BREAKING NEWS

৭ আশ্বিন  ১৪২৭  শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

৭ বছর পর ঘরে ফিরলেন ‘মৃত’ জওয়ান

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 16, 2016 12:55 pm|    Updated: June 16, 2016 1:59 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কিং খানের সুপারহিট ছবি ‘জব তক হ্যায় জান’-এর কথা মনে আছে? এক ভারতীয় সেনা দূর্ঘটনায় স্মৃতি শক্তি হারিয়েছিলেন৷ আপনজনরা সামনে থাকা সত্ত্বেও চিনতে পারেননি কাউকে৷ কয়েক বছর পর ফের দূর্ঘটনার শিকার হন৷ সেই আঘাতেই স্মৃতি ফেরে তাঁর৷ অতএব হ্যাপি এন্ডিং৷ ছবির বিষয়বস্তু দেখে অনেকেই নাক কুঁচকেছিলেন৷ অনেকে আবার বিষয়টাকে বাড়াবাড়ি তকমা দিতে ছাড়েননি৷ কিন্তু দেরাদুনের ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করে দিল, রূপোলি পর্দায় বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবিই ভেসে ওঠে৷

তিন বছর আগে যে সেনাকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করা হয়েছিল, তিনিই সশরীরে বাড়ি ফিরলেন! এক বর্ণও বানানো কথা নয়৷ প্রতিবেদনটি পড়লেই পুরো ঘটনা স্পষ্ট হয়ে যাবে৷ দেরাদুনের আরমর্ড রেজিমেন্টের জওয়ান ছিলেন আলওয়ারের বাসিন্দা ধরমবীর সিং৷ সাত বছর আগে ২০০৯ সালে একদিন সেনার গাড়ি চালানোর সময় পথে দূর্ঘটনায় পড়েন ধরমবীর ও তাঁর দুই সঙ্গী৷ গাড়িটি ডিভাইডারে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়৷ ঘটনাস্থলে তখন কারও দেহই খুঁজে পাওয়া যায়নি৷ পরে বাকি দুই জওয়ান ফিরলেও ধরমবীর উধাও হয়ে যান৷ বেশ কয়েক বছর ধরে খোঁজ চলে তাঁর৷ কিন্তু সন্ধান মেলেনি৷ অবশেষে তিন বছর আগে সেনাদের তরফে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়৷ সেই সঙ্গে ছেলের ঘরে ফেরার আশা টুকুও শেষ হয়ে যায় তাঁর বাবা-মায়ের৷ এমনকী পরিবারের পেনশন চালু করার জন্য ধরমবীরের ডেথ সার্টিফিকেটও বের করা হয়৷

নিজের স্বামী দুনিয়ায় নেই, একথা অবশ্য মেনে নিতে পারেননি তাঁর স্ত্রী মনোজ দেবী৷ স্বামীর মঙ্গল কামনায় উপবাস করতেন তিনি৷ তারই ফল হাতে নাতে পেলেন৷ বলছিলেন, “মনের ভিতর বিশ্বাস ছিল, ও নিশ্চয়ই একদিন ফিরবে৷” এক রাতে হঠাৎ দরজা খুলে ধরমবীরের বাবা প্রাক্তন সুবেদার কৈশাস যাদব দেখেন, মুখের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর ‘মৃত’ ছেলে! নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারেননি৷ প্রথমে খানিকটা ঘাবড়েই গিয়েছিলেন৷ সাত বছর পর ছেলে বাড়ি ফিরতে পারে, তেমন আশা যে আর অবশিষ্ট ছিল না! বাড়ি ফিরে ৩৯ বছরের ধরমবীর জানান, ২০০৯-এ কী হয়েছিল তাঁর মনে নেই৷ শুধু মনে আছে গত সপ্তাহে হরিদ্বারে ভিক্ষে করে বেড়াচ্ছিলেন৷ তখনই একটা মোটরবাইক ধাক্কা মারে তাঁকে৷ বাইক আরোহীই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান৷ জ্ঞান ফেরা মাত্র বুঝতে পারেন তাঁর স্মৃতি শক্তিও ফিরেছে৷

ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়ে ধরমবীর বলেন, “ওই বাইক আরোহীই আমায় ৫০০ টাকা দিয়েছিলেন৷ সেটা দিয়ে টিকিট কেটে দিল্লি আসি৷ তারপর আলওয়ারে নিজের বাড়িতে৷ গোটা পরিবারকে একসঙ্গে দেখে অদ্ভূত আনন্দ হচ্ছে৷ আমার দুই মেয়ে কত বড় হয়ে গিয়েছে!” আলওয়ারের ছোট্ট পরিবারে এখন খুশির আবহাওয়া৷ ছবির ভাষায় যাকে বলে হ্যাপি এন্ডিং৷

আপাতত জয়পুরে চিকিৎসা চলছে ‘মৃত’ থুড়ি ‘জীবিত’ ধরমবীরের৷ কথায় আছে না, বাস্তব কল্পনার থেকেও বেশি অদ্ভূত!

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement