অর্ণব আইচ: ভোররাতে ঘরের মধ্যে বসে তারিয়ে তারিয়ে ক্যাডবেরি খাচ্ছে দুই যুবক। পাশেই বিছানার উপর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শুয়ে বৃদ্ধ চেঁচাচ্ছেন, “আমায় বাজার করার টাকা দিয়ে যা তোরা। কাল সকালে বাজার করব কীভাবে? মোবাইল নিবি নে, সিমকার্ডগুলো দিয়ে যাস না। নাহলে গ্যাস বুক করব কীভাবে?” বৃদ্ধের এই অনুরোধে যেন মন গলল ২ যুবকের। ডাকাতি করতে এসে লুটের পর যে সিমকার্ড দিয়ে গ্যাস বুক করা হয়, সেই সিমকার্ড মালিককে দিয়ে গেল দুই যুবক! এমনকী হাজার দুয়েক টাকা রেখে গেছে বলেও বৃদ্ধকে জানিয়েছে তারা। যদিও সেই টাকার হদিশ মেলেনি। সোমবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে শহর কলকাতার যাদবপুরের রানিকুঠির অশ্বিনীনগরে।
ফের শহরে ডাকাতদের ‘টার্গেট’ একাকী বৃদ্ধ। কাঁচি আর স্ক্রু-ড্রাইভার দেখিয়ে ৮৮ বছর বয়সের বৃদ্ধকে বেঁধে রেখে বাড়ি থেকে ৪৫ হাজার টাকা ও প্রায় পাঁচ লাখ টাকার সোনার গয়না নিয়ে পালায় দুষ্কৃতীরা। পুলিশ ও বৃদ্ধর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত জুন মাসে স্ত্রীর মৃত্যু পর থেকে বাড়িতে একাই থাকেন অমলবাবু। সোমবার গভীর রাতে ছাদের দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকে দুই দুষ্কৃতী। রাত তিনটে নাগাদ দক্ষিণ-পূর্ব রেলের অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক দেখেন, ঘরের মধ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছে দুই যুবক। তারা তছনছ করছে ঘর। বৃদ্ধের ঘুম ভেঙেছে টের পেয়েই একজন তাঁর বুকে স্ক্রু-ড্রাইভার অন্যজন কাঁচি ঠেকিয়ে খুনের হুমকি দেয়। এরপরই অমলবাবুকেই আলমারির চাবি খোলার নির্দেশ দেয় তারা। আলমারির ভিতর কী আছে, দেখতে অসুবিধা হচ্ছিল বলে ঘরের আলো জ্বালিয়ে পর্দা টেনে দেয় তারা। এর পর শুরু হয় লুঠপাট। বারবার জিজ্ঞাসা করতে থাকে, “এক লাখ টাকা কোথায়?” উত্তর না পেয়ে দুই ডাকাত পাঞ্জাবি দিয়ে বৃদ্ধের দুই হাত ও বিছানার চাদর দিয়ে পা বেঁধে বিছানায় বসিয়ে দেয়। এরপর আলমারি তছনছ করে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা লুঠ করে। এক আত্মীয়ার পাঁচ লাখ টাকার গয়না ছিল বৃদ্ধের কাছে। সেই গয়নাও লুঠ করে অভিযুক্তরা।
লুঠপাটের সময়ই এক ডাকাত অন্যজনকে ঘড়ি দেখিয়ে বলে, “ভোর চারটে বেজে গিয়েছে। এবার যেতে হবে।” পুলিশের সন্দেহ, ট্রেন ধরার তাড়া ছিল তাদের। যদিও যাওয়ার আগে ফ্রিজ থেকে ক্যাডবেরি আর বিস্কুট বের করে খায় দু’জন। বাড়িতে ছিল তিনটি মোবাইল, তিনটি সিমকার্ডও। তার মধ্যে একটি থেকে গ্যাস বুক করা হয়। সেই সিমকার্ডটিও রেখে যায় দুই ডাকাত। অমলবাবুর ছেলে সিদ্ধার্থ বসু জানান, তাঁর বাবা বাজার করার জন্য কিছু টাকা রাখতে বলার পর তারা বলে, দরজার কাছে দু’হাজার টাকা রেখে যাচ্ছে। যদিও সেই টাকার খোঁজ মেলেনি। তারা সদর দরজা দিয়েই পালায়।
দুই ডাকাত চম্পট দেওয়ার পর কোনওমতে হাত ও পায়ের বাঁধন খুলে প্রতিবেশীকে ডাকেন ওই বৃদ্ধ। কয়েকটি বাড়ি পরেই থাকেন ছেলে সিদ্ধার্থ। তিনিও ছুটে আসেন। ১০০ ডায়ালে ফোন করতেই আসে যাদবপুর থানার পুলিশ। পুলিশের দু’টি টিম ভোরেই যায় যাদবপুর ও বাঘাযতীন স্টেশনে। কয়েকজনকে জেরাও করে। পুলিশের ধারণা, দুষ্কৃতীরা দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা। বৃদ্ধ কিছুদিন আগে এক প্রতিবেশীর সঙ্গে এক লাখ টাকা লগ্নি নিয়ে কথা বলছিলেন। পুলিশের অনুমান, কোনও দুষ্কৃতী সেই কথা শুনে ফেলেই এই ডাকাতির ছক কষে। এলাকায় সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের সন্ধান শুরু করেছে পুলিশ।
[আরও পড়ুন: কাশ্মীর থেকে ফেরা শ্রমিকদের পাশে রাজ্য, আর্থিক সাহায্য ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর]
সর্বশেষ খবর
-
সঙ্গে অভিষেকের চিঠি, ‘বিদ্রোহী’দের আগেই স্পিকারের দ্বারস্থ ‘মমতাপন্থী’ সাগরিকা-কীর্তি
-
‘দুঃখিত, মায়ের ফোন…’, সাংবাদিক সম্মেলন থামিয়ে মন জয় করলেন নীতীশ রেড্ডি
-
ওমান উপকূলে নয়া বিপদ, মাঝসাগরে ইঞ্জিন বিকল বাণিজ্যতরীর, উদ্ধার ১৪ ভারতীয় নাবিক
-
আচমকা বন্ধ হয়েছে মোবাইল নম্বর? সতর্ক না হলে ব্যাঙ্কের অ্যাকসেস চলে যেতে পারে অন্যের হাতে!
-
দিঘা-শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠকে শুভেন্দু, সমুদ্রবন্দর নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা