BREAKING NEWS

২ আশ্বিন  ১৪২৭  শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

জঙ্গি হামলার হাই অ্যালার্ট! সাধারণতন্ত্র দিবসে আসিয়ান নেতাদের প্রাণনাশের আশঙ্কা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: January 24, 2018 3:14 pm|    Updated: January 24, 2018 3:14 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এই প্রথম এ দেশে সাধারণতন্ত্র দিবসে ১০ জনেরও বেশি শীর্ষ আন্তর্জাতিক নেতা আসছেন নয়াদিল্লিতে। কেন্দ্রীয় ইন্টেলিজেন্স সূত্রে খবর, ১০টি আসিয়ান দেশ থেকে আগত মুখ্য অতিথিদের উপরে জঙ্গিরা হামলা চালাতে পারে। আশঙ্কা রয়েছে তাঁদের প্রাণনাশের। গোয়েন্দাদের এই বার্তা পেয়েই রাতারাতি লালকেল্লা ও সংলগ্ন অঞ্চল-সহ সমগ্র রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও মজবুত করা হয়েছে।

[সাধারণতন্ত্রের উৎসবে সাজছে শহর, যুদ্ধজাহাজের পাশে তৈরি ঐতিহ্যের ট্রামও]

৬৯তম সাধারণতন্ত্র দিবসের প্যারেডে উপস্থিত থাকবেন দশটি দক্ষিণ এশীয় দেশের প্রতিনিধিরা। ভারতে আসছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট, ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী, মায়ানমারের স্টেট কাউন্সিলার, লাওসের প্রধানমন্ত্রী, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট, তাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ও ব্রুনেই-এর সুলতান। সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে হাজির থাকতে বিদেশি অতিথিদের পাশাপাশি হেভিওয়েট নেতামন্ত্রীও দিল্লিতে উপস্থিত থাকবেন। তাই বাড়ানো হয়েছে সর্বস্তরের নিরাপত্তা। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হচ্ছে রাজধানী দিল্লিকে। কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে দিল্লি। ইন্ডিয়া গেটের মূল মঞ্চে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেই মঞ্চে থাকবেন প্রধান অতিথিরা।

দিল্লির অতিরিক্ত কমিশনার পি কে সিং বলেছেনন, সাধারণতন্ত্র দিবসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্রমেই আরও জোরদার করা হচ্ছে। দু’দিন আগে দু’জন জঙ্গির গ্রেপ্তারির ঘটনায় আরও জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জারি করা হয়েছে কমান্ডোর টহলদারি। রয়েছে স্নিফার ডগও। সাধারণতন্ত্র দিবসের প্যারেড যে রাস্তা দিয়ে যাবে, সেই রাস্তায় জারি করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী ও কমান্ডো। প্যারেডের পথে যে মাল্টিপ্লেক্স কিংবা আকাশচুম্বী বাড়িগুলি রয়েছে, সেই বাড়িগুলির ছাদে বসছে স্নাইপার। যে হোটেলে বিদেশি অভ্যাগতরা থাকছেন, সেখান থেকে গন্তব্যর আসার গোটা পথে জারি করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা। মূল মঞ্চের যেখানে বসবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী-সহ বিশিষ্ট অতিথিরা, সেটি বুলেটপ্রুফ কাচ দিয়ে ঘিরে দেওয়া হচ্ছে। কঠোর সুরক্ষার আবরণে আবৃত রাজধানীর প্রতিটি রাস্তা। স্থলপথের পাশাপাশি জলপথেও শুরু হয়েছে নজরদারি।

রাজধানী দিল্লির মতো এ রাজ্যেও জারি হয়েছে  কড়া নিরাপত্তা। এদিন প্রত্যেক থানার ওসির সঙ্গে বৈঠক করেন লালবাজারের পদস্থ কর্তারা৷ সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে থেকেই প্রত্যেক পুলিশকর্মীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে৷ নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে দেওয়া হচ্ছে শহরকে৷ বিশেষ নজরদারি রয়েছে রেড রোডের উপর৷ গঙ্গায় নজর রাখতে পুলিশের টহলদার লঞ্চে পাহারা শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে রেড রোড৷ খুলবে শুক্রবার সাধারণতন্ত্র দিবসের প্যারেডের পর৷ সাধারণতন্ত্র দিবসের দিন শুধু রেড রোডেই থাকবে চার হাজার পুলিশ৷ কয়েকটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে রেড রোডকে৷ প্রত্যেকটি সেক্টরের দায়িত্বে থাকছেন পদস্থ পুলিশকর্তারা৷

নিরাপত্তার জন্য রেড রোড-সহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় থাকছে একাধিক বাঙ্কার৷ দশটি ওয়াচ টাওয়ার থেকে রাখা হবে নজরদারি৷ নজরদারির জন্য উড়বে আকাশযান ‘দুর্দান্ত’৷ শহরে টহল দেবে ছ’টি বুলেটপ্রুফ মোর্চা, তিনটি কুইক রেসপন্স টিম, হেভি রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াড৷ রেড রোড জুড়ে টহল দেবে পুলিশ কুকুর৷ এ ছাড়াও দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য থাকছে অ্যাম্বুল্যান্স, পুলিশ অ্যাসিস্ট্যান্ট বুথ৷ শহরের প্রতিটি এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্টে রাতে নাকা চেকিং শুরু হয়েছে। রেড রোডের পাশাপাশি শহরের প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা, শপিং মল, মেট্রো রেলে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চিড়িয়াখানা, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, ময়দান, সায়েন্স সিটি, মিলেনিয়াম পার্কের মতো জায়গায় সাধারণতন্ত্র দিবসের দিন ভালই ভিড় হবে। ফলে সেই সব জায়গায় বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। উৎসবমুখী জনতার একটি বড় অংশ এখন নিউটাউন, সল্টলেককে বেছে নিচ্ছেন। মাদার মিউজিয়ামেও ভিড় হবে বলে অনুমান পুলিশের।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement