BREAKING NEWS

৪ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

নাবালকের কেরামতি, অ্যাপ নির্ভর ক্যুরিয়ার পরিষেবায় এবার ডাব্বাওয়ালারা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 19, 2018 1:37 pm|    Updated: August 21, 2020 7:04 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বছর তেরোর নাবালকের বুদ্ধি। ক্যুরিয়ার সার্ভিসের সঙ্গে মুম্বইয়ের ডাব্বাওয়ালাদের জুড়ল নাবালক। মুম্বইয়ের প্রসিদ্ধ ডাব্বাওয়ালাদের নিয়ে চালু হল ক্যুরিয়ার অ্যাপ। দিনের দিন কম পয়সায় কোনও উপহার, গুরুত্বপূর্ণ জিনিসের ডেলিভারি চান? তাহলে আর চিন্তা নেই। ওলা উবেরের মতো এবার ক্যুরিয়ারেও মিলবে অ্যাপ নির্ভর পরিষেবা। অ্যাপে একবার অর্ডার করলেই প্রয়োজনীয় খাতা, বই গুরুত্বপূর্ণ নথি সময়মতো গ্রাহকের কাছে পৌঁছে যাবে। কিন্তু দিনের দিন কীভাবে চাহিদা মেটাবে ক্যুরিয়ার অ্যাপ? অ্যাপ সার্ভিসের সঙ্গে যদি মুম্বইয়ের ডাব্বাওয়ালারা থাকে তাহলে তো চিন্তাই নেই। মুম্বইবাসীর টিফিন ক্যারিয়ারের সঙ্গেই যথাস্থানে পৌঁছবে গুরুত্বপূর্ণ নথিও। দিনের দিন দরকারি কাগজপত্র ডেলিভারি পেতে এখন হাতের কাছে রয়েছে নয়া অ্যাপ ‘পেপারস অ্যান পার্সেলস’।

[কাজ দেওয়ার নাম করে তিন কিশোরীকে নিষিদ্ধপল্লিতে পাচার, গ্রেপ্তার ১]

কিন্তু টেক-নির্ভর দুনিয়ার বাইরের বাসিন্দা ডাব্বাওয়ালারা কী করে অ্যাপের আওতায় এলেন? মুম্বইবাসী নাবালকের কেরামতিতেই এই অসম্ভব সম্ভব হয়েছে। তার নাম কপিল মেহতা। যার ফলে একই সঙ্গে লাভের ভাগীদার দু’পক্ষই। একদিকে ডাব্বাওয়ালাদের সামনে নতুন রোজগারের পথ খুলেছে। অন্যদিকে জরুরি কাজের জন্য প্রানান্তকর ছোটাছুটি থেকে রেহাই পেয়েছেন ব্যস্তসমস্ত মুম্বইবাসী। লাভের মুখ দেখে কাজ করতেও উৎসাহী ডাব্বাওয়ালারা। গোটা ঘটনায় খুশি অ্যাপ নির্ভর ক্যুরিয়ার সংস্থার মালিক ঘনশ্যাম পারেখ। তিনি জানান, অ্যাপের পরিকল্পনা কপিলের।

তিনমাস ধরে অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। মোবাইলের প্লে-স্টোরে গিয়ে যে কেউ অ্যাপটি ডাউনলোড করে এর পরিষেবা নিতে পারেন। তবে আপাতত মুম্বইতেই পরিষেবা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। খুব শিগগির দিল্লিতেও চালু হবে ‘পেপারস অ্যান পার্সেল’ ক্যুরিয়ার অ্যাপ। এই মুহুর্তে অ্যাপ পরিষেবাকে সচল রাখার জন্য অনেকেই কাজ করছে। তবে মূল কাজটি করেছে কপিল। এই পরিষেবা তরতরিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে ডাব্বাওয়ালাদের কাজে লাগানোর বিষয়টি তার মস্তিষ্কপ্রসূত। এজন্য প্রায় ১৫ দিন ধরে টানা ডাব্বাওয়ালাদের কাজ পর্যবেক্ষণ করেছে সে। ডাব্বাওয়ালাদের সঙ্গে ভাব জমিয়ে প্রতি ডাব্বা পিছু কত কেমন উপার্জন হয় তার হিসেব করেছে। সেইমতো সংস্থার অন্যান্যদের সঙ্গে আলোচনা করে ডাব্বাওয়ালাদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেছে। তারপর ডাব্বাওয়ালাদের বুঝিয়ে এই পরিষেবায় নিয়ে আসা হয়েছে।

মোদ্দা কথা হল, এবার টিফিনের পাশাপাশি জরুরি কাগজপত্রও যথাস্থানে পৌঁছে দেবে মুম্বইয়ের ডাব্বাওয়ালারা। এমনিতে প্রতি ডাব্বা বাড়ি থেকে সংগ্রহ করে অফিস কাছারিতে পৌঁছে দিয়ে ফের তা বাড়িতে ফিরিয়ে আনার জন্য ৪৫-৫০ টাকা উপার্জন হত। এবার সেই সঙ্গে তাঁরা দরকারি নথিও পৌঁছে দেবেন। বিনিময়ে উপার্জন বাড়বে। পাশাপাশি টেক-নির্ভর দুনিয়ায় নিজেদের গ্রহণযোগ্যতাও তৈরি হবে। কেউ যদি দিনের দিন ডেলিভারি চান, তাহলে বেলা আড়াইটার মধ্যে ক্যুরিয়ার সার্ভিসে বরাত দিতে হবে। নথি সংগ্রহ ও পৌঁছে দেওয়ার ঠিকানাও নথিভুক্ত করতে হবে। সেই এলাকায় থাকা ডাব্বাওয়ালার কাছে পৌঁছবে ঠিকানা। তাঁরা নথি ও টিফিন সংগ্রহ করে সময়ের মধ্যে যথাস্থানে পৌঁছে দেবেন। অ্যাপ মারফত গ্রাহকের ঠিকানা পেয়ে যাবেন ডাব্বাওয়ালারা।

[ফের উত্তরপ্রদেশে ধর্ষণ করে খুন নাবালিকাকে, নালা থেকে উদ্ধার দেহ]

মামারবাড়িতে গুরুত্বপূর্ণ বই ফেলে চলে এসেছিল কপিল। তারপর দিনের দিন সেই বই ফেরত পেতে ক্যুরিয়ার সার্ভিসে অনুরোধও করে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর নির্ভরযোগ্য পরিষেবা সংস্থা পেলেও একটি বইয়ের জন্য আড়াইশো টাকা চেয়ে বসে সংস্থাটি। একজন ছাত্রের পক্ষে ওই টাকা অনেকটাই বেশি। তারপরই নয়া অ্যাপের ভাবনা মাথায় এল। ইতিমধ্যেই মুম্বইতে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই ক্যুরিয়ার সার্ভিস। কপিলেরও ব্যস্ততা বেড়েছে। তবে খুব শিগগির তার স্কুল খুলবে। তখন বিকেল চারটে থেকে ছ’টা পর্যন্ত অফিসে থাকবে সে। ছুটির দিন অফিসেই কাটাবে। বিকেলটা রাখবে খেলার জন্য।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement