Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Most spoken language

‘মোদের গরব, মোদের আশা…’, গোটা বিশ্বে হিন্দিকে ছাপিয়ে শীর্ষে বাংলা ভাষা

গতবছর বাংলা ছিল সপ্তম স্থানে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৯, ২০২৫, ১৬:৪৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৯, ২০২৫, ১৬:৪৮

options
link
‘মোদের গরব, মোদের আশা…’, গোটা বিশ্বে হিন্দিকে ছাপিয়ে শীর্ষে বাংলা ভাষা zoom

ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: বিশ্ব মানচিত্রে হিন্দিকে টপকে গেল বাংলা ভাষা। ভারতীয় কোনও কথ‌্য আঞ্চলিক ভাষার নিরিখে যে খবর গর্বের সীমা ছাড়িয়েছে সম্প্রতি। ২০২৩-এর এই ক্রম বলছে হিন্দি ভাষাভাষী মানুষের সংখ‌্যা সে বছর ছিল ৬০ কোটি ৯৫ লক্ষ। তৃতীয় স্থানে ছিল ভারতীয় এই অন‌্যতম আঞ্চলিক ভাষা। সেখানে বাংলা ছিল সপ্তম স্থানে। সে বছর বাংলা ভাষাভাষী মানুষের সংখ‌্যা ছিল ২৭ কোটি ২৮ লক্ষ। ২০২৪-এর পরিসংখ‌্যান বলছে এই পর্যায়ক্রমেই হিন্দিকে টপকে গিয়েছে বাংলা। বিশ্বজুড়ে ঠিক কত সংখ‌্যক মানুষ এখন বাংলা ভাষায় কথা বলছেন? ইউনেস্কোর স্বীকৃতি-সহ ‘গ্লোবাল পপুলেশন র‌্যাংক’ অনুযায়ী তার রিপোর্ট প্রকাশ করে দেওয়া হবে কিছুদিনের মধ্যেই।

প্রত্যেক বছরই এই রিপোর্ট বদলায়। ২০২৪ সালের শেষে নানা সংখ‌্যাতত্ত্বের বিচারে বাংলা ভাষার হাতে গরম এই ব‌্যাপ্তির হিসাব নিয়েছে ইউনেস্কো স্বীকৃত নির্দিষ্ট কয়েকটি সংস্থা, যারা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিশ্বময় ছড়িয়ে। রিপোর্টের মূল ভিত বাংলাদেশ। তার সঙ্গে এ এই মানচিত্রের সংযোজিত হয়েছে এ দেশের পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরা-সহ ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, মধ‌্যপ্রদেশ, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, মুম্বই ও দক্ষিণ ভারতে বিস্তৃত বাংলা ভাষাভাষী মানুষের সংখ‌্যা। তার সঙ্গে ইউরোপ, পূর্ব আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ার একটা অংশে বেশ কিছু সংখ‌্যায় বাঙালির বাস। একইভাবে অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকার নানা প্রদেশে বাঙালি তথা বাংলা ভাষাভাষীর বাস এবং কাজ। ইউনেস্কো যাদের মাধ‌্যমে এই রিপোর্ট তৈরি করে, সেই সব সংস্থাই এই তথ‌্য সামনে এনেছে। তবে বিশ্বের নিরিখে বাংলা ভাষা হিন্দিকে টপকে গেলেও দেশে আঞ্চলিক ভাষা হিসাবে সব থেকে ব‌্যবহারের তালিকায় থাকা হিন্দি ভাষাই প্রথম স্থানে রয়েছে।

Advertisement

ইন্ডিয়ান স্ট‌্যাটিসটিক‌্যাল ইনস্টিটিউটের (আইএসআই) লিঙ্গুইস্টিক রিসার্চ ইউনিটের প্রধান অধ‌্যাপক ড. নীলাদ্রিশেখর দাস জানাচ্ছেন, এই রিপোর্ট সামনে আসায় বাঙালি হিসাবে গর্ব তো হবেই। কিন্তু তার সঙ্গে সঙ্গে অনেক দায়িত্ব বেড়ে যায়। তার কারণ, কেন্দ্র সরকার, রাজ‌্য সরকার তো বটেই, বাংলাদেশ, ইউনেস্কো বা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, লন্ডন বা সোমালিয়ার মতো দেশের অর্থনীতিতেও এই রিপোর্ট প্রভাব ফেলে। যার তথ‌্যভাণ্ডার সমন্বয়ের একটা বড় অংশের কাজ আইএসআইয়ের মাধ‌্যমে হয়। সম্প্রতি তেমনই কিছু কাজ লন্ডন সরকারের সঙ্গে কাজ করছেন ড. দাস। তারই অন‌্যতম কাজ এই বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

কী সেই কাজ? ড. দাস জানাচ্ছেন, “শুধু যদি আমাদের দেশের কথাই ধরি, তাহলে কেন্দ্র সরকার দেখবে তার কত বাংলাভাষী নাগরিক দেশের বাইরে রয়েছেন। দেখা হয় তাঁদের ক’জন প্রবাসী। সঙ্গে দেখা হয় কতজন মানুষ দেশের কোনও কাজের সঙ্গে জড়িত, বাংলাভাষী কত মানুষ ভারতবর্ষের উপর নির্ভরশীল। সবটা দেখে ওই নির্দিষ্ট ভাষার মানুষের জন‌্য পালটা তথ‌্যভাণ্ডার তৈরি করা, তাদের সঙ্গে যোগাযোগের পথ তৈরি রাখার মতো নানা সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কাজ চালাতে থাকে কেন্দ্র সরকার। অন‌্য দেশের অধিবাসী কিন্তু মাতৃভাষা বাংলা, এমন মানুষের তথ‌্যভাণ্ডারও তৈরি রাখা হয়।”

তবে এই তথ‌্য শুধু কোনও দেশের সরকারেরই যে কাজে লাগে তেমন নয়, জানা গিয়েছে, বিভিন্ন দেশের মাধ‌্যমে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ওষুধ, প্রযুক্তির নানা দিক বা শিক্ষা সংক্রান্ত বেশ কিছু ক্ষেত্রে নানা সংস্থার বাণিজ্যিক ব‌্যবহারেও কাজে লাগে এই তথ‌্য। এই সংক্রান্ত প্রত্যেক  দিনের তথ‌্য তাদের প্রয়োজন। তার উপর ভিত্তি করেই বিশ্বের নিরিখে নির্দিষ্ট ভাষার মানুষকে টার্গেট করে নিজেদের পণ‌্য বিক্রির বিজ্ঞাপন তৈরি করে ওই সংস্থাগুলি।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.