ওমান উপকূলে মার্কিন সেনার হামলায় মৃত্যু হয়েছে তিন ভারতীয় নাবিকের। কিন্তু এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ক্ষমা চায়নি আমেরিকা। উলটে সুর চরিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তাদের এহেন আচরণের জন্য এবার ওয়াশিংটনকে তোপ দাগলেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। তিনি জানিয়েছেন, ‘বন্ধু’র কোনও অনুতাপ নেই। ‘বন্ধু’ হলে এত নিষ্ঠুর হত না। একজন ‘বন্ধু’ ও কৌশলগত অংশীদার কীভাবে এতটা অসংবেদনশীল হতে পারে?
ওমান উপকূলে বাণিজ্যতরীতে হামলা এবং ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দিকে দিকে চলছে প্রতিবাদ। আমেরিকার সঙ্গে নতুন করে ‘সংঘাতে’ জড়িয়েছে নয়াদিল্লি। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। ঘটনার কড়া নিন্দা করেন তিনি। কিন্তু তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন বিদেশমন্ত্রকের তরফে পালটা একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, রুবিও জয়শংকরকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওই জলপথে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যেই মার্কিন বাহিনী অবরোধ জারি করেছে। সেখান দিয়ে যাতায়াতকারী সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজকে আমেরিকার নির্দেশাবলী মানতে হবে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ওই প্রণালীতে অবরোধ লঙ্ঘন কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
আরও পড়ুন:
আমেরিকার এহেন ‘দাদাগিরি’র পরই ফুঁসে ওঠেন থারুর। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘আমেরিকার এই বিবৃতি হতবাক করে। নিরীহ ভারতীয়দের প্রাণহানির ঘটনায় তারা দুঃখপ্রকাশ করেনি। একজন ‘বন্ধু’ ও কৌশলগত অংশীদার কীভাবে এতটা অসংবেদনশীল হতে পারে?’ কংগ্রেস সাংসদের প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট জাহাজটিকে থামাতে বিকল্প পদ্ধতি কেন ব্যবহার করা হল না? কেন প্রাণঘাতী হামলা চালানো হল? তিনি আরও বলেন, “এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চলাচলকারী প্রায় প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজেই ভারতীয় নাবিকরা রয়েছেন। এবার কি তাঁদের সবাইকে মার্কিন হামলার শিকার হতে হবে?”
Deeply shocking to read this official US statement, which contains absolutely no expression of regret or condolence for the loss of innocent Indian lives. How can a “friend” and strategic partner be so deeply insensitive?
Why couldn’t a non-compliant commercial vessel have been… pic.twitter.com/heUIOGuulG
— Shashi Tharoor (@ShashiTharoor) June 13, 2026
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বলি হচ্ছে ভারতীয়রাও। বুধবার ওমান উপসাগরে পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘এমটি সেট্টেবেল্লো’ নামে একটি বাণিজ্যতরীতে হামলা চালায় মার্কিন সেনা। অভিযোগ, বাণিজ্যতরীটিতে আছড়ে পড়ে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র। সঙ্গে সঙ্গে আগুন লেগে যায়। জাহাজটিতে মোট ২৮ জন নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২৪ জন ভারতীয়। হামলার পরই জাহাজ থেকে আপৎকালীন বার্তা পাঠানো হয়। উদ্ধার করা হয় ২১ জন ভারতীয়কে। বাকি তিন ভারতীয়র মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘খিদে পেয়ে গিয়েছিল’, ফুটপাতের দোকানেই মুড়ি-ঘুগনি, ডিমে প্রাতঃরাশ মন্ত্রী শংকরের
-
‘চাড্ডা নই…’, সায়নীকে তাঁর মন্তব্যই মনে করালেন সাংবাদিক, কী জবাব ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল সাংসদের?
-
‘প্রেমিকের নির্দেশে’ আগুন ধরায় নাবালিকা! দিল্লির অগ্নিকাণ্ডে ৩ জনের মৃত্যুতে ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য
-
ভিখারির দশা! টাকা নেই পাকিস্তানের, এশিয়াডে যেতে গ্যাঁটের কড়ি খসাতে হবে প্লেয়ারদের
-
‘সমকামী’ চর্চায় ছাই দিয়ে ‘বান্ধবী’র সঙ্গে হুল্লোড়, দিশার জন্মদিনে পার্টি মুডে মৌনী