৩ মাঘ  ১৪২৮  সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

মাসপয়লায় নগদ জোগানে টাস্ক ফোর্স গঠন করল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: November 26, 2016 11:44 am|    Updated: November 26, 2016 11:44 am

RBI crack team to monitor payday rush

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মাসপয়লায় চাকরিজীবীদের বেতনে নোট বদলের কোনও প্রভাবই যাতে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে টাস্ক ফোর্স গঠন করল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া৷ কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডেপুটি গভর্নর এসএস মুন্দ্রার নেতৃত্বের এই টাস্ক ফোর্স ২৭ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বর বেতন প্রদানের সময়ে ব্যাঙ্কগুলিতে নগদ জোগানের উপর নজর রাখবেন৷ গত কয়েকমাসে এই সময়ে কোথায় কতটা নগদের চাহিদা ছিল, সেই হিসাব খতিয়ে দেখছে টাস্ক ফোর্স৷ সেই চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই এই মাসেও নগদ জোগানের ব্যবস্থা হবে৷

এদিকে, ৩০ ডিসেম্বরের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বাতিল নোটে জমা হওয়া ‘ব্যাখ্যাহীন’ টাকার উপর সর্বাধিক কর-জরিমানা ধার্য করতে কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট আইন আরও কঠোর করছে বলে খবর৷ সংসদের চলতি অধিবেশনেই এই সংক্রান্ত বিল আনা হতে পারে৷ নতুন বিলের খসড়ায় ব্যাখ্যাহীন টাকার উপর ৫০ শতাংশ কর ধার্য করার প্রস্তাব থাকতে পারে৷ বাকি টাকার ৫০ শতাংশ বা মোট জমার ২৫ শতাংশ টাকার উপর চার বছরের লক-ইন পিরিয়ড (অর্থাত্‍ অ্যাকাউন্ট থেকে তোলা যাবে না) রাখার প্রস্তাব থাকার সম্ভাবনা৷ অন্যদিকে, যদি দেখা যায় স্বেচ্ছা আয় ঘোষণা প্রকল্পে প্রকাশ করা হয়নি এমন টাকা এই সময় ব্যাঙ্কে জমা হয়েছে, তবে সেক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কর ও জরিমানার প্রস্তাব নতুন বিলের খসড়ায় থাকতে পারে বলে সূত্রের খবর৷ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে একটি নতুন কর আইন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷ যদিও বৃহস্পতিবার একটি সূত্র দাবি করেছিল, নতুন বিলের খসড়ায় ব্যাখ্যাহীন জমা টাকায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কর ধার্য করার প্রস্তাব করতে পারে কেন্দ্র৷

সূত্রের খবর, বেতনের সময় সম্ভাব্য নগদ-সংকট মোকাবিলায় কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবারই দিল্লিতে টাস্ক ফোর্সের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুন্দ্রা৷ সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে সাধারণত মাসের ২৭ তারিখ থেকে পরের মাসের ৭ তারিখ পর্যন্ত কর্মচারীদের বেতন প্রদান করা হয়৷ এছাড়াও এটি পেনশন তোলারও সময়৷ বেশিরভাগ পেনশনভোগীই একসঙ্গে পুরো টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নিতে চান৷ অনেক অবসরপ্রাপ্ত ডাকঘরে মাসিক প্রকল্পে জমা টাকার সুদ তোলেন এই সময়েই৷ সে কারণেই, শীর্ষ ব্যাঙ্কের আশঙ্কা, এই সময়ে দুই সপ্তাহ টাকা তুলতে ব্যাঙ্কের শাখা ও এটিএম কিংবা ডাকঘরে গ্রাহকদের প্রবল ভিড় হবে৷ বিপুল নগদের চাহিদাও থাকবে৷
বিরোধীরাও ইতিমধ্যেই বেতনের সময় সাধারণ মানুষের নগদ-সংকট বাড়বে বলে দাবি করেছে৷ জনতার একটি বড় অংশ, যাঁরা নগদ লেনদেন ছাড়া অন্য কোনও পদ্ধতিতে লেনদেনে ধাতস্থ নন, তাঁরাও ওই দিনগুলির জন্য চিন্তায় রয়েছেন৷

আরবিআইয়ের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কোনও মাসের ১৫ তারিখে নগদ টাকার যে চাহিদা থাকে ২৭ বা ২৮ তারিখে সেই চাহিদা ৬০-৭০ শতাংশ বেড়ে যায়৷ ২৯ থেকে পরের মাসের ৫ তারিখ সেই চাহিদাই দ্বিগুণ হয়ে যায়৷ জানা গিয়েছে, এটিএমে গ্রাহকের লাইন ছোট করতে বিভিন্ন ব্যবস্থার সঙ্গে মেশিন রিক্যালিব্রেশন নিয়েও আলোচনা হয়েছে এই বৈঠকে৷ টাস্ক ফোর্সে অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিকরা ছাড়াও আরবিআই, বিভিন্ন ব্যাঙ্ক, ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন, ক্যাশ লজিস্টিক সংস্থা, এটিএম প্রস্তুতকারী সংস্থা এবং এটিএম পরিচালনকারী সংস্থার আধিকারিক-প্রতিনিধিরা রয়েছেন৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে