সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: একেই বলে, ‘শাপে বর’। নাহলে টিকিট না কেটে ট্রেনে চড়ার অপরাধের জন্যই কিনা ভাঁড়ার ভরছে রেলের! সম্প্রতি এমনই একটি তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। জানা গিয়েছে, রেলে গত তিন বছরে যা আয় করেছে, তার মধ্যে ১৩০০ কোটি টাকারও বেশি এসেছে জরিমানার দৌলতে।
টিকিট না কাটার ফলে জরিমানার ঘটনা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আকছার ঘটছে। কেউ কেউ ভাবে ‘এই তো ক’টা স্টেশন, টিকিট না কেটেই চলে যাব।’ কিন্তু এর ফলে বেশিরভাগ মানুষই টিকিট পরীক্ষকের খপ্পরে পড়েন। আর তার ফলে দিতে হয় জরিমানা। এছাড়া বিনা টিকিটে দূরপাল্লার ট্রেনে চড়লে তো আরও মুশকিল। জরিমানার টাকার অঙ্ক সেখানে অনেক বেশি। বছরের পর বছর এই জরিমানার ফলেই ভরে উঠেছে রেলের সিন্দুক।
[ আরও পড়ুন: নির্বাচনের মুখে ফাঁপরে শরদ পাওয়ার, আর্থিক দুর্নীতিতে নাম জড়াল এনসিপি সুপ্রিমোর ]
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত তিন বছরে বিনা টিকিটের যাত্রীদের থেকে জরিমানা বাবদ রেল মন্ত্রক ১৩৭৭ কোটি টাকা আয় করেছে। প্রথম বছরের তুলনায় তৃতীয় বছরে এই জরিমানার সংখ্যা বেড়েছে বই কমেনি। সূত্রের খবর, এই বর্ধিতাংশের হার প্রায় ৩১ শতাংশ। অবশ্য এর পিছনে আরও একটি কারণ রয়েছে। রেল সূত্রে খবর, ২০১৬-১৭ সালে দেখা যায়, জরিমানার টাকা যে দপ্তরের যে আয় হত, তা হঠাৎ করে কমে গিয়েছে। রেলের অন্দরেই শুরু হয় কারণ অনুসন্ধান। জরিমানার এই টাকা রেল অনেক কাজে ব্যবহার করে। তাই জরিমানা আদায়ে কড়াকড়ি শুরু করে রেল।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬-১৭ সালে জরিমানা বাবদ ৪০৫.৩০ কোটি টাকা আয় করে রেল। পরের বছর আয় হয় ৪৪১.৬২ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ সালে জরিমানা বাবদ রেলের ঘরে ঢোকে ৫৩০.০৬ কোটি টাকা। জরিমানার ক্ষেত্রে এখন সর্বনিম্ন ২৫০ টাকা যাত্রীদের থেকে আদায় করা হয়। যদি কেউ সেই জরিমানা দিতে অস্বীকার করে, তাহলে ১৩৭ ধারায় তাকে গ্রেপ্তার করে রেল পুলিশ। তারপর ধৃতকে নিয়ে যাওয়া হয় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে। তিনি ধৃতকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারেন। এই নিয়ম এখন কড়া করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে নজরদারিও। আর এতেই লাভের মুখ দেখেছে রেল।