৪ মাঘ  ১৪২৫  শনিবার ১৯ জানুয়ারি ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফিরে দেখা ২০১৮ ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কট্টরপন্থা ছেড়ে যোগীর উত্তরপ্রদেশে রাতারাতি যেন উদারপন্থা। কুম্ভমেলায় বৃহন্নলাদের আখড়া খোলার জায়গা দেওয়া হয়েছে। প্রথমবার পবিত্র কুম্ভে অংশ নিয়ে নতুন ইতিহাস তৈরি করতে চলেছেন সমাজের তৃতীয় লিঙ্গের মানুষজন। সামাজিক বহু বাধাবিপত্তির মাঝে এমন একটি আখড়াকে জায়গা দিয়ে বৃহন্নলাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে তুললেন যোগী আদিত্যনাথ।

হাজারও সংগ্রাম, আন্দোলন, বহু সামাজিক হেনস্তা, অবমাননার পিছল রাস্তা পেরিয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষজন। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে এখন তাঁরা স্বাধীন। আর পাঁচজনের মতোই তাঁদের নাগরিক অধিকার। আইন অনুযায়ী অধিকার পাওয়ার রাস্তা মসৃণ হলেও, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা কি আদৌ বেড়েছে? এই প্রশ্নের কাছে অসহায় রূপান্তরিত নারী, পুরুষরা। এঁদের ক্ষেত্রে বাস্তব ঠিক ততটা অনুকূল নয়। এখনও অনেককে বিদ্রূপ, হেনস্তার শিকার হতে হয়। এসবের মাঝেই লড়াই জারি রেখেছেন এঁরা। হয়তো তারই একটা ইতিবাচক ফলাফল – কুম্ভে অংশগ্রহণ। কিন্নর আখড়ার প্রধান লক্ষ্মীনারায়ণ ত্রিপাঠীর কথায়, ‘আমাদের কাছে কুম্ভমেলায় অংশ নেওয়াটা সমাজের মূল স্রোতের মিশতে পারার একটা সুযোগ। ঐতিহ্য, শিল্প সংস্কৃতি বা ধর্মীয় আচার– সব জায়গায় আমরা মূল স্রোতে মেশার জন্য এখনও লড়ে যাচ্ছি। বলতে চাইছি, লিঙ্গবিভেদের ভিত্তিতে মানুষের পরিচয় ধার্য করা যায় না। সকলেই মানুষ। সকলের সমান অধিকার। সামাজিক গোঁড়ামির মাঝে তাই কুম্ভমেলা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ।` কিন্নর আখড়ার সম্পাদক পবিত্রা বলছেন, ‘কুম্ভমেলায় নিজেদের আখড়া তৈরি করব, এই প্রস্তাব দিতেই প্রথমে কয়েকজন প্রতিবাদে রে রে করে উঠেছিলেন। কিন্তু তারপর ওখানকার পুণ্যার্থীরাই আমাদের সমর্থনে এগিয়ে আসেন। তারপর আমরা জায়গা পাই।`

                                               [রাম মন্দির ইস্যু সমাধানে অনীহা কংগ্রেসের, কটাক্ষ মোদির]

জানা গিয়েছে, মেলার একটি অংশে বৃহন্নলাদের জন্য মাটির আখড়া তৈরি হচ্ছে। মকর সংক্রান্তির পুণ্য তিথিতে অন্যান্য পুণ্যার্থীদের মত এঁরাও ত্রিবেণী সঙ্গমে ডুব দিয়ে পূ্ণ্য অর্জন করবেন। মেলায় কোনওভাবে যাতে তাঁদের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে না হয়, সেদিকে বাড়তি নজর দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে পুলিশের কাছে। উত্তরপ্রদেশ সরকারের এই সিদ্ধান্ত স্বভাবতই সর্বত্র প্রশংসা। তবে ফিসফাসও শোনা যাচ্ছে। গোরক্ষনাথের প্রাক্তন প্রধান মহন্ত কি সত্যিই রাতারাতি এতটা উদার হয়ে উঠলেন? নাকি সবটাই স্রেফ ভাবমূর্তি ভাল করার উদ্দেশ্য? উত্তর যাই-ই হোক, এতদিন ধরে ব্রাত্য মানুষজনকে এভাবে অধিকারের রাস্তা খুলে দেওয়ার কথাই বা সেভাবে ক’জন ভাবলেন।

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং