সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বহু যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা এসেছে ভারতে৷ মুক্তির স্বাদ পেয়েও আরও অনেক শত্রুর সঙ্গে লড়তে হয়েছে দেশকে৷ বহু রাজ-রাজা, শাসক ও জওয়ান দেশের স্বার্থে প্রাণ ত্যাগ করেছেন নিজেদের৷ এখন ভারত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে অনেক এগিয়েছে৷ কিন্তু একটা সময় ভারতীয় সেনার এই অগ্রগতি ছিল না৷ তাও কেবল রণকৌশলের জোরেই শত্রুর কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে এসেছে ভারত৷
১৷ ১৯৭২-এ ভারত-পাক যুদ্ধে দক্ষিণ ভারতীয় জওয়ান ব্যবহার: এই যুদ্ধে দক্ষিণ ভারতীয় জওয়ানদের ভূমিকা নানান সময়েই উঠে আসে ইতিহাসের পাতায়৷ বলা হয়, অত্যন্ত কৌশলের সঙ্গে এই অভিযানে দক্ষিণ ভারতীয় সেনা জওয়ানদের ব্যবহার করা হয়েছিল৷ কারণ দক্ষিণ ভারতীয় কথা পাক সেনার বোঝার অযোগ্য ছিল৷ ফলে দক্ষিণ ভারতীয় জওয়ানরা যে ভাষা ব্যবহার করতেন তা বুঝতে পারনি পাক সেনারা৷ ভারতের পক্ষে অনেক সুবিধাজনক হয়েছিল যুদ্ধাভিযান৷
[কতটা শক্তপোক্ত প্রধানমন্ত্রীর চতুর্স্তরীয় নিরাপত্তা বলয়?]

২৷ রাজস্থানের দূর্গের একাধিক ছোট দরজা: রাজস্থানে গেলেই একাধিক দূর্গ দেখতে পাওয়া যায়৷ তার ভাস্কর্য ও স্থাপত্য এখনও মুগ্ধ করে আমাদের৷ তবে জানেন কি আগেকার দিনে অনেক ভাবনা চিন্তা করেই দূর্গের এই ছোট ছোট দরজাগুলি তৈরি করেছিলেন তৎকালীন রাজা ও সম্রাটরা৷ যার অন্যতম কারণ হল যুদ্ধের সময়ে শত্রুপক্ষকে বোকা বানানো৷ হামলার সময়ে শত্রুপক্ষ রাজ্যের ভিতরে ঢুকে পড়লে একাধিক ছোট দরজা দিয়ে সেনাদের পালানোর সুবিধা হয়৷ এমনকি অনেক সময় শত্রুর উপরে অতর্কিতে হামলাও চালানো যেত ওই ছোট দরজা দিয়ে৷
[৩৫-এ ৩৮ নম্বর পেয়েছে পরীক্ষার্থীরা, ফের শিরোনামে বিহার স্কুল বোর্ড]
৩৷ হাতির পোশাকে ঘোড়া সাজানো: কথিত রয়েছে এমন যুদ্ধপন্থাতেই শত্রুকে মাত দিয়েছিলেন মহারানা প্রতাপ। হলদিঘাটি যুদ্ধের সময়ে নিজের সেনা বাহিনীর ঘোড়াকে হাতির পোশাকে সাজিয়েছিলেন তিনি। বাচ্চা হাতি ভেবে শত্রুপক্ষের হাতি তাঁদের আক্রমণ করেনি। ফলে অতি সহজেই শত্রুর ঘাঁটিতে ঢুকে পড়েতে পেরেছিলেন মহারানা প্রতাপ। যুদ্ধে ছারখার হয়ে গিয়েছিল শত্রুপক্ষ। রণক্ষেত্রে মহারানা প্রতাপের এই কৌশলকে এখনও অনন্য একটি রণকৌশল বলে গণ্য করা হয়।

৪। ষাঁড়ের শিঙে আগুন লাগিয়ে দেওয়া: মারাঠা সম্রাট ছত্রপতি শিবাজির অাবিষ্কৃত এই রণকৌশল পরবর্তীকালে বিভিন্ন সময়ে ব্যবহার করেছেন অন্যান্য সম্রাট ও রাজারা। এক্ষেত্রে যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা শত্রুর দিকে লেলিয়ে দেওয়া হয় ক্ষিপ্ত ষাঁড়কে। তবে তাদের শিঙে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হত। জ্বলন্ত শিং নিয়ে শত্রু বাহিনীর উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ত ক্ষিপ্ত ষাঁড়ের দল। ফলে অতি সহজেই লন্ডভন্ড করে দেওয়া যেত শত্রু সেনাকে। এই পদ্ধতিতেই মোঘল সম্প্রাট ঔরঙ্গজেবের সেনাকেও একাধিকবার বোকা বানিয়েছেন ছত্রপতি।
[শচীন-রেখার পর এবার রাজ্যসভায় কপিল-মাধুরী!]
৫। ভারতীয় জওয়ানদের রুশ ভাষা ব্যবহার: অপারেশন ট্রাইডেন্ট-এ পাক সেনার বিরুদ্ধে এই কৌশল অবলম্বন করেছিলেন ভারতীয় নৌসেনার জওয়ানরা। পাক নৌবাহিনীকে পরাস্ত করার জন্য যাত্রা শুরু করেছিল নৌসেনার তিনটি মিসাইল ডেস্ট্রোয়ার আইএনএস নির্ঘাত, আইএনএস নিপাট ও আইএনএস বীর। কিন্তু ভারতীয় নৌসেনা ও বায়ুসেনার জওয়ানরা এই অভিযানে রুশ ভাষার ব্যবহার করেছিলেন। কারণ তাঁরা কোনও মতেই চাননি তাঁদের মধ্যেকার কথাবার্তা যাতে কোনওভাবেই আড়ি পেতেও না বুঝতে পারে পাক সেনা। এই পদ্ধতি অপারেশন পাইথনে ব্যবহার করেছিলেন ভারতীয় সেনা।
সর্বশেষ খবর
-
সপ্তাহে ২ দিন হাওড়ার মঙ্গলাহাটে হকারদের বসার অনুমতি, শর্ত বেঁধে দিল প্রশাসন
-
এবার রাডারে অভিষেকের ডায়মন্ড হারবার এফসি, ‘টাকা আসত কোথা থেকে?’, প্রশ্ন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথের
-
উন্নত রাডারেও অদৃশ্য! চিন-পাকিস্তানের চিন্তা বাড়িয়ে ভারতকে সু-৫৭-এর প্রস্তাব পুতিনের
-
কল্যাণীতেই হবে বিমানবন্দর, জোরালো বার্তা শান্তনুর, ওয়াটার মেট্রো নিয়ে কী বার্তা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর?
-
‘সব কর্মফল! তৃণমূল জিতলে স্বরূপ বিশ্বাসকে আটকানো মুশকিল হত’, বিস্ফোরক দেব