সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কথায় বলে পুলিশে ছুঁলে ১৮ ঘা! একথা যে ভারতীয়রা অক্ষরে অক্ষরে বিশ্বাস করেন, সে কথাই আরও একবার উঠে এল এক সমীক্ষায়। একটি অলাভজনক সংস্থার সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, কোনও বিবাদের মীমাংসার জন্য পুলিশ বা আদালতের দ্বারস্থ হতে নারাজ ভারতীয়রা। তার বদলে আদালতের বাইরেই বিবাদ মিটিয়ে নিতে আগ্রহী অধিকাংশ দেশবাসী।
[একাধিক ভাষায় সাবলীল, ‘ভারতের লাদেন’-এর দক্ষতায় তাজ্জব পুলিশও]
একটু পরিসংখ্যানের দিকে তাকানো যাক। দেশের ২৮টি রাজ্যের প্রায় ৪৫ হাজার মানুষের উপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা যাচ্ছে, বিপদে পড়লে মাত্র ৯% মানুষই পুলিশের কাছে যান বা এফআইআর করার কথা ভাবেন। তাঁদের মধ্যে আবার ৪৪% শেষ পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ নথিভুক্ত করেন। আদালতে যেতেও তীব্র অনীহা ভারতীয়দের। মূলত তিনটি কারণে আদালত-মুখো হতে চান না এ দেশের মানুষ। প্রথমত, মামলা-মোকদ্দমার জন্য প্রচুর খরচের ভয়। দ্বিতীয়ত, তাঁরা আইনি প্রক্রিয়া বা আইনকানুন সম্পর্কে খুব একটা ওয়াকিবহাল নন ও তৃতীয়ত, আইনি কাজকর্মের দীর্ঘসূত্রিতা তাঁদের কাম্য নয়।
সমীক্ষা আরও জানাচ্ছে, গরিব মানুষের কাছে পুলিশ বা আদালত যেন আতঙ্কেরই আর এক নাম। যাঁদের বার্ষিক আয় অন্তত ৫ লক্ষ টাকা, তাঁরাই আদালতে যাওয়ার কথা ভাবেন। গরিব ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষ আইনি পথ মাড়াতেই ভয় পান। এ দেশে মামলাকারীদের দৈনিক গড় খরচ হয় ১০৯৭ টাকা করে। প্রতি বছর শুধুমাত্র আইন-আদালতের পিছনেই ভারতীয়দের ৩০০ বিলিয়ন টাকা খরচ হয়। সমীক্ষার ফলাফলে উদ্বেগজনক এক প্রবণতার কথাও উঠে এসেছে। আদালতের বাইরে মীমাংসা মিটিয়ে নিতে উদ্যোগী হন অনেকে। বিশেষত, বকেয়া ঋণ আদায়, পারিবারিক বিবাদ সংক্রান্ত সমস্যা আম ভারতীয়রা আদালতের বাইরেই মিটিয়ে নিতে বেশি আগ্রহী। ১০০ জনের মধ্যে ৭৪ জন মানুষ আদালতের চৌকাঠ না মাড়িয়েই বিবাদ মিটিয়ে নিতে চান। গ্রামের দিকে খাপ পঞ্চায়েতগুলির রমরমা এভাবেই বাড়ছে। এই পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
[শিকেয় নিরাপত্তা, হাওড়া-শিয়ালদহ স্টেশনের সব স্ক্যানারের ঠাঁই গোডাউনে]
সর্বশেষ খবর
-
অবশেষে গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা, সোনারপুর থেকে এনআইয়ের জালে
-
সমাজকে আদর্শের আয়না দেখায় ‘গোর্কির মা’, কেমন হল? পড়ুন রিভিউ
-
‘কলাকুশলীরা বেশি ভুগেছেন…’, স্বরূপের গ্রেপ্তারিতে কী বলছেন ‘বাজিগর’ অনির্বাণ?
-
তামিলনাড়ুতে বিজেপিতে মহাভাঙন! আন্নামলাই, নাগার্জুনের পর দল ছাড়লেন সুমতি
-
অস্তাচলে তৃণমূলের সূর্য! ২৮ বছর পর ‘ছুটি’ পেলেন মমতার ‘বক্সীদা’