Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬

রোহিঙ্গাদের মতোই নিয়তি! কী পরিণতি হবে নাগরিকত্ব হারানো ৪০ লক্ষ ‘অসমবাসী’র?

কোনও দেশই দায় নেবে না, কী অপেক্ষা করছে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভাগ্যে?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৩০, ২০১৮, ১৩:৩৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৩০, ২০১৮, ১৩:৩৭

options
link
রোহিঙ্গাদের মতোই নিয়তি! কী পরিণতি হবে নাগরিকত্ব হারানো ৪০ লক্ষ ‘অসমবাসী’র? zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন৷ জানিয়েছেন নাগরিকত্ব হারানো লক্ষ লক্ষ ‘অসমবাসী’দের বিরুদ্ধে এখনই কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে না৷ কিন্তু তাতেও ভয় কাটছে না সাধারণ মানুষের৷ প্রশ্ন উঠছে, এই লক্ষ লক্ষ অসমবাসীর ভবিষ্যৎ কী হবে? রোহিঙ্গাদের মতোই ঘরছাড়া, রাজ্যছাড়া মানুষ হয়ে কি তাঁরা থেকে যাবেন?

এ প্রশ্নের অবশ্য উত্তর নেই৷ ১৯৫১ সালের পর এই প্রথম জাতীয় নাগরিকপঞ্জি আপডেট করা হল৷ তাতে বাদ পড়ছে ৪০ লক্ষ মানুষের নাম৷ এঁদের মধ্যে বেশিরভাগই বাংলাভাষী মুসলমান৷ কেউ কেউ আছেন যাঁরা বাংলাদেশ থেকে এসেছেন৷ বালাদেশ অনুপ্রবেশ অসমের ক্ষেত্রে বড় একটা সমস্যা৷ দীর্ঘদিন ধরে তা নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন অসমের ভূমিপুত্ররা৷ আন্দোলন হয়েছে, রক্তপাতও হয়েছে৷ এনআরসি আপডেটের সময় তাই ঠিক করা হয়েছে ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পর যাঁরা এসেছেন তাঁদের নাগরিকত্বের বৈধ প্রমাণ দিতে হবে৷ সেই নিরিখেই বাদ গিয়েছে প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের নাম৷ তবে এটাই চূড়ান্ত তালিকা নয়৷ খসড়া মাত্র৷ এরপর ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হতে পারেন মানুষ৷ সেখানে পরিচয়পত্র দেখাতে পারলে তালিকায় নাম উঠতে পারে৷ কিন্তু তারপরও বেশ কিছু মানুষের যে নাম থাকবে না তা স্পষ্ট৷ এবং সেই সংখ্যাটিও লক্ষাধিক হবে৷ সেক্ষেত্রে তাঁদের কী পরিণতি হবে?

Advertisement

নাম নেই নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত খসড়ায়, অসমে রাতারাতি উদ্বাস্তু ৪০ লক্ষ মানুষ ]

কোনও কোনও মহলের ধারণা, এই লক্ষ লক্ষ মানুষের পরিণতি অনেকটা রোহিঙ্গাদের মতোই হবে৷ দীর্ঘদিন এঁরা ভারতে বসবাস করছেন৷ কোনও কোনও ক্ষেত্রে কয়েক পুরুষ ধরেও বসবাস চলছে৷ রাতারাতি উদ্বাস্তু হয়ে যাওয়ার ফলে তাঁদের আর কোনও ঘর থাকছে না৷ এখন যাঁরা বাংলাদেশ থেকে এসেছেন তাঁদের সে দেশে ফেরানোর প্রস্তাব দিতে পারে ভারত সরকার৷ কিন্তু খুব প্রত্যাশিতভাবেই বাংলাদেশ তা মানবে না৷ কারণ এমনিতেই রোহিঙ্গা সমস্যায় সে দেশ জর্জর৷ তার উপর এই লক্ষ লক্ষ মানুষের চাপ নিতে রাজি হবে না হাসিনা সরকার৷ ফলে এই মানুষগুলির দায় নেবে না কোনও দেশেই৷ এঁরা কোনও জায়গারই নাগরিক হবেন না৷ কারণ কেড়ে নেওয়া হবে ভোটাধিকার৷ ফলে কয়েক লক্ষ মানুষের পরিণতি রোহিঙ্গাদের মতোই হয়ে উঠবে৷

উদ্বাস্তু শিবির করে যদি কয়েক লক্ষ মানুষকে রাখা হয়, তবে সরকারকে বিপুল খরচ বহন করতে হবে৷ দেশের বৈধ নাগরিকত্ব না দিয়েও তাদের বোঝা বয়ে বেড়াতে হবে সরকারকেই৷ তার উপর এই ঘটনার ফলে যে জাতিহিংসার প্রবণতা শুরু হবে তা ভারতের কাছে নতুন মাথাব্যথার কারণ হবে৷

অসমে কারও বিরুদ্ধে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নয়, আশ্বাস রাজনাথের ]

এই লক্ষ লক্ষ মানুষদের সম্পত্তি আছে অসমে৷ এখন তাঁরা বৈধ নাগরিক না হলে, এই সম্পত্তির মালিকানা কার হাতে যাবে সেটাও একটি প্রশ্ন৷ সরকার তা অধিগ্রহণ করতে পারে৷ তবে তারও আগে প্রতিবেশীদের হিংসায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল৷ সেক্ষেত্রে ব্যাপক খুনোখুনি ও অশান্ত পরিস্থিতির তৈরি হতে পারে৷ যদি অসম ছেড়ে এই বাঙালিরা বাংলার দিকে চলে আসতে চান, তবে চাপ পড়বে প্রতিবেশী রাজ্যের উপরেও৷ রাজ্যের সীমান্তে পালটা অনুপ্রবেশ সমস্যা বেড়ে যাবে৷

সব মিলিয়ে ৪০ লক্ষ মানুষের নাগরিকত্ব হারানো শুধু তাঁদেরই ছিন্নমূল করে তুলল না৷ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যকেও এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিল৷      

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.