Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Union Budget 2025

শ্লথ অর্থনীতির গতি বাড়াতে নির্মলার ‘নগদ’ দাওয়াই, করছাড়ে স্থায়ী সুবিধা হবে কি?

দেশের অর্থনীতি যে শ্লথ হয়েছে, সে ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করছে না কোনও মহলই।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৫, ১৪:১৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৫, ১৪:১৩

options
link
শ্লথ অর্থনীতির গতি বাড়াতে নির্মলার ‘নগদ’ দাওয়াই, করছাড়ে স্থায়ী সুবিধা হবে কি? zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতীয় অর্থনীতির হালহকিকত যে বিশেষ সুবিধার নয়, সেটা বোঝা গিয়েছিল অর্থনৈতিক সমীক্ষার রিপোর্টেই। অর্থনৈতিক সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, আগামী বছরের সম্ভাব্য জিডিপি বৃদ্ধির হার ৬.৪ শতাংশ। ভারত সরকার ২০৪৭ সালের মধ্য ‘বিকশিত ভারত’ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করার যে লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে সেটা অর্জন করতে হলে অন্তত টানা ১০ বছর ৮ শতাংশের বেশি হারে জিডিপি বৃদ্ধি জরুরি। কিন্তু সমস্যার জায়গা হল, বাজারে চাহিদা কম। ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে রোজগার বাড়েনি নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের। ফলে মধ্যবিত্তর ক্রয়ক্ষমতা কমছে। বাজারে চাহিদা ক্রমশ নিম্নমুখী। সম্প্রতি স্টেট ব্যাঙ্ক প্রকাশিত সমীক্ষায় বলা হয়েছে, মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে মধ্যবিত্তর সঞ্চয়ে হাত পড়ছে। দেশের অধিকাংশ মধ্যবিত্ত পরিবারের সঞ্চয় কমছে।  ফলে অর্থনীতির দুই চক্র জোগান এবং চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। পরিস্থিতি বদলাতে বাজেটে বড় ঘোষণা করতেই হত অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণকে।

দেশের অর্থনীতি যে স্লথ হয়েছে, সে ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করছে না কোনও মহলেই। একাধিক রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন পণ্যের চাহিদায় ভাটা পড়েছে। যেটার অন্যতম কারণ, বেতন বাড়ছে না। অর্থনৈতিক সমীক্ষার রিপোর্টেও মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরন কর্পোরেট মুনাফার সঙ্গে বেতনের বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ধারাবাহিক ভাবে বিক্রি কমায় নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য (চা, কফি, কেক, বিস্কুট, তেল, সাবান, শ্যাম্পু) তৈরির সংস্থাগুলিও বেশ কিছু দিন ধরে বিপাকে। ফলে মাথা নামিয়েছে দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার। সমস্যা হল, ভারতের বাজারে চাহিদা হ্রাসের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক। চাহিদা কমলে বিক্রি কমে, বিক্রি কমলে উৎপাদন কমে, উৎপাদন কমলে বিনিয়োগ কমে। বিদেশি লগ্নিকারীরারাও বিনিয়োগ করা কমিয়ে দেয়। সেটাই হচ্ছিল ভারতের অর্থনীতিতে। যার অবশ্যম্ভাবী প্রভাব পড়ছিল শেয়ার বাজারেও। লাগাতার শেয়ার সূচকের পতন রীতিমতো আশঙ্কার জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছিল। ক্রমশ বিদেশি মুদ্রার তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার দামও কমছিল। সব মিলিয়ে ভারতীয় অর্থনীতির জন্য আশু সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছিল।

Advertisement

এই সংকট রুখে দেওয়ার তাৎক্ষনিক উপায়, বাজারে প্রচুর নগদের জোগান। যার দুটো উপায়। মধ্যবিত্তের জন্য করকাঠামোয় বদল এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত ও গরিব নাগরিকদের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দেওয়া। যার পোশাকি নাম ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার। নির্মলা সীতারমণের বাজেটে এই দ্বিতীয় বিষয়টি উপেক্ষিত। সম্ভবত রাজকোষে বাড়তি চাপ যাতে না পড়ে সেটা নিশ্চিত করতে সরাসরি মানুষের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর কথা ভাবেননি নির্মলা। কিন্তু তিনি মধ্যবিত্তর জন্য একপ্রকার কল্পতরু অবতারে অবতীর্ণ হলেন। আয়কর ছাড়ের অঙ্কটা অনেকাংশে মধ্যবিত্তর প্রত্যাশাও ছাপিয়ে গেল। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা, ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত রোজগারে কোনও কর দিতে হবে না। ১৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত রোজগারে আরও ৭০ হাজার টাকা ছাড় মিলবে, ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে সেই বাড়তি ছাড়ের পরিমাণ ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। ফলে মধ্যবিত্তর একটা বিরাট অংশ পুরোপুরি আয়কর কাঠামোর বাইরে চলে গেল। অন্য করদাতারাও বড়সড় স্বস্তি পেলেন। যার অর্থ মধ্যবিত্তর হাতে নগদের পরিমাণ একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেল। মজার কথা হল, ওই বাড়তি নগদ যাতে মধ্যবিত্ত সঞ্চয়ের কথা না ভেবে সেজন্য কোনও ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে সুদের হার বাড়ানো হয়নি। ব্যাঙ্কগুলি যে সেভিংসে সুদের হার বাড়ানোর দাবি করছিল, সেই দাবিকেও গুরুত্ব দেওয়া হল না।

মধ্যবিত্তর হাতে নগদের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার অর্থ, সেই টাকা এবার ঘুরপথে বাজারে আসবে। মধ্যবিত্তর ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি ভোগপণ্যও ক্রয় কমবে। ফলে বাজারে চাহিদা বাড়বে, তাল মিলিয়ে বাড়বে উৎপাদন এবং বিনিয়োগ। ফলে স্লথ হয়ে যাওয়া অর্থনীতির গতি সাময়িকভাবে হলেও বৃদ্ধি পাবে। ভোগপণ্য বিক্রি বাড়ার আরও একটা সুবিধা হল এই পণ্যগুলি উৎপাদনকারী সংস্থায় বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। ফলে চাঙ্গা হবে শেয়ার বাজার। ভারতীয় মুদ্রাও পরোক্ষে শক্তিশালী হবে।

প্রশ্ন হল এটা কি স্থায়ী সমাধান? বা এটাই কি একমাত্র সমাধান? উত্তর সম্ভবত ‘না’। মধ্যবিত্তর হাতে নগদ বাড়িয়ে সাময়িকভাবে অর্থনীতিতে চাহিদা বাড়ানো গেলেও সেটা স্থায়ী সমাধান নয়। স্থায়ীভাবে উৎপাদন এবং চাহিদা বাড়াতে হলে শিল্পক্ষেত্রকে স্বস্তি দিতে হত। নিম্নবিত্তর আয় বাড়ানো দরকার, কর্মসংস্থান দরকার। কিন্তু সেসবের নির্দিষ্ট কোনও দিশা নির্মলার বাজেটে নেই। উলটে নগদ মধ্যবিত্তের হাতে বাড়ানোর অবশ্যম্ভাবী ফলাফল হল, আগামী কিছুদিনে লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.