সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্কঃ খরাপ্রবণ মহারাষ্ট্রের লাটুরে অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরিতে বিপুল পরিমাণ জলের ব্যবহার নিয়ে একসময়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ চরমে ওঠেছিল। এবার সেই ক্ষোভেরই কী মাসুল দিতে হল খোদ মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিসকে? মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ার ভিডিও দেখে পাইলট ও বিমান বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলছেন, অস্থায়ী হেলিপ্যাডে ঠিকমতো জল না দেওয়ার কারণেই সম্ভবত ভেঙে পড়েছিল মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিসের হেলিকপ্টারটি।
[কাশ্মীরে সেনার গুলিতে নিকেশ হিজবুল কমান্ডার সবজার ভাট]
বৃহস্পতিবার একটি জনসভা সেরে লাতুর থেকে ফিরছিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সভাস্থল থেকে ওড়ার কিছুক্ষণ পরই মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টারে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা যায়। এরপরই ভেঙে পড়ে হেলিকপ্টারটি। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে রক্ষা পান মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সঙ্গীরা। তবে দুর্ঘটনার জেরে আমেরিকায় তৈরি ৬ থেকে ৭ বছরের পুরনো সিকোরস্কি এই হেলিকপ্টারটি ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিমান পরিবহণ দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, ওড়ার কিছুক্ষণ পরে চালক বুঝতে পারেন, কিছুটা একটা গণ্ডগোল হয়েছে হেলিকপ্টারটিতে। তখনই তিনি অবতরণের চেষ্টা করেন। কিন্তু তার আগেই ভেঙে পড়ে হেলিকপ্টারটি।
[সোনিয়ার মহাভোজে ‘না’, মোদির আমন্ত্রণে দিল্লির পথে নীতিশ]
এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। ভিডিও-তে দেখা যাচ্ছে, ওড়ার সময়ে হেলিকপ্টারটির নিচে প্রবল ধুলো উড়ছে। তা দেখেই হেলিকপ্টারের অভিজ্ঞ পাইলটরা বলছেন, সাধারণত হেলিকপ্টার ওড়ার আগে অস্থায়ী হেলিপ্যাডে ভাল করে জল দেওয়া হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে সম্ভবত তেমনটা করা হয়নি।
গত বছরে এপ্রিলে খরাপ্রবণ লাটুরে অস্থায়ী হেলিপ্যাডে তৈরিতে বিপুল পরিমাণ জল ব্যবহার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ চরমে ওঠেছিল। আর তারপর থেকে অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরি জলের ব্যবহার যে কমিয়ে আনা দেওয়া হয়েছে, তা স্বীকার করে নিয়েছে প্রশাসনের আধিকারিকরাও। স্থানীয় প্রশাসনের এক আধিকারিকের জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ওই অস্থায়ী হেলিপ্যাডটিতে জল দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। তাই প্রবল গরমের কারণে হেলিপ্যাডটি শুকনো ও ধুলিময় হয়ে থাকতে পারে।
[পশু হাটে গোমাংস বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি কেন্দ্রর]
কিন্তু, অস্থায়ী হেলিপ্যাডে জল দেওয়ারই বা প্রয়োজন পড়ে কেন? জানা যাচ্ছে, হেলিকপ্টার ওড়ার সময়ে ইঞ্জিনের প্রবল হাওয়ায় গোটা এলাকার বাতাস ধুলোয় ভরে যায়। তাতে হেলিকপ্টারের ইঞ্জিন বা অন্য কোনও যন্ত্রের ক্ষতি হয় না ঠিকই। তবে ধুলোর কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় সমস্যা পড়েন পাইলট। বৃহস্পতিবারই সম্ভবত তেমনই কিছু ঘটেছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও DGCA –র নির্দেশিকা মেনেই লাটুরে ওই অস্থায়ী হেলিপ্যাডটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক জি শ্রীকান্ত। তাঁর দাবি, গত একমাসে লাটুরের ওই অস্থায়ী হেলিপ্যাড থে্কে তিন-চারটি ভিআইপি হেলিকপ্টার ওঠা-নামা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ার ঘটনার তদন্তের জন্য চার সদস্যের একটি তদন্তকারী দল গঠন করেছেন DGCA।
সর্বশেষ খবর
-
কম সুদে চটজলদি লোন পাইয়ে দেওয়ার ছক! বড়সড় প্রতারণাচক্রের পর্দাফাঁস লালবাজারের
-
‘একতরফা পদক্ষেপ নয়’, সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্কে আমেরিকাকে আলোচনায় বসার বার্তা ভারতের
-
অবিশ্বাস্য লড়াইয়েও শেষরক্ষা হল না মুচোভার, ‘চেক-মেটে’ উইম্বলডনের নতুন রানি নোসকোভা
-
বীরগাথা থেকে দেশভাগের যন্ত্রণা, বাংলায় পার্টিশন মিউজিয়াম বানানোর প্রস্তাব গোপাল পাঁঠার পরিবারের
-
প্রথমে দু’হাজার, তারপর দৈনিক ৩ লক্ষ টাকা! রামমন্দিরে চুরির তদন্তে স্বীকারোক্তি অভিযুক্তের