সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গত বছরের নভেম্বর মাসে নোট বাতিলের জেরে ধাক্কা খেল দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার। চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ ত্রৈমাসিকে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপির বৃদ্ধি ৬.১ শতাংশে নেমেছে। যার জেরে গোটা ২০১৬-১৭ আর্থিক বর্ষের আর্থিক বৃদ্ধির হার নেমেছে ৭.১ শতাংশে। যা গত তিন বছরে সর্বনিম্ন। গত দুই আর্থিক বর্ষে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ৭.৫ ও ৮ শতাংশ। সেন্ট্রাল স্ট্যাটিস্টিক্স অফিস (সিএসও)-এর প্রকাশিত রিপোর্টের ভিত্তিতেই এবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের ফেসবুক পেজে কেন্দ্রকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন মমতা। তিনি লেখেন, নরেন্দ্র মোদি সরকারের নোট বাতিলের সিদ্ধানেতর জেরেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের অর্থনীতি। আগেই তিনি সেই আশঙ্কা করেছিলেন এবং তাই সত্যি হল। ‘নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় থেকেই আমি বলে আসছি, যে দেশে এর ফলে প্রচুর মানুষ কাজ হারাবে এবং উৎপাদন শিল্প ব্যাপকভাবে ধাক্কা খাবে। আমার আশঙ্কাই সত্যি হল।’
[এবার অ্যাকাউন্ট নম্বর না পাল্টেই বদলে ফেলুন ব্যাঙ্ক]
তিনি আরও লিখেছেন, ‘গত আর্থিক বর্ষের চেয়ে এই আর্থিক বর্ষে ২ শতাংশ কমেছে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার। এর জেরে দেশ জুড়ে বহু মানুষ কর্মহারা হয়েছেন। কৃষিক্ষেত্র ও অসংগঠিত ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা দিয়েছে নোট বাতিল।’ যাঁরা দেশকে এই বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিলেন এবার তাঁদের কি বলার আছে? প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। প্রসঙ্গত, মোদি সরকারের তিন বছর পূর্তির সময়ই এই রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ায় কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে কেন্দ্র। পরিসংখ্যান বলছে, গত অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে উৎপাদন শিল্পের বৃদ্ধির হার আগের অর্থবর্ষের তুলনায় ১২.৭ শতাংশ থেকে নেমে দাঁড়ায় ৫.৩ শতাংশ। শুধু আশার আলো দেখিয়েছে কৃষিক্ষেত্র। আগের অর্থবর্ষের তুলনায় গত অর্থবর্ষে কৃষিক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ছিল ০.৭ শতাংশ ও ৪.৯ শতাংশ।
[৫ পাক সেনাকে নিকেশ করল ভারতীয় সেনার স্পেশ্যাল ফোর্স]
পরিসংখ্যানবিদদের মতে, এই আর্থিক ধাক্কার নেপথ্যে রয়েছে মোদী সরকারের নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত। কারণ, গত বছরের নভেম্বর মাসে পুরনো ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপরের তিন মাসের এই হিসেবই বলে দিচ্ছে, সরকারের সিদ্ধান্তের কী প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতে। বর্তমান পরিসংখ্যানের নিরিখে বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলা অর্থনীতি হল চিনের। জানুয়ারি-মার্চ ত্রৈমাসিকে চিনের জিডিপির হার হল ৬.৯ শতাংশ। সেখানে ভারতের ৬.১। সেক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি হওয়া অর্থনীতির তকমা হারাল ভারত।
সর্বশেষ খবর
-
‘স্কুলেই ফিনান্সিয়াল লিটারেসি পড়ানো উচিত’, কলকাতায় বেঙ্গল রাইজিং বিসনেস সামিটে বললেন সুকান্ত মজুমদার
-
আশঙ্কাই সত্যি! বারুইপুরে গণপিটুনিতে উসকানির অভিযোগে গ্রেপ্তার বামনেতা লাহেক আলি
-
মাকে পৃথিবী থেকে সরালেই ঘরে ফিরবে বউ, শাশুড়ির শর্ত মেনে জন্মদাত্রীকে খুনের চেষ্টা ছেলের!
-
কোভিড আক্রান্ত কুমার শানুপুত্র জান! ফের ফিরছে আতঙ্কের দিন?
-
‘না পোষালে চাকরি ছেড়ে দিন’, প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে চিকিৎসকদের কড়া ‘ওষুধ’ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর