সংবাদ প্রতিদিবেদন ডিজিটাল ডেস্ক: যুক্তি। পাল্টা যুক্তি। তর্ক-বিতর্ক। শীতকালীন অধিবেশন শুরুতে বুধবার সকাল থেকে সংসদের দুই কক্ষের ছবিটা এরকমই। বিষয় নোট বদল। শীতকালীন অধিবেশনের শুরুতে সংসদ যে সরগরম হবে তা প্রত্যাশিতই ছিল। এদিন হলও তাই।
গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর রাতারাতি ঘোষণায়, বাজার থেকে বাতিল হয়েছে পুরনো ৫০০, ১০০০-এর নোট। আর তা যে বিরোধী দলগুলির কেউই ভালো চোখে নেয় নি তা জানাই ছিল। অপেক্ষা ছিল, সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার। বুধবার, তাই সংসদ অধিবেশন শুরু হতেই নোট বদল নিয়ে সরকারকে আক্রমণের পথে হাঁটেন বিরোধীরা। তার উপর গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়ায় লোকসভার অধিবেশনে মোদির দেরিতে পৌঁছনো। যার কারণে শুরুতেই লোকসভা অধিবেশন স্থগিত হয়ে যায়। এদিন সংসদ অধিবেশন শুরুতে সর্বদল বৈঠকেও ১৫ মিনিট দেরিতে পৌঁছন মোদি। সুযোগ বুঝে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা তথা প্রাক্তন ইউপিএ সরকারের মন্ত্রী গুলাম নবি আজাদের কটাক্ষ, বিরোধীদের বক্তব্য শোনার প্রয়োজনই বোধ করছেন না প্রধানমন্ত্রী। আচমকা নোট বদলের সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে অরাজকতা তৈরি করেছে বলে আক্রমণ শানায় কংগ্রেস। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপে আদৌ কতটা কালো টাকার কারবারিদেরে আটকানো যাবে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠে যায়।
এরপরই সমাজবাদী পার্টির নেতা রামগোপাল যাদব আক্রমণ করে বলেন, নোট বদল সাধারণ মানুষকে পথে বসিয়েছে। নিজের টাকা তোলার জন্যই মানুষকে আজ ব্যাঙ্কের সামনে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে যা কাঙ্খিত নয় বলেই দাবি করেন রামগোপাল যাদব। এক্ষেত্রে শহরের মানুষের থেকেও বেশি সমস্যায় গ্রামের সাধারণ মানুষ। নোট বাতিল নিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণের পথে হাঁটেন সিপিএমের সাধারণে সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিও। যদিও নোট বাতিল নিয়ে বিরোধীদেরে সমস্ত অভিযোগই উড়িয়ে দেয় বিজেপি। নোট বদলের সিদ্ধান্তকে বিজেপির তরফে ঐতিহাসিক ও জনস্বার্থে নেওয়া পদক্ষেপ বলেই দাবি করা হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযুষ গোয়েল জানান, কালো টাকার কারবারিদের আটকানো গেলে কেন্দ্রের কর সংগ্রহ বাড়বে এবং তা জনস্বার্থেই কাজে লাগানো হবে। এই পদক্ষেপ কোনও রাজনৈতিক স্বার্থে করা হয়নি। এই পদক্ষেপের ফলে অসাধু ব্যক্তিরাও কালো টাকা রাখার আগে এবার থেকে দু’বার ভাববে বলে দাবি করেন পীযুষ গোয়েল। সরকার বিরোধীদের কথা শুনতে রাজি নয় এদিন এই অভিযোগও খণ্ডন করেন তিনি। জানান, সরকার নোট বাতিল ইস্যুতে বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগেরে জবাব দিতে তৈরি। দূর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এটা নরেন্দ্র মোদির অন্যতম সাহসী পদক্ষেপ বলেও দাবি করেন গোয়েল। যদিও এদিন সরকার পক্ষের কোনও যুক্তিই মানতে নারাজ ছিল বিরোধীরা। বিরোধীদের হই-হট্টগোলের জেরে আগামীকাল পর্যন্ত লোকসভা ও এদিন দুপুর ২টো পর্যন্ত রাজ্যসভার অধিবেশন স্থগিত হয়ে যায়।
সর্বশেষ খবর
-
বদলে যাবে সোদপুর ও খড়দহ স্টেশনের নাম! রেলমন্ত্রকে প্রস্তাব মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তীর
-
অধিনায়কত্ব খোয়াচ্ছেন সূর্যকুমার, ভারতের নতুন টি-২০ অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার!
-
এই ৬ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে স্থগিত ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা! বড় সিদ্ধান্ত দেশের বৃহত্তম উড়ান সংস্থার
-
প্রয়াত ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা নারায়ণ বসু
-
শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বরূপ বিশ্বাস, ডিম হাতে থানা ঘেরাও ক্রুদ্ধ জনতার