পুজো প্রায় এসেই গেল৷ পাড়ায় পাড়ায় পুজোর বাদ্যি বেজে গিয়েছে৷ সেরা পুজোর লড়াইয়ে এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায়৷ এমনই কিছু বাছাই করা সেরা পুজোর প্রস্তুতির সুলুকসন্ধান নিয়ে হাজির Sangbadpratidin.in৷ এবার পড়ুন খিদিরপুরের ২৫ পল্লির পুজো প্রস্তুতি৷
শুভময় মণ্ডল: পূজা মানে আচার, কিন্তু পুজো মানে উৎসব। সেই উৎসবে শামিল হয় আট থেকে আশি। তবেই না তা হয় বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ পার্বণের নেপথ্যেও প্রচুর ঘটনা। সেই রথযাত্রার দিন থেকেই পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে। খুঁটিপুজো থেকে শুরু হয় বাঙালির দুর্গোৎসবের প্রহর গোনা। তারপর কুমোরটুলিতে খড়ের কাঠামোয় মাটির প্রলেপ পড়া, হইহই করে ঠাকুর আনা, বলো দুগ্গা মাইকি কলরব তুলে প্যান্ডেলে মাকে নিয়ে আসা তারপর পুজোর নির্ঘণ্ট মেনে দেবীর আবাহন। এসবই পুজোর নেপথ্যের কাহিনি। টুকরো টুকরো সেই কোলাজগুলিকেই এবার পুজোর শহরে চাক্ষুষ করবেন দর্শনার্থীরা। খিদিরপুরের ২৫ পল্লির এবারের থিমই তাই। পোশাকি নাম- খুঁটিপুজো থেকে দু্র্গাপুজো। উৎসবের সূচনা থেকে সমাপনের সেই মুহূর্তগুলিই এবার ৭৩তম বর্ষে ২৫ পল্লির থিম ভাবনা। সৃজনে শিল্পী রিন্টু দাস।

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের শুরুয়াতই হয় খুঁটিপুজো থেকে। কোথাও সেলেব্রিটিদের দিয়ে আবার কোথাও পাড়ার প্রবীণ-নবীনরাই মিলে খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে উমার আবাহনে মেতে ওঠেন। সেইদিন থেকে কোমর বেঁধে দুর্গাপুজোর কাজকর্মে ব্যস্ত হয়ে পড়েন উদ্যোক্তারা। নাওয়া-খাওয়ার সময় থাকে না। শিল্পী রিন্টু দাস মণ্ডপকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন। প্রথম ধাপে খুঁটিপুজোর সেই উন্মাদনাকেই ফুটিয়ে তুলছেন। তারপর পালা কুমোরটুলিতে ঠাকুর গড়ার। কাঠ-খড়ের কাঠামোয় মাটির প্রলেপ, মৃৎশিল্পীর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয় প্রতিমায়। মৃন্ময়ীকে কুমোরপাড়া থেকে প্যান্ডেলে নিয়ে আসার তোড়জোড় শুরু হয়ে যায় পুজোকমিটিগুলির। মণ্ডপের দ্বিতীয় ভাগে সেই চিত্রকেই সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন শিল্পী। টেম্পোয় করে ঠাকুর আনার আনন্দঘন মূহূর্ত, বলো দুগ্গা মাইকি কলরবের কোলাজ দেখা যাবে এই অংশে।

তৃতীয় পর্যায়ে নির্ঘণ্ট মেনে দু্র্গাপুজো। সেখানে শিল্পী দেখিয়েছেন, হাজার হাজার চোখ মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে দেখছে ঠাকুরকে। কাতারে কাতারে মানুষের পদচারণা মণ্ডপে। উদ্দেশ্য একটাই, ঠাকুর দেখা। সেই মুহূর্তটাকে এই অংশে তুলে ধরছেন শিল্পী। বোধন থেকে বিসর্জন, উৎসবের এই কটাদিনের আনন্দ মণ্ডপসজ্জায় তুলে ধরতে অভিনবত্বের আশ্রয় নিয়েছেন শিল্পী। তা দেখতে হলে প্যান্ডেলে ঢুঁ মারতে হবে। প্রতিমা গড়ছেন শিল্পী পরিমল পাল। থিম ভাবনার পাশাপাশি আবহ সংগীতও রিন্টু দাসের। গতবছর সৃষ্টিসুখের উল্লাসে মেতেছিল ২৫ পল্লি। সৃজনে ছিলেন রিন্টু দাসই। এবার বাঙালির শ্রেষ্ঠ পার্বণের ইতিকথা দর্শনার্থীদের মনে কতটা দাগ কাটে তাই দেখার।

দেবী প্রতিমার বিসর্জনের পরও তার রেশ থেকে যায় আরও বেশ কিছুদিন। বিজয়ার কোলাকুলিতেও তাই সেই একসঙ্গে হাতে হাত ধরে উৎসবমুখর হয়ে থাকার রীতি চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। যারা আনন্দময়ীর পুজোর অংশীদার। তারা টুকরো টুকরো আনন্দের মধ্যেই খুঁজে পান জীবনের সার্থকতা, তার রং, রূপ ও সৌরভে।


কেমন চলছে পুজোর প্রস্তুতি, দেখুন ভিডিওয়-
সর্বশেষ খবর
-
দুই ‘সেরা’ গোলের ম্যাচে বাজিমাত ‘গোলদস্যু’ হালান্ডের, প্রি কোয়ার্টারে ব্রাজিলের সামনে নরওয়ে
-
বাড়িতে পাথর ছুড়ছে দুষ্কৃতী! সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে তোপ অভিষেকের
-
ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপ প্রধানমন্ত্রী মোদির, কী কথা হল, চাপ বাড়বে ট্রাম্পের?
-
নীচু জাত! কলেজের অশিক্ষক কর্মীকে নির্যাতন, ঘরে ঢুকতে বাধা অধ্যক্ষার! বিতর্ক পুরুলিয়ায়
-
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সস্ত্রীক দিলীপ ঘোষের সাক্ষাৎ, উপহার আম ও সন্দেশ! কী কথা হল?