Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ৮ জুন ২০২৬
Sukhendu Sekhar Roy

‘মমতার ছবিতেও দুর্নীতি’, দলকে বিঁধে রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা সুখেন্দুশেখরের, ছাড়লেন তৃণমূলও

সোমবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেন তিনি।

Advertisement
নন্দিতা রায়
নন্দিতা রায়

শেষ আপডেট: জুন ৮, ২০২৬, ১৩:১৮

link
নন্দিতা রায়
নন্দিতা রায়

শেষ আপডেট: জুন ৮, ২০২৬, ১৩:১৮

options
link
‘মমতার ছবিতেও দুর্নীতি’, দলকে বিঁধে রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা সুখেন্দুশেখরের, ছাড়লেন তৃণমূলও zoom
রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা সুখেন্দুশেখর রায়ের। ফাইল ছবি

তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙন। রাজ্যসভার সাংসদ পদে ইস্তফা সুখেন্দুশেখর রায়ের। সোমবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেন তিনি। শুধু তাই নয়, তৃণমূলের পদও ছাড়লেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক। তবে কি এবার রাজনৈতিক সন্ন্যাসের পথে সুখেন্দুশেখর, যদিও সে বিষয়টি খোলসা করেননি তিনি।

ইস্তফার পর একের পর এক বোমা ফাটান প্রাক্তন সাংসদ। তিনি বলেন, “দল যেভাবে চলা উচিত, চলেনি। এত বড় বিপর্যয়ের পর যেভাবে বিশ্লেষণ করা দরকার ছিল, তা হয়নি। যাঁরা নানা কমিটিতে রয়েছেন, তাঁদের মতামত নেওয়া হত না। নিরুপায় হয়ে তা সত্ত্বেও অনেকে দাঁতে দাঁত চেপে ছিলেন। মানুষ সরকারের প্রতি অনাস্থাজ্ঞাপন করেছে। মানুষ যখন অনাস্থাজ্ঞাপন করে তখন আমি বুঝতে পেরেছি দল জনমন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।” 

Advertisement

তাঁর মতে, দুর্নীতি শুরু হয়েছিল গত ২০১১ সালে। দল ক্ষমতায় আসার পরপরই ডেলো পাহাড়ে চিটফান্ড কর্ণধারের বিতর্কিত বৈঠক প্রসঙ্গও তোলেন সুখেন্দুশেখর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি বিক্রি প্রসঙ্গ নিয়ে খোঁচা দেন। তাঁর কথায়, “ছবি ১০-১৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কেউ কেউ তাঁকে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির সঙ্গে তুলনা করছেন। ছবি কিনছেন চিটফান্ডের মালিকরা। দুর্নীতি তো শুরু তখন থেকেই। দলে আদর্শ ছিল না। কর্মসূচি ছিল সিপিএমকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসা আর লুটপাট করা। তা অবশ্য মানুষ কিংবা আমরা বুঝতে পারিনি। একটা সময় দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক চেহারা নিল।”

দলে ‘সৎ’ নেতারা কোণঠাসা ছিলেন বলেই আক্ষেপ তাঁর। অভিমানের সুরে বর্ষীয়ান রাজনীতিক বলেন, “নির্দিষ্ট কিছু লোক সারাক্ষণ নেতৃত্বের পাশে ঘোরাফেরা করছে। জনবিচ্ছিন্ন মানুষ যাঁদের অতীত নেই কোনও তাঁদের সঙ্গে নিয়ে ঘুরলে হয়তো কিছু রোজগার হতে পারে। কিন্তু রাজনীতি নয়। দলের প্রশাসক যখন মানুষের ভাষা বুঝতে অক্ষম হয়, তখন নেতা এবং দলের পতন অনিবার্য।” ইন্দিরা গান্ধীর পরাজয়ের সঙ্গে তুলনা করে বর্ষীয়ান রাজনীতিক বলেন, “ইন্দিরা গান্ধী ষাট বছর বয়সে পরাজয়ের পরেও ফিরে এসেছিলেন। আমাদের নেতৃত্বের কেউ ৭০, ৭৭। সবাই জাতীয় নেতা। আঞ্চলিক কিংবা স্থানীয় নেতা নেই। সকলেই জাতীয় নেতা। আগে তাঁদের কার, কত সম্পত্তি আছে তা দেখা দরকার। হাসপাতাল সংক্রান্ত সব কিছুর ফরেন্সিক অডিট হওয়া প্রয়োজন।”

আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুন প্রসঙ্গে একাধিকবার মুখ খুলেছেন সুখেন্দুশেখর রায়। আরও একবার এদিন সেই ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন বর্ষীয়ান সাংসদ। তাঁর কথায়, “আর জি কর নিয়ে আমি আগেও প্রকাশ্যে মুখ খুলেছি। ধরনা দিয়েছি। আমার অপরাধ বলেছিলাম আরজিকর এবং পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে তদন্ত হোক। তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়া হল। যাঁরা অভিযুক্ত তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। এইসব দেখেশুনে তখন থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। প্রত্যেকে সঠিক সময়ের অপেক্ষা করে। আমিও তাই করেছি। আমি জানতাম এটা ঘটবে। আর জি করের জনবিস্ফোরণ দেখেই বুঝেছিলাম, এটা হবে। চব্বিশ সালে দারুণ ফলের চার-পাঁচ মাস পর যেভাবে মানুষ পথে নামলেন, তা থেকেই বুঝেছিলাম এটা হবে।”

আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুন প্রসঙ্গে একাধিকবার মুখ খুলেছেন সুখেন্দুশেখর রায়। আরও একবার এদিন সেই ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন বর্ষীয়ান সাংসদ। তাঁর কথায়, “আর জি কর নিয়ে আমি আগেও প্রকাশ্যে মুখ খুলেছি। ধরনা দিয়েছি। আমার অপরাধ বলেছিলাম আরজিকর এবং পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে তদন্ত হোক। তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়া হল। যাঁরা অভিযুক্ত তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। এইসব দেখেশুনে তখন থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। প্রত্যেকে সঠিক সময়ের অপেক্ষা করে। আমিও তাই করেছি। আমি জানতাম এটা ঘটবে। আর জি করের জনবিস্ফোরণ দেখেই বুঝেছিলাম, এটা হবে। চব্বিশ সালে দারুণ ফলের চার-পাঁচ মাস পর যেভাবে মানুষ পথে নামলেন, তা থেকেই বুঝেছিলাম এটা হবে।” এবার কি তবে রাজনীতি থেকে ‘সন্ন্যাস’ নেবেন সুখেন্দুশেখর? যদিও এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে সে বিষয়টি স্পষ্ট করেননি বর্ষীয়ান প্রাক্তন সাংসদ। পরবর্তীকালে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলেই জানিয়েছেন তিনি।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.