অর্ণব আইচ: ‘বাড়ি থেকে বেরিয়ে যা বুড়ি। আর যেন এই তল্লাটে না দেখি তোকে।‘ মারমুখী নাতির মুখে এ কথা শুনে চোখে জল ভরে এসেছিল ৮০ বছরের ঠাকুরমার। তার চেয়েও বেশি হয়েছিল অভিমান। তাই একবারের জন্যও আর পিছনে ফিরে তাকাননি। অপমানের জ্বালায় মনের জোরে কোনওমতে শরীরটাকে নুইয়ে অল্প অল্প করে হাঁটতে শুরু করেন। এক পা-দু’পা করে সারাটা রাত ধরে হেঁটে ফেলেন সাত কিলোমিটার।
প্রচণ্ড রোদ আর গরমে কসবায় এসে রাস্তার ধারে শুয়ে পড়েছিলেন বৃদ্ধা লক্ষ্মী মণ্ডল(৮০)। পথচারীরা তাঁকে দেখে হেঁটে চলে যাচ্ছিলেন। তাঁর দিকে ফিরেও কেউ তাকাচ্ছিলেন না। তবে এভাবে পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় কসবা থানার দুই পুলিশকর্মীর। ওই পুলিশকর্মী যখন ‘ঠাকুরমা’ বলে ডাকেন লক্ষ্মী মণ্ডলকে, তখন তাঁর চোখ ভরে যায় জলে। শেষ পর্যন্ত কসবা থানার পুলিশই হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করায় বৃদ্ধাকে।
[বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে ধর্ষিতা, ভাড়া বাড়িতে আর ঠাঁই হল না নিগৃহীতার]
নাতিদের কোলেপিঠে করে মানুষ করেছেন লক্ষ্মীদেবী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের উচ্ছেপোতার বাসিন্দা ওই বৃদ্ধার স্বামী হাজারি মণ্ডলের মৃত্যুর পর তিনি বড় একা হয়ে যান। থাকতেন বাড়ির এক কোনায়। তবু বাড়ির লোকেদের সঙ্গে বনিবনা হত না। নাতিরা প্রায়ই গালিগালাজ করত। তবু ‘বোঝা’ হয়ে থাকা মানুষটা আঁকড়ে ছিলেন তাঁর স্বামীর ভিটে। গোলমাল শুরু হয়েছিল কয়েকদিন আগেই। নাতিরা চেয়েছিল তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে। বৃহস্পতিবার পারিবারিক কলহ চরমে ওঠে। এক নাতি বৃদ্ধাকে বলেন, ‘বাড়ি থেকে বেরিয়ে যা।’
যে নাতিদের বড় করেছেন, তাদের কাছ থেকে অপমানিত হয়ে এক কাপড়েই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন লক্ষ্মী মণ্ডল। হাঁটতে বড় কষ্ট। সঙ্গে নেই খাবার। নেই তৃষ্ণা মেটানোর জল। জানেন না কোথায় যাবেন। তবু রাস্তা ধরে হাঁটতে শুরু করেন। সোনারপুর পেরিয়ে চলে আসেন ই এম বাইপাসে। যখন আর পা চলেনি, বসে থেকেছেন রাস্তার পাশে। দোকান থেকে একটু জল চেয়ে খেয়েছেন। রাতেও বিশেষ খাবার জোটেনি। সারারাত ধরে হেঁটেই চলেন তিনি।
[৭ লক্ষ টাকা তোলা চেয়ে মহিলাকে হুমকি, না দিতে পারায় শ্লীলতাহানি]
হাঁটছিলেন দিনের বেলাতেও। কিন্তু প্রচণ্ড গরম আর রোদে আর পারছিলেন না বৃদ্ধা। অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। শুয়ে পড়েন রাস্তার পাশে। কাছেই একটি নামী হোটেল। সেখান থেকে ভেসে আসছে বিরিয়ানির গন্ধ। যেখানে যাতায়াত সম্ভ্রান্ত মানুষের। বাইপাস দিয়ে গতিতে বেরিয়ে যাচ্ছে গাড়ি। বৃদ্ধা শুয়ে রয়েছেন। কিন্তু কেউ তাঁকে তুলতে আসেননি। তাঁকে পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় বাইকে করে টহলরত কসবা থানার দুই পুলিশকর্মীর। তাঁরা তাঁকে ‘ঠাকুরমা’ বলে ডাকতেই চোখ জল ভরে ওঠে বৃদ্ধার। অশক্ত হাতে ধরতে চান পুলিশকর্মীর হাত। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা খবর দেন কসবা থানায়। ঘটনাস্থলে আসেন মহিলা পুলিশকর্মীরা। তাঁরা বৃদ্ধাকে এম আর বাঙুর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সোনারপুর থানার মাধ্যমে উচ্ছেপোতায় তাঁর বাড়িতে খবর দেওয়া হয়। বৃদ্ধার পরিবারের লোকেদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
[ভালবাসা কারে কয়! হবু বউকে বাঁচাতে মেট্রোয় হুমকি ফোন প্রেমিকের]
সর্বশেষ খবর
-
EXCLUSIVE: বিয়ের পিঁড়িতে মিমি চক্রবর্তী! কাকে জীবনসঙ্গী বাছছেন টলি নায়িকা?
-
মোবাইলে নেটওয়ার্কের সমস্যা, টেলিকম কর্মীকে ধরে টাওয়ারে বেঁধে রাখল গ্রামবাসী!
-
মমতার জোটের ডাক উপেক্ষা! উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা কংগ্রেসের
-
আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বারাকপুরে বিজেপি নেতার বাড়ির সামনে রেইকি ৩ যুবকের! পুলিশের জালে ১
-
রাজ্যজুড়ে সক্রিয় ভুয়ো চিকিৎসক চক্র! ২ চিকিৎসককে কাঠগড়ায় তুলে স্বাস্থ্যদপ্তরে চিঠি