BREAKING NEWS

০৯ জ্যৈষ্ঠ  ১৪২৯  বুধবার ২৫ মে ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

Advertisement

জানেন, কেন ধর্ষণে অভিযুক্তকে বিয়ে করতে রাজি হলেন নির্যাতিতা?

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 31, 2017 5:37 am|    Updated: July 31, 2017 6:54 am

Poverty stricken rape survivor marries tormentor

ছবি: প্রতীকী

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক:  আরব দুনিয়ায় নির্যাতিতাকে বিয়ে করে ধর্ষণের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার আইনি সংস্থান আছে। কিন্তু, এদেশে সেরকম কোনও নিয়ম তো নেই-ই, এমনকী কোনও ধর্ষিতা মহিলা অভিযুক্তকে বিয়ে করছেন, এমনটাও খুব একটা শোনা যায় না। কিন্তু এবার সেরকমই এক ঘটনার সাক্ষী থাকল উত্তরপ্রদেশ। বরেলিতে অভিযুক্তকেই বিয়ে করতে রাজি হয়েছেন এক ধর্ষিতা যুবতী। যদিও পরিবারের দাবি, নির্যাতিতা আসলে নাবালিকা। কারণ, আর কিছুই নয়, দারিদ্র্য।

[OMG! ষষ্ঠবার বিয়ে করতে গিয়ে কী হল এই ব্যক্তির?]

সম্প্রতি, বরেলির বাসিন্দা ওই যুবতীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে আসিফ নামে স্থানীয় এক যুবকের বিরুদ্ধে। ধর্ষণের কারণে গর্ভবতী হন ওই যুবতী। এক সন্তানের জন্ম দেন তিনি। কিন্তু, ওই যুবতী এবং তাঁর সন্তানের খরচ চালাতে গিয়ে প্রায় ২০ হাজার টাকা ঋণ নিতে হয় ওই নির্যাতিতার বাবাকে। কিন্তু, এখন সেই ঋণ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। তার উপর মেয়ে ও তাঁর সন্তানকে বাড়িতে থাকতে দেওয়ায়, পরিবারকে বয়কট করেছেন যুবতীর দুই দাদাও। এই পরিস্থিতিতে নিজের সন্তানকে বড় করার জন্য প্রশাসনের কাছে আর্থিক সাহায্য চেয়েছিলেন ওই যুবতী। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ। নির্যাতিতা জানান, ‘ আমার সন্তানকে বড় করার জন্য প্রশাসনের কাছে আর্থিক সাহায্য চেয়েছিলাম। কিন্তু, এখন পর্যন্ত কোনও সাহায্য পাইনি। সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে বাজারে প্রচুর দেনা হয়ে গিয়েছে। তাই  আসিফকে বিয়ে করার প্রস্তাবে  রাজি হয়েছি। আসিফের পরিবার আর্থিকভাবে স্বচ্ছল। সেখানে আমার সন্তান ভালই থাকবে।’

[ছোট প্যান্ট পরতে পারবে না ছেলেরা, নিদান খাপ পঞ্চায়েতের]

ঘটনার পর অবশ্য আসিফের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করে আক্রান্তর পরিবার। আদালতে মামলাও শুরু হয়। কিন্তু, এরই মধ্যে পরিস্থিতির চাপে অভিযুক্তকেই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন ধর্ষিতা। এই মামলার অভিযোগকারিনীর আইনজীবী ভিপি দয়ানি বলেন, ‘ওই যুবতীর পুনর্বাসন বা তাঁকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যাপারে কোনও উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসন। তাই আর মামলা চালিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না ওই নির্যাতিতার পরিবার। ইতিমধ্যেই বিয়ের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সার্টিফিকেট পাওয়ার পর, স্থানীয় আদালতে গিয়ে মামলা প্রত্যাহার করে নেবে তাঁরা।’ তবে অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে অবশ্য একটি লিখিত চুক্তি করে নিয়েছেন ওই যুবতীর বাবা। চুক্তিতে বলা হয়েছে, বিয়ের পর যদি অভিযুক্ত আসিফ যদি তাঁর মেয়েকে ছেড়ে চলে যায় বা তাঁর উপর অত্যাচার চালায়, তাহলে ফের আসিফের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হবে। ওই যুবতীর বাবা বলেন, ‘প্রথমে আমরা আসিফের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিতে রাজি ছিলাম না। কিন্তু পরে  রাজি হয়ে যাই। আসিফের পরিবার আমাদের সব শর্তই মেনে নিয়েছে। গ্রামের লোকও লিখিতভাবে জানিয়েছে, পরে যদি আসিফ বা তার পরিবার মেয়ের উপর কোনও অত্যাচার করে, তাহলে আদালতে মামলা করা হবে।’

[রাখিবন্ধনেও ছোঁয়া স্বচ্ছ ভারতের, বোনদের জন্য ভাইদের উপহার শৌচালয়]

জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা যুবতীর পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর থেকেই বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল অভিযুক্তের পরিবার। শেষ পর্যন্ত ওই যুবতী বিয়েতে মত দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি তাঁরা। অভিযুক্ত আসিফের বাবা বলেন, আগেই যদি বিয়েতে প্রস্তাবে রাজি হত নির্যাতিতার পরিবার, তাহলে দুই পরিবারেরই টাকা ও সময় বাঁচত।

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে