়ে আনার পরে, জোর করে তাঁর রক্তে ভেজা জামা বদল করে দেওয়া হয়। তাঁকে যে ‘ইনসিডেন্ট রিপোর্ট’ সই করানো হয়, তা তাঁকে পড়তে দেওয়া হয়নি বলেও নিজের অভিযোগে জানিয়েছেন তিনি। সংবাদমাধ্যম, পুলিশ অথবা আইনজীবীকে এই ঘটনার কথা জানালে তাঁর স্ত্রী এবং পুত্রকেও জেলে পাঠানোর হুমকি দেয় ইডি, এমনটাই অভিযোগ করেছেন সন্তোষ কুমার। এরপরেই তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করে পুলিশ।
ইডি এবং রাজ্য পুলিশের মধ্যে আইনি এবং প্রশাসনিক সমস্যা নতুন নয়। এর আগে, বেআইনি খনন এবং সাহেবগঞ্জ টোল টেন্ডার মামলায় ইডি-র সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে রাজ্য পুলিশ। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) প্রস্তুত করে রাজ্য সরকার। যদিও, এই এসওপি ইডি প্রত্যাখ্যান করে। ইডি সরাসরি জানিয়ে দেয়, সংসদ তাঁদেরকে যে ক্ষমতা দিয়েছে, সেই ক্ষমতাকে লঙ্ঘন করছে রাজ্যের এই এসওপি।
কিছুদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গেও রাজ্য পুলিশ এবং ইডি-র মধ্যে সমস্যা দেখা দেয়। সেই সমস্যা গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। দুই পক্ষের সওয়াল জবাব শোনার পর বিচারপতি মিশ্রর পর্যবেক্ষণ, “এই মামলায় অনেক বৃহত্তর প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। অনেক সংগত প্রশ্নও রয়েছে। এর মীমাংসা না হলে ভবিষ্যতে আইনের শাসন ভেঙে পড়বে। বিভিন্ন রাজ্যে, বিভিন্ন সরকার প্রশাসন চালায়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা দেশ জুড়ে তদন্ত করেন। তাদের কোনও দলের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। কিন্তু যদি আইন সংগতভাবে তাঁরা তদন্ত করেন তা হলে দলীয় স্বার্থের ঢাল নিয়ে তা ব্যাহত করা যাবে না। তাই সবপক্ষর কাছে এনিয়ে ২ সপ্তাহের মধ্যে জবাব তলব করা হল। ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স, শেক্সপিয়র সরণি থানা-সহ যে চারটি এফআইআর দায়ের হল তাতে স্থগিতাদেশ দেওয়া হল। একইসঙ্গে লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকের গোদরেজ ওয়াটার সাইড বিল্ডিংয়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
২৫ হাজার ‘ঘুষে’র দাবি, না পেয়ে নাবালিকার জোড়া লাগা পা ভাঙলেন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক!
-
তৃণমূলের ভাঙনে মোদির স্বপ্নপূরণ! ২৯-এর আগেই আসন পুনর্বিন্যাস কার্যকরে আসরে কেন্দ্র
-
প্রেম ফিকে হলেও বন্ধুত্ব চির-অমলিন, সম্পর্কের নয়া রসায়ন বাতলালেন তৃপ্তি দিমরি
-
মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপ, গতি পেল সেবক-রংপো রেল প্রকল্পের কাজ, জুড়ছে শিলিগুড়ি-সিকিম
-
বাতাসে বিষ! পরিবেশ বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথে হাঁটছেন শুভেন্দু