সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: চোখের জলে শহিদ এসআই অমিতাভ মালিককে শেষ বিদায় জানিয়েছে বাংলা। শোকাচ্ছন্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। শনিবার নবান্নে অমিতাভর ভূয়সী প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘অমিতাভকে চিনতাম। ওর সঙ্গে দার্জিলিংয়ে দেখা হয়েছিল। খুবই সাহসী ছেলে। অমিতাভ মালিকের পরিবারের পাশে রয়েছি।’ অমিতাভকে নিয়ে দুই লাইনের কবিতাও লিখেছেন মমতা। তিনি লিখেছেন, ‘কাল তাঁর দেহে ছিল প্রাণ, আজ যে সে এক মর্মান্তিক কফিন।’
[গুরুং মাথায় গুলি খেলে শান্তি পাবে অমিতাভ, ডিজির কাছে আরজি বিউটির]
অমিতাভর মৃত্যুকে ‘মর্মান্তিক ঘটনা’ বলে উল্লেখ করে মমতা নবান্নে বলেন, ‘আমরা ওঁর পরিবারের পাশে আছি।’ নিহত এসআই-এর মৃত্যুতে শোকাহত মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, যে কোনও প্রয়োজনে ওঁর পরিবারের সবরকম সাহায্যের জন্য তৈরি রাজ্য। অমিতাভর মা-বাবা, স্ত্রীয়ের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি এই ঘটনায় দোষীদের কড়া শাস্তির ইঙ্গিত দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী সপ্তাহেই পাহাড়ে যাচ্ছেন ডিজি সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ। তিনি পাহাড়ে গিয়ে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। একইসঙ্গে পাহাড়কে কীভাবে দ্রুত শান্ত করা যায় সেই বিষয়টিরও তদারকি করবেন। এদিন শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটে নব নির্মিত মঞ্চের নামকরণ হল শহিদ অমিতাভ মালিক মঞ্চ। আজ এক স্মরণসভায় এ কথা ঘোষণা করল শিলিগুড়ি পুলিশ। এদিনের সভায় নিহত এসআই-এর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান পুলিশকর্তা ও শহরের সর্বস্তরের মানুষ।
[‘পারলাম না ওকে ফিরিয়ে আনতে’, আর্তনাদ স্বামীহারা বিউটির]
গুরুঙ্গপন্থীদের গুলিতে নিহত সাব ইন্সপেক্টর অমিতাভ মালিককে গান স্যালুট দিয়ে এদিন শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয় তাঁর মধ্যমগ্রামের বাড়ি সংলগ্ন ক্লাবের মাঠে। জাতীয় পতাকায় মোড়া অমিতাভর কফিন বন্দি দেহ শিলিগুড়ি থেকে বিমানে কলকাতা নিয়ে আসা হয়। বিমানবন্দরেই তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। কফিন আঁকড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত এসআইয়ের স্ত্রী বিউটি। পরে সেখান থেকে পুরসভার শহবাহী গাড়িতে দেহ মধ্যমগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা করা হয়। সেখানে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান রাজ্য পুলিশের ডিজি সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ। ডিজিট কাছে গুরুংয়ের মৃত্যদণ্ড চান বিউটি মালিক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও। অমিতাভর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ তাঁর কালিম্পয়ের সহকর্মীরাও। নিহত এসআই অমিতাভ মালিক মাকে বলেছিলেন, দার্জিলিংকে কোনওভাগেই ভাগ হতে দেবেন না। বুকে একরাশ যন্ত্রণা নিয়ে জন্মদাত্রী মা জানিয়েছেন, বাংলা ভাগ না হলে তাঁর ছেলের আত্মা সত্যিকারের শান্তি পাবে।
[শহিদ অমিতাভর কফিন ঘিরে শোকার্ত মধ্যমগ্রাম, গান স্যালুটে শেষ বিদায়]
সর্বশেষ খবর
-
ফের রক্তাক্ত নানুর! দুই গোষ্ঠীর লড়াইয়ে চলল গুলি, মৃত ১, গ্রামে মোতায়েন পুলিশ
-
‘ভয়ংকর রকম কমে গিয়েছে’, ভারতের জন্মহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ মাস্কের
-
সিএবিতে ‘দাদাগিরি’, প্রভাব খাটিয়ে জেলা কোচিং কমিটির চেয়ারম্যান! গ্রেপ্তার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক
-
এবার গরমের ছুটি! বর্ষার আগেই ঝেঁপে বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গে, কলকাতায় কালবৈশাখীর সতর্কতা
-
স্ট্যালিন আউট, বিজয় ইন! ইন্ডিয়া জোটে চমকের সম্ভাবনা, কংগ্রেসের অস্বস্তি বাড়িয়ে পত্রবোমা সিপিএমের