BREAKING NEWS

২৭ আষাঢ়  ১৪২৭  রবিবার ১২ জুলাই ২০২০ 

Advertisement

এনআরসির দিকে আরও এক ধাপ, এবার জাতীয় পরিচয়পত্র আনছে কেন্দ্র

Published by: Subhamay Mandal |    Posted: February 5, 2020 9:31 am|    Updated: February 5, 2020 9:31 am

An Images

ফাইল ফটো

নন্দিতা রায়, নয়াদিল্লি: গোটা দেশে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি তথা এনআরসি চালু করার লক্ষ্যে আরও এক কদম এগোল কেন্দ্র। মঙ্গলবার লোকসভায় নাগরিকত্ব (রেজিস্ট্রেশন অফ সিটিজেনস অ‌্যান্ড ইস্যু অফ ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড) সংশোধনী রুলস, ২০১৯ পেশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড (এনআইসি) অবশ্য নতুন কোনও বিষয় নয়। ২০০৩ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের ১৪এ ধারাতে এই ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্রের কথা বলা হয়েছিল। সরকার যে প্রত্যেক নাগরিককে আবশ্যিকভাবে নথিভুক্ত করতে পারে এবং তাদের জন্য এনআইসি জারি করতে পারে, সে কথাও উল্লেখ করা রয়েছে। যা থেকে স্পষ্ট যে, এনআইসি এবং এনআরসি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই এদিন সরকারের তরফে এনআইসি-র রুল লোকসভায় পেশ করে এনআরসি-র দিকেই কেন্দ্র এক পা এগিয়ে গেল বলেই মত বিশেষজ্ঞমহলের। জাতীয় পরিচয়পত্র বিজেপির দীর্ঘদিনের অ্যাজেন্ডা।

কেন্দ্রে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর আমলেই এনআইসি তৈরির কথা হয়েছিল। কারগিল যুদ্ধের পর ২০০১ সালে বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিগোষ্ঠী যখন দেশে এনআরসি তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিল, তখনই তাতে বলা হয়েছিল, সমস্ত ভারতীয় নাগরিককে একটি বহুমুখী জাতীয় পরিচয়পত্র (এমপিএনআইসি) প্রদান করা উচিত এবং অ-নাগরিকদের আলাদা বর্ণ ও নকশার পরিচয়পত্র দেওয়া দরকার। ২০০৩ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবানি নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করেন। সেই সময়েই এনপিআর, এমপিএনআইসি-র তথ্য যে এনআরসি-র কাজে ব্যবহার করা যাবে, তার ব্যবস্থাও করেছিলেন।

পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে এমপিএনআইসি-র কাজ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের বেশ কয়েকটি ব্লকেও করা হয়েছিল। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে মুর্শিদাবাদ জেলার জিয়াগঞ্জ ব্লকও ছিল। এমপিএনআইসি পাওয়ার জন্য জিয়াগঞ্জের বাসিন্দাদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হয়েছিল। কিন্তু পাইলট প্রজেক্ট চলার পর তা নিয়ে কাজ আর এগোয়নি। ২০০৪ সালে ইউপিএ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরম এমপিএনআইসি প্রজেক্ট বাতিল করে দেন এবং তার পরিবর্তে আসে আধার। ২০১৯ সালে শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি ফের এনআইসি তৈরির প্রস্তাব দেন। যা পূর্বতন এনডিএ সরকারের এনআরসির উদ্যোগকেই নতুন করে চালু করার চেষ্টা বলেই মত বিশেষজ্ঞমহলের।

একদিকে সরকার এনআরসি-র লক্ষ্যে এক পা এক পা করে এগোচ্ছে। অথচ প্রকাশ্যে এখনই সরকার এনআরসি নিয়ে কিছু ভাবছে না বলেই সরকারিভাবে জানানো হচ্ছে। মঙ্গলবারই সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই এনআরসি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, “এখনও পর্যন্ত সরকার জাতীয় স্তরে ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অফ ইন্ডিয়ান সিটিজেনস (এনআরআইসি) তৈরি করবে বলে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।” আপাতদৃষ্টিতে সরকারের বক্তব্য দেখে অনেকেই মনে করতে পারেন যে, তাহলে দেশে এনআরসি হচ্ছে না। চাপের মুখে সরকার হয়তো পিছু হটল। কিন্তু তেমনটা ভাবার কোনও অবকাশ নেই বলেই মত বিশেষজ্ঞমহলের। রাই বলেছেন, এনআরসি নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। সরকার যে এনআরসি করবে না, এমন কথা কিন্তু কোথাও বলা হয়নি। সরকারের তরফে এদিন সুকৌশলে আপাতত এনআরসি হচ্ছে না, এই বার্তাই মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

নাগরিকত্ব সংশোধন আইন বা সিএএ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশজুড়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলছে এবং তার আঁচে সংসদের অধিবেশনও তপ্ত হয়ে উঠছে। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই শাসক শিবির এখনই এনআরসি নিয়ে দেশে কোনও ঝামেলা তৈরি হোক, তা চাইছে না। তাই আপাতত বিষয়টি হচ্ছে না বলেই মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাইছে তারা। তবে এই সবকিছুই শাসক শিবিরের রাজনৈতিক ‘ক্যামোফ্লেজ’ বলেই মন্তব্য করেছেন বিরোধীরা।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement