উৎসবের মরশুমে বিমানভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে এবার উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত প্রশ্ন তুলল, দেশে কুম্ভমেলা-সহ বিভিন্ন উৎসব এলেই কেন যাত্রীদের থেকে মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া চায় বিমান সংস্থাগুলি? বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ জানিয়ে দিল, তারা এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে।
ঘটনাচক্রে, গত বছর দেশে ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবায় বিভ্রাটের জেরে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, সেই সময় কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রামমোহন নায়ডু জানিয়েছিলেন, কেন্দ্র চাইলেই বিমানভাড়া বেঁধে দিতে পারে না। কারণ উৎসবের মরশুমে ভাড়া তো বাড়বেই! তবে বিমান পরিষেবায় বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হলে কেন্দ্র ভাড়া বেঁধে দিতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টের এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিমানভাড়ার ওঠানামা এবং যাত্রীদের উপর অতিরিক্ত ভাড়া চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের আর্জি জানিয়ে সম্প্রতি শীর্ষ আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। সোমবার সেই মামলার শুনানিতেই উৎসবের মরশুমে বিমানভাড়া বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা নিয়ে কেন্দ্র এবং অসামরিক বিমান পরিবহণ কর্তৃপক্ষ ডিজিসিএ-র অবস্থান জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রের পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অনিল কৌশিক। তাঁর উদ্দেশে বিচারপতিরা বলেন, “আমরা এ ব্যাপারে অবশ্যই হস্তক্ষেপ করব। দেখুন কুম্ভ এবং অন্যান্য উৎসবের সময় যাত্রীদের কী পরিমাণ দুর্দশা হয়! দিল্লি থেকে প্রয়াগরাজ এবং যোধপুরের ভাড়াটা দেখুন একবার।”
মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি। তার মধ্যেই কেন্দ্র এবং ডিজিসিএ-কে নিজেদের অবস্থান জানাতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।
প্রসঙ্গত, দেশের বিমান ভাড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব নিয়ে লোকসভায় আলোচনা হয়েছিল গত বছর। সেই আলোচনায় কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী জানান, অস্থির পরিস্থিতিতে বিমান ভাড়া বেঁধে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের। কিন্তু সারা বছরের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বিমান ভাড়া বেঁধে দিতে পারে না। সাধারণত, উৎসবের মরশুমে টিকিটের দাম বেড়ে যায়। বিমান পরিবহণ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার নেপথ্যে মূল কারণই ছিল এই ক্ষেত্রে আরও বেশি সংস্থা যাতে যোগ দেয়, লোকসভায় এমনই জানান কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘যদি আমরা অসামরিক বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে প্রকৃত বিকাশ চাই, তবে আমাদের প্রথম এবং প্রধান প্রয়োজন এটিকে নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখা।’’ পাশাপাশি নায়ডু জানিয়েছিলেন, তার অর্থ এই নয় যে বিমান সংস্থাগুলি পুরোপুরি স্বাধীন। প্রয়োজনে হস্তক্ষেপ করার পর্যাপ্ত ক্ষমতা রয়েছে কেন্দ্রের। সেই ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়েই কোনও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সুবিধার্থে বিমান ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করে সরকার।
সর্বশেষ খবর
-
বদলে যাবে সোদপুর ও খড়দহ স্টেশনের নাম! রেলমন্ত্রকে প্রস্তাব মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তীর
-
অধিনায়কত্ব খোয়াচ্ছেন সূর্যকুমার, ভারতের নতুন টি-২০ অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার!
-
এই ৬ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে স্থগিত ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা! বড় সিদ্ধান্ত দেশের বৃহত্তম উড়ান সংস্থার
-
প্রয়াত ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা নারায়ণ বসু
-
শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বরূপ বিশ্বাস, ডিম হাতে থানা ঘেরাও ক্রুদ্ধ জনতার