সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর দিয়ে সবসময়ই যে মেধার বিচার করা সম্ভব হবে, এমনটা নয়। তবে একথাও অনস্বীকার্য, যে পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর ছাড়া মেধার বিচারের কোনও পদ্ধতি এখনও আবিষ্কার হয়নি। তাই উচ্চশিক্ষাই হোক কিংবা গবেষণা, বিশ্বের যেকোনও বিশ্ববিদ্যালয়েই নম্বরের ভিত্তিতেই পড়ুয়াদের ভরতি নেওয়া হয়। আমাদের দেশে সংরক্ষণের কারণে ভর্তিতে নম্বরের ক্ষেত্রে বাড়তি কিছুটা ছাড় পেয়ে থাকেন তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত পড়ুয়ারা। কিন্তু, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে যা ঘটেছে, তা শুনলে তাজ্জব হয়ে যাবেন। সম্প্রতি অঙ্ক বিভাগে গবেষণার জন্য প্রবেশিকায় পরীক্ষায় আবেদনকারীকে ন্যূনতম কত নম্বর পেতে হবে, তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই তালিকায় দেখা গিয়েছে, তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত পড়ুয়াদের প্রবেশিকা পরীক্ষায় কার্যত কোনও নম্বরই পেতে হবে না। অর্থাৎ প্রবেশিকা পরীক্ষায় কোনও আবেদনকারী যদি ‘শূন্য’ পেয়ে থাকেন, তাহলেও স্রেফ সংরক্ষণের সুবাদেই দিল্লির বিশ্ববিদ্যালয়ে অঙ্ক বিভাগের গবেষণার সুযোগ মিলবে।
[‘ভয়ে হাত-পা কাঁপছিল, ভাগ্য ভাল ওরা আমাকে ধর্ষণ করেনি’]
দেশের প্রথমসারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে অন্যতম দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা বা গবেষণার করে চেয়ে আবেদন করেন অনেকেই। সকলকেই প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসতে হয়। প্রবেশিকায় পরীক্ষায় প্রাপ্ত ন্যূনতম নম্বরের ভিত্তিতে বাছাই করা আবেদনকারীদের ইন্টারভিউ নেওয়া হয়। এরপর সফল প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এবারও এই নিয়মের ব্যক্তিক্রম হয়নি। কিন্তু, অঙ্ক নিয়ে গবেষণার জন্য প্রবেশিকা পরীক্ষায় তপশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত আবেদনকারীদের জন্য ন্যূনতম যে নম্বরটি ধার্য করা হয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক দানা বেধেছে। সমালোচনা ঝড় উঠেছে নেট দুনিয়ায়। কারণ? দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, প্রবেশিকা পরীক্ষায় যদি ‘শূন্য’ পান বা বলা ভাল, কোনও নম্বরই না পান, তাহলে স্রেফ তফসিলি জাতি বা উপজাতিভুক্ত হওয়ার সুবাদেই গবেষণার সুযোগ পেয়ে যাবেন সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী। অন্যদিকে, সাধারণ পড়ুয়াদের প্রবেশিকা পরীক্ষায় কমপক্ষে ৯৪ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। বস্তত, ন্যূনতম নম্বরের এই তালিকার ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই ২২৩ জন আবেদনকারীদের ইন্টারভিউতে ডেকেছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এঁদের মধ্যে আবার ২৩ জন তফসিলি জাতি বা তফসিলি উপজাতির। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আজব সিদ্ধান্তকে ঘিরে সমালোচনা ঝড় উঠেছে নেট দুনিয়ায়। সোশ্যাল মিডিয়া কারও প্রশ্ন, তাহলে কী এবার থেকে যাঁরা পরীক্ষায় শূন্য পাবেন, তাঁরাই গবেষণা করবেন এবং পড়াবেন? কেউ আবার লিখেছেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি বোকা তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে।
[সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ, বেঙ্গালুরুতে জাতিবিদ্বেষের শিকার শিখ পরিবার]
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে অঙ্ক নিয়ে গবেষণার জন্য তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত পড়ুয়াদের জন্য যে কার্যত কোনও ন্যূনতম নম্বরই ধার্য করা হয়নি, তা স্বীকার করে নিয়েছে অঙ্ক বিভাগের প্রধানও। তবে তিনি জানিয়েছেন, সকলকেই ইন্টারভিউতে ডাকা হয়েছে। ইন্টারভিউয়ের ভিত্তিতে সফল প্রার্থীদের নির্বাচন করা হবে। পাশাপাশি, ন্যূনতম নম্বর ধার্য করার ক্ষেত্রে যদি কোনও ভুল হয়ে থাকে, তাও সংশোধন করে নেওয়া হবে।
[সম্বল ১৫ হাজার টাকা, তাই দিয়ে বোনকে রাখিতে শৌচালয় উপহার যুবকের]
সর্বশেষ খবর
-
ফ্রিজে রেখেও পচছে সবজি, গৃহস্থের কোন ৩ ভুলে নষ্ট হচ্ছে সময়ের আগেই?
-
‘কংগ্রেসের মতোই পতন হবে’, সোনমের পাশে দাঁড়িয়ে মোদিকে আন্নার অনশন মনে করালেন কেজরি
-
বিধবা শাশুড়িকে সিঁদুর পরিয়ে ‘অত্যাচার’, পুত্রবধূর বিরুদ্ধে থানায় নির্যাতিতা
-
অন্নপূর্ণার আবেদনে অনলাইনে তথ্য গোপন! যাচাইয়ের পর বাদ পড়বেন কারা? জানালেন মন্ত্রী
-
‘ঠুঁটো’ নয়, হাত-সহ জগন্নাথ দর্শন কালনায়! রথের দিন উপচে পড়া ভিড়