BREAKING NEWS

৩ মাঘ  ১৪২৮  সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

টাটাদের ন্যানো প্রকল্প নিয়ে বিস্ফোরক মেল সাইরাসের

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: October 27, 2016 11:45 am|    Updated: January 7, 2020 5:26 pm

'Nano has consistently lost money, has not been shut for emotional reasons alone': Cyrus Mistry in his letter to Tata

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: টাটাদের ন্যানো প্রকল্প সম্পূর্ণ ব্যর্থ৷ সিঙ্গুর থেকে প্রকল্পটি রতন টাটা গুজরাতের সানন্দে সরিয়ে নিয়ে গেলেও বিপুল লোকসানে কারখানটি বন্ধ হওয়ার মুখে৷ টাটা সন্স-এর বোর্ড সদস্যদের কাছে লেখা অপসারিত চেয়ারম্যান সাইরাস মিস্ত্রি যে বিস্ফোরক ই-মেলটি বুধবার ফাঁস হয়ে গিয়েছে তাতে ন্যানোর বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে৷ সাইরাস তাঁর ই-মেলে লিখেছেন, প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও ন্যানো প্রকল্পটি তাঁরা বন্ধ করতে পারেননি রতন টাটার আবেগ এতে জড়িয়ে রয়েছে বলে৷

সাইরাসের ই-মেলে রতন টাটার বিরুদ্ধে গুচ্ছ-গুচ্ছ অভিযোগ রয়েছে৷ সাইরাস বলেছেন, গত চার বছর তিনি রতন টাটার জন্যই স্বাধীনভাবে কোনও কাজ করতে পারেননি৷ এই প্রসঙ্গেই ন্যানোর কথা তুলেছেন তিনি৷ ন্যানোতে এখনও পর্যন্ত ১,০০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়ে গিয়েছে বলে সাইরাস জানিয়েছেন৷ টাটা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান পদ থেকে যেভাবে অপসারিত হতে হয়েছে, তাতে ‘স্তম্ভিত’ সাইরাস মিস্ত্রি৷ আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগ তাঁকে দেওয়া হয়নি৷ এমন ঘটনা ভারতের কর্পোরেট মহলে কার্যত ‘নজিরবিহীন’ বলেও মন্তব্য করেছেন সদ্য অপসারিত চেয়ারম্যান৷

সাইরাসের এদিনের চিঠি থেকে স্পষ্ট হয়েছে, তাঁর ও রতন টাটার মধ্যে সব কিছু ‘ঠিক’ ছিল না৷ সাইরাস বলেছেন, “সংস্থার গাড়ি ব্যবসাকে লাভের মুখ দেখতে হলে ন্যানো প্রকল্প বন্ধ করা প্রয়োজন ছিল৷ ১ লাখ টাকার কমে গাড়ি দেওয়ার ‘কনসেপ্ট’ ছিল ন্যানো প্রকল্পের৷ কিন্তু এর উৎপাদন ব্যায়ই সব সময়ে তার চাইতে বেশি থেকেছে৷ এই উৎপাদন সব সময়েই আর্থিক ক্ষতি করেছে৷ যা বাড়তে বাড়তে ১,০০০ কোটি টাকাতে গিয়ে পৌঁছেছে৷” তিনি আরও বলেন, “ন্যানোকে লাভজনক করার কোনও পথ না থাকায় সংস্থার উচিত ছিল প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়া৷ কিন্তু শুধু আবেগ আমাদের সেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে দেয়নি৷” স্বার্থের সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে সাইরাস বলেছেন, “একটি বৈদ্যুতিন গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থাকে এখানে তৈরি ন্যানো গ্লাইডার্স সরবরাহ করা হত৷ টাটা তা-ও বন্ধ করতে রাজি হননি৷ কারণ ওই সংস্থায় রতন টাটার শেয়ার ছিল৷”

২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে বাজারে আসে ন্যানো গাড়ি৷ তখন এর দাম ছিল ১ লক্ষ টাকা৷ সেই সময়ে বিশ্ব বাজারে সবচেয়ে কম মূল্যের গাড়ি৷ প্রথমে গাড়িটির সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠে৷ পরে গাড়িটি আর সেভাবে বাজার পায়নি৷ এক সময়ে রতন টাটা নিজেই স্বীকার করেছিলেন, ন্যানোকে কম মূল্যের গাড়ি হিসাবে প্রচার করা ভুল হয়েছিল৷

টাটা সন্সের পরিচালন পর্ষদের সদস্যদের উদ্দেশে পাঠানো ই-মেলে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন সাইরাস৷ তাঁর দাবি, সংস্থা পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়ম পরিবর্তন করে ক্ষমতার বিকল্প ভরকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছিল৷ তাঁর কোনও স্বাধীনতা ছিল না৷ কার্যত তাঁকে ‘পঙ্গু’ করে দেওয়া হয়েছিল৷ এবং প্রতিটি পদে তাঁর কাজে নাক গলানো হত৷ সাইরাসের তির তাঁরই পূর্বসূরি তথা টাটা গোষ্ঠীর বর্তমান অন্তর্বর্তী চেয়ারম্যান রতন টাটার দিকে৷ সাইরাসের আরও দাবি, পাঁচটি অলাভজনক ব্যবসাকে টেনে নিতে গিয়ে টাটা গোষ্ঠীকে ১৮০০ কোটি ডলার (প্রায় ১ লক্ষ ১৮ হাজার কোটি টাকা) মূল্য চোকাতে হবে৷ সোমবারের পরিচালন পর্ষদের বৈঠকে যা হয়েছে, তা ‘বেআইনি’ ও ‘অবৈধ’ বলে সাইরাস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও দ্বারস্থ হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে৷ তবে এখনই টাটা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনি পথে যাওয়ার কথা খারিজ করেছেন সাইরাস ও শাপুরজি-পালোনজি গোষ্ঠী৷

টাটা পরিচালন পর্ষদের সদস্যদের পাঠানো সাইরাসের ই-মেলটি গোপনীয় হলেও বুধবার তা ফাঁস হয়ে যায়৷ সেখানে সাইরাস লিখেছেন, “২৪ অক্টোবর বোর্ড মিটিংয়ে যা ঘটেছে, তাতে আমি বাকরুদ্ধ৷ গোটা ঘটনাটাই অবৈধ, বেআইনি৷ তার চেয়েও যেটা দুঃখজনক, বোর্ড নিজের গরিমাকেই ক্ষুণ্ণ করেছে৷ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে যেভাবে আপনাদের চেয়ারম্যানকে ‘ছাঁটাই’ করেছেন, কর্পোরেট ইতিহাসে তা নজিরবিহীন৷” যদিও বিষয়টি নিয়ে টাটা গোষ্ঠীর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি৷

সাইরাসের আরও অভিযোগ, ২০১২-য় যখন তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তাঁকে অবাধে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল৷ কিন্তু বাস্তবে হয়েছে তার উল্টো৷ সংস্থার পরিচালন পতির একাধিক ধারা সংশোধন করে টাটা ফ্যামিলি ট্রাস্ট ও টাটা সন্স বোর্ডের মধ্যে ভারসাম্যে পরিবর্তন আনা হয়৷ স্যার দোরাবজি ট্রাস্ট ও স্যার রতন টাটা ট্রাস্টের হাতে সংস্থার অধিকাংশ শেয়ার রয়েছে৷ এবং তাঁদের প্রতিনিধিরা (নীতিন নোহরিয়া ও বিজয় সিং) ছিলেন কার্যত ‘পোস্টম্যান’৷ বোর্ড মিটিংয়ের মাঝপথে তাঁরা রতন টাটার নির্দেশ আনতে ছুটতেন৷ সাইরাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সংস্থা পরিচালনের ক্ষেত্রে তিনি কোনও দূরদৃষ্টি দেখাতে পারেননি৷ তা খণ্ডন করে সাইরাস ই-মেলে জানিয়েছেন, বোর্ডের বৈঠকে তিনি ২০২৫ পর্যন্ত কীভাবে এগোনো উচিত, তা ব্যাখ্যা করেন৷ এয়ার এশিয়া ও সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার সিদ্ধান্ত টাটার চাপেই নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি৷ সিঙ্গাপুর ও দেশের কয়েকটি ভুয়া সংস্থাকে জালিয়াতি করে ২২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও সাইরাস অভিযোগ করেছেন৷

সদ্য প্রাক্তন চেয়ারম্যান সাইরাসের মেল থেকেই স্পষ্ট, পূর্বসূরির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে কতটা টানাপোড়েন ছিল৷ টাটাদের হোটেল ব্যবসা, যাত্রীবাহী গাড়ি, টাটা স্টিলের ইউরোপীয় প্ল্যাণ্ট, বিদ্যুত্‍ উৎপাদন কেন্দ্র ও টেলিকমিউনিকেশন ব্যবসা অর্থাত্‍ ডোকোমোর সঙ্গে সংযুক্তিকরণের ফলে টাটা গোষ্ঠী বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন৷ সাইরাসের দাবি, পুনর্মূল্যায়ন হলে সংস্থার সম্পদ এক ধাক্কায় ১৮০০ কোটি ডলার কমে যাবে৷ টেটলি ও জাগুয়ার ল্যান্ডরোভার ছাড়া অন্য কয়েকটি ইউরোপীয় ব্যবসা, টাটা কেমিক্যালস, টাটা পাওয়ারের ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ করা দরকার বলে মনে করেন সাইরাস৷ এই চাপানউতোরের মধ্যেই টাটা গোষ্ঠীর পাঁচটি সংস্থার কাছে সাইরাসের দাবি অনুযায়ী ১৮০০ কোটি ডলার ক্ষতির আশঙ্কা নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (সেবি)৷ তাদের দাবি, টাটা গোষ্ঠীর প্রতিটি নথিভুক্ত সংস্থার উপর নজর রাখা হচ্ছে৷ গত কয়েকদিনের শেয়ার দরে ওঠা-পড়াও খতিয়ে দেখছে তারা৷ তবে সাইরাসের ন্যানো প্রকল্প নিয়ে করা অভিযোগটি সবচেয়ে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে৷ এই প্রকল্পটি নিয়ে বিতর্ক চলছে গত এক দশক ধরে৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে