Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Nepal Flash Flood

সঞ্চয় ছোট, হৃদয় বড়! নেপালের পাশে দাঁড়াতে পিগি ব্যাঙ্ক ভেঙে অর্থ দিল উত্তরপ্রদেশের আলফাজ

বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই মানসিকতায় সকলের বাহবা কুড়োচ্ছে ১০ বছরের ছেলেটি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ১৯:০৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ১৯:০৭

options
link
সঞ্চয় ছোট, হৃদয় বড়! নেপালের পাশে দাঁড়াতে পিগি ব্যাঙ্ক ভেঙে অর্থ দিল উত্তরপ্রদেশের আলফাজ zoom
উত্তরপ্রদেশের ১০ বছরের বালক আলফাজ শেখ, পিগি ব্যাঙ্কের অর্থ নেপালের জন্য দান করল সে,ছবি: সংগৃহীত
Advertisement

কয়েকটা কয়েন, কিছু নোট। একটু একটু করে ভরে উঠছিল সাধের পিগি ব্যাঙ্কটি। কত অর্থ জমেছে, তা গুনেও দেখেনি উত্তরপ্রদেশের ১০ বছরের বালক আলফাজ শেখ। ভেবেছিল, পুরোটা ভরলে তবে তা ভেঙে হিসেবনিকেশ করবে। কিন্তু ভাবনা অনুযায়ী কাজ তো সবসময় হয় না। আলফাজের ক্ষেত্রেও ভাবনা এলোমেলো হয়ে গেল। পিগি ব্যাঙ্কে টাকা জমাতে জমাতেই সে খবর পায়, ভয়ংকর বিপর্যয়ে প্রতিবেশী দেশ নেপাল তছনছ হয়ে গিয়েছে। প্রচুর মানুষ মারা গিয়েছে। যাঁরা বেঁচে আছেন, তাঁদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। এসব শুনে আর স্থির থাকতে পারেনি। পিগি ব্যাঙ্কের সামান্য সঞ্চয় সে দান করেছে নেপালবাসীর জন্য! ছোট ছেলের এত বড় হৃদয়ের পরিচয় পেয়ে অবাক সবাই। আজকের দুঃসময় আলফাজরাই তো জ্বালিয়ে রেখেছে মানবতার উজ্জ্বল প্রদীপ।

যেমন ভাবা, তেমন কাজ। পিগি ব্যাঙ্কটি একটা কাগজে মুড়িয়ে বাবার কাছে যায় আলফাজ। জানায়, ওই অর্থ যেন নেপালে পৌঁছে দেওয়া হয়। বাবা ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে সোজা চলে যান জেলাশাসক মহেন্দ্র সিং তাওয়ারের কাছে। ছেলের ইচ্ছার কথা খুলে বলেন। ১০ বছরের আলফাজের এমন মহানুভবতায় আপ্লুত হন জেলাশাসকও।

উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচের বাসিন্দা আলফাজ শেখ। পিগি ব্যাঙ্কে অর্থ সঞ্চয় করা তার অভ্যাস। হয়তো নির্দিষ্ট কোনও লক্ষ্য নেই। স্রেফ ভালো অভ্যাসবশত সে রোজই কয়েন বা নোট জমায়। এর মধ্যে নেপালের সর্বগ্রাসী বিপর্যয়ের খবর তার কানে পৌঁছয়। হড়পা বান আর হিমবাহ হৃদ ভাঙা জলের প্রবল তোড়ে সে দেশের বেশ কিছু জেলা ভেসে গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩০০ ছুঁয়ে ফেলেছে। ফুঁসে ওঠা ভোটেকোশী নদীস্রোতে কিছু কিছু দেহ নেপালের সীমান্ত পেরিয়ে ভেসে এসেছে উত্তরপ্রদেশের গণ্ডক নদীতে। এসব শুনেই আলফাজ ঠিক করে, পিগি ব্যাঙ্কে সঞ্চয় দিয়ে নেপালবাসীর পাশে দাঁড়াবে। কত টাকা আছে, তা কিন্তু জানে না বালক।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

যেমন ভাবা, তেমন কাজ। পিগি ব্যাঙ্কটি একটা কাগজে মুড়িয়ে বাবার কাছে যায় আলফাজ। জানায়, ওই অর্থ যেন নেপালে পৌঁছে দেওয়া হয়। বাবা ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে সোজা চলে যান জেলাশাসক মহেন্দ্র সিং তাওয়ারের কাছে। ছেলের ইচ্ছার কথা খুলে বলেন। ১০ বছরের আলফাজের এমন মহানুভবতায় আপ্লুত হন জেলাশাসকও। তিনি নেপাল দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই পিগি ব্যাঙ্কটিই তাদের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দূতাবাস থেকে তাঁকে জানানো হয়, এই মুহূর্তে এভাবে সাহায্য নেওয়া অসুবিধাজনক। পিগি ব্যাঙ্কটি ভেঙে সেই অর্থ যেন ব্যাঙ্কে জমা করা হয়। তাদের কথামতো পিগি ব্যাঙ্ক ভাঙা হয়। কিন্তু তাতে কত অর্থ ছিল, তা জানাননি জেলাশাসক।

আসলে অর্থের অঙ্ক তো এক্ষেত্রে বড় নয়। তার চেয়ে ঢের বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল, আলফাজের এই খাঁটি সোনার মতো মনটা। তার পিগি ব্যাঙ্কের সঞ্চয় অল্প হতে পারে, কিন্তু সেটুকুই সে অবলীলায় দান করে দিল বিপদে পড়া মানুষজনের জন্য। আলফাজের এই কাহিনি এখন সকলের মুখে মুখে ঘুরছে। প্রশংসা কুড়িয়েও অবশ্য সে নিস্পৃহ। খুব বড় কাজ করেছে বলে মনে করছে না।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.