BREAKING NEWS

৯ আষাঢ়  ১৪২৮  বৃহস্পতিবার ২৪ জুন ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

আগামী দু’মাসেই দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে, আশাবাদী স্বাস্থ্যমন্ত্রক

Published by: Abhisek Rakshit |    Posted: May 13, 2021 1:54 pm|    Updated: May 13, 2021 1:54 pm

Modi govt expects second Covid wave surge to come down ‘sharply’ by July | Sangbad Pratidin

নন্দিতা রায়, নয়াদিল্লি: দেশে করোনার সংক্রমণ (Corona Pandemic) আগামী জুলাই মাস থেকেই কমতে পারে বলেই আশা করছে কেন্দ্র। করোনার দ্বিতীয় ঢেউতে সংক্রমণ যেভাবে দ্রুতগতিতে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, তেমনই জুলাই মাসের মধ্যে দ্রুত গতিতেই তা নেমে আসবে বলে মনে করছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ক্ষেত্রে যে একই ধারা দেখা গিয়েছে তার উপর ভিত্তি করেই কেন্দ্রের তরফ থেকে এমনটা আশা করা হচ্ছে বলেই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যকর্তা জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “করোনা দ্বিতীয় ঢেউয়ের ক্ষেত্রে সর্বত্রই দেখা গিয়েছে সংক্রমণের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার দেখা গিয়েছে যে তা নেমেও এসেছে আরও দ্রুতগতিতে। তার উপর ভিত্তি করেই আমরা আশা করছি আগামী ছয় সপ্তাহ থেকে দু’মাসের মধ্যে সংক্রমণের গ্রাফ নিম্নমুখী হবে। জুলাই মাসের মধ্যেই দৈনিক সংক্রমণের মাত্রা হ্রাস পাবে।”

জুলাই মাসের মধ্যে সংক্রমণ কমলেও সেই সংখ্যা কতটা নিচে নামবে সে বিষয়ে অবশ্য স্বাস্থ্যকর্তা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। সংক্রমণ ক্রমশ নিচের দিকে যাচ্ছে বলে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের তরফ থেকে একাধিকবার দাবি করা হয়েছে। তবে, সেই দাবির পরই আবার করোনার দৈনিক সংক্রমণের বৃদ্ধির চিত্রই সামনে এসেছে। বর্তমানে দৈনিক সংক্রমণ যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে আগামিদিনে তা আরও বৃদ্ধি পাবে এমনটাই আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বাস্থ্য কর্তা সেই সম্ভাবনা প্রায় নেই বলেই দাবি করেছেন। তাঁর যুক্তি, “সংক্রমণের গ্রাফ কীভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে সেদিকে লক্ষ করলেই দেখতে পাবেন মার্চ মাসের ১ তারিখ থেকে এই সংখ্যাটি সত্যিই বাড়তে শুরু করেছে। সেখান থেকে আমাদের এখানে আসতে প্রায় আড়াই মাস সময় লেগেছে। যেভাবে এই সংখ্যা বেড়েছে তাতে তা নিচে নামতে আরও দুই থেকে আড়াই মাসের সময় লাগতে পারে।” সংক্রমণ কবে কমতে পারে তা নিয়ে সরাসরি মুখ না খুললেও নীতি আয়োগের সদস্য (স্বাস্থ্য) বিনোদ পলও করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতামতো সংখ্যাগুলি যে অতি দ্রুত বেড়ে যায় এবং আরও দ্রুত নেমে আসে সেই যুক্তিই দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “সংখ্যা কখন নেমে আসবে বা কোন স্তরে চলে যাবে তা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন। তবে আমরা বিশ্বজুড়ে দেখেছি যে দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণের সংখ্যা দ্রুত গতিতে ওপরে যাওয়ার চেয়ে আরও দ্রুত নেমে আসে।”

[আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীকে এড়িয়ে সরাসরি জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকের ডাক প্রধানমন্ত্রীর, শুরু বিতর্ক]

কেন্দ্র সরকার যেভাবে জুলাই মাসের মধ্যে সংক্রমণের গ্রাফ নিম্নমুখী হবে বলে আসা করছে সেই একই ধরনের আশার বাণী মিলেছে কেমব্রিজের গবেষকদের সমীক্ষাতেও। ভারতে দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ শিখর ছুঁয়েছে, এবার তা নিম্নমুখী হবে বলেই ‘কেমব্রিজ জাজ বিজনেস স্কুল’ এবং ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইকনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চ’এর গবেষকরা দাবি করেছেন। দেশে সংক্রমণের প্রকৃতি পর্যালোচনা করে আগামী দিনে কী হবে, তার একটা ধারণা দিয়েছেন গবেষকরা। দেখা যাচ্ছে, ৭ মে ভারতে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪ লক্ষ ১৪ হাজার ১৮৮। এই সংখ্যা আমেরিকায় আক্রান্তের সর্বোচ্চ শিখরের তুলনায় ৩২ শতাংশ বেশি। তারপর থেকে ধীরে ধীরে আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে বলেই জানিয়েছেন গবেষকরা। তবে সংক্রমণ নিম্নমুখী হলেও দেশজুড়ে একই চিত্র দেখা না যেতেও পারে বলেও আশঙ্কা গবেষকদের। তাঁদের বক্তব‌্য, “সার্বিক ছবিতে সংক্রমণ শিখর ছুঁলেও কয়েকটি রাজ্যে এখনও সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। অসম, হিমাচল প্রদেশ, তামিলনাড়ু, ত্রিপুরার মতো কিছু রাজ্যে সংক্রমণের হার আগামী দু’সপ্তাহেও ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। তাই সার্বিক ছবিতে বদল হলেও কিছু রাজ্য অন্য রকম ছবি দেখাবে।”

সংক্রমণ কমলেও করোনায় মৃত্যুর সংখ্যার ক্ষেত্রে পরিবর্তন কতটা হবে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে সমীক্ষায়। তাতে বলা হয়েছে, “ভারতের বর্তমান স্বাস্থ্য পরিষেবা খুবই উদ্বেগজনক। অক্সিজেন, আইসিইউ শয্যা, ওষুধের অভাব। ফলে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আগামী কয়েক দিন মৃত্যু ৪ হাজারের আশপাশেই থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।” গ্রাফ নিম্নমুখী হলেও, সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। সমীক্ষায় বলা হয়েছ, “ভারতে দ্বিতীয় ঢেউয়ে যে ভাইরাস সক্রিয় তার সংক্রমণ ক্ষমতা অনেক বেশি। এই প্রজাতি অনেক দ্রুত সংক্রামক। এমনকী, করোনার টিকার মাধ্যমে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় সেই অ্যান্টিবডিও অনেক সময় এই ভাইরাসকে রুখতে ব্যর্থ হয়। ফলে টিকা নেওয়ার পরেও অনেক বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন”।

[আরও পড়ুন: সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে প্রয়োজন ৬-৮ সপ্তাহের লকডাউন! ICMR প্রধানের মন্তব্যে জল্পনা]

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement