৩ মাঘ  ১৪২৮  সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

বাংলায় ভরাডুবি, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির ওয়ার্ডেও এগিয়ে পদ্মশিবির!

Published by: Tiyasha Sarkar |    Posted: May 25, 2019 12:40 pm|    Updated: May 25, 2019 12:41 pm

Bhartiya janata party gained huge ground over tmc in kolkata

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দিল্লির মসনদ জয় নিয়ে প্রথম থেকেই আশাবাদী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে লক্ষ্য ছিল বাংলায় জয়ের হার বজায় রাখা। লক্ষ্যভেদ করতে দলের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল কাউন্সিলরদের। বলা হয়েছিল, যে কাউন্সিলর ‘লিড’ দিতে পারবেন না আগামী পুরভোটে তাকে টিকিট দেওয়া হবে না। কিন্তু ভোটের ফলাফল হাতে পাওয়ার পরেও যা হিসেব প্রকাশ্যে এসেছে তাতে মাথায় হাত! রাজ্য তো দূরঅস্ত, কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণের প্রায় ৫০ জন কাউন্সিলরই পিছিয়ে রয়েছেন নিজেদের ওয়ার্ডে। এমনকি খোদ মুখ্যমন্ত্রীর এলাকাতেও ইঁদুর দৌঁড়ে বিজেপির কাছে পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল। যদিও শেষ পর্যন্ত কোনওক্রমে ভবানীপুর দখলে রেখেছে তৃণমূল। 

[আরও পড়ুন: ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতেই পদ্ম ফেরি পার্ক সার্কাসের মোদি ভক্ত ইয়াকুবের]

মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি যেখানে, সেই ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডেও বিজেপির কাছে পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল। তাতে হতবাক হয়ে গিয়েছেন ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রতন মালাকার। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের আটটি ওয়ার্ডের মধ্যে ছ’টিতেই (৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩ এবং ৭৪) এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। এমনকী তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর ওয়ার্ডেও এগিয়ে বিজেপি। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুর শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের দখলেই রয়েছে। যদিও সম্ভব হয়েছে ফিরহাদের ওয়ার্ড ৮২ নম্বর (লিড ১১০০) এবং ৮২ নম্বর (লিড ১৭,০০০) ওয়ার্ডের সৌজন্যে।

ভোটের ফল দেখে অবাক মেয়র ফিরহাদ হাকিমও। তিনি বলেন ‘‘গত জানুয়ারির পুরভোটে আমি জিতেছিলাম ১৪ হাজার ভোটে। সেটা কমে এ বার হয়েছে ১১০০!” তাঁর অভিযোগ,  এই ভোট হয়েছে ধর্মীয় মেরুকরণের সুড়সুড়ি দিয়ে। বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এই প্রবণতায় বাংলায় বেশি দিন টেকা যাবে না। তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি রাসবিহারীতেও জোর ধাক্কা দিয়েছে বিজেপি। সেখানে পিছিয়ে পড়েছেন ৮৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার, ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মেয়র পারিষদ রতন দে। কলকাতা দক্ষিণ কেন্দ্রের বেহালা এলাকায় পিছিয়ে পড়েছেন মেয়র পারিষদ, ১১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারক সিং।

তবে বালিগঞ্জ বিধানসভা আসনের ৬০ এবং ৬১ ওয়ার্ডে তৃণমূল ‘লিড’ দিয়েছে যথাক্রমে ১৬ হাজার এবং ৯৫০০ হাজার ভোটে।  কসবা ও বন্দরের সংখ্যালঘু এলাকার ভোট পেয়ে কলকাতা দক্ষিণ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মালা রায় দেড় লক্ষেরও বেশি ভোটে জিতেছেন। দক্ষিণের মতো একই ছবি উত্তরেও। বিজেপির হাওয়া উড়িয়ে দিয়েছে উত্তর কলকাতায় তৃণমূলের গোটা কুড়ি ওয়ার্ডকে। ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এক লক্ষ ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতলেও সেখানকার শ্যামপুকুর ও জোড়াসাঁকো বিধানসভা এলাকায় এগিয়ে গিয়েছে বিজেপি। অল্পের জন্য মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রকে নিজেদের দখলে রাখতে দেখতে পারলেও তলানিতে নেমে এসেছে ব্যবধান। মাত্র ৮৬০ ভোটে ‘লিড’ পেয়েছে তৃণমূল। এবং ওই লোকসভা কেন্দ্রেও জয়ের পিছনে বড়সড় ভূমিকা রয়েছে এন্টালি, বেলেঘাটা, চৌরঙ্গি বিধানসভা এলাকার সংখ্যালঘু ওয়ার্ডের।

ভোটের ফলাফল বলছে, গোটা বড়বাজার এলাকা গেরুয়া শিবিরের পক্ষে। উত্তর কলকাতার ৬০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬, ১৩, ১৮, ২০, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ৩১, ৩৮, ৪০, ৪১ ৪২, ৪৪, ৪৭, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৫ এবং ৫৮ নম্বরে পিছিয়ে তৃণমূল। পুরসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনে ওই সব ওয়ার্ডে তাঁরা জিতেছিল ১০০০ থেকে ১৫ হাজার পর্যন্ত ভোটে। ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, জোড়াসাঁকোর বিধায়ক স্মিতা বক্সী এ বার নিজের ওয়ার্ডে পিছিয়ে পড়েছেন চার হাজারের বেশি ভোটে। ৫৮ নম্বরে ৫০০ ভোটে পিছিয়ে পড়েছেন ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দার। কিন্তু হঠাৎই কী এমন ঘটল যে, লোকসভা ভোটে শাসক দলের এই ভরাডুবি?

[আরও পড়ুন: জুনেই বিজয়োৎসব বিজেপির, কলকাতায় সাফল্যসভায় মধ্যমণি হবেন শাহ]

দু’নম্বর বরোর চেয়ারম্যান সাধন সাহা বলেন, ‘‘ ফলাফল অবিশ্বাস্য। ভোট পর্ব শুরু হওয়ার পর ও ওদের কোনও অস্তিত্ব টের পাইনি। ভোটের দিনও এজেন্ট ছিল না। ছোটাছুটিও নজরে পড়েনি। ফলপ্রকাশের পর বুঝলাম আমাদের ভোট অনেক কমে গিয়েছে। কোথাও কোথাও পিছিয়ে পড়েছি।’’ তবে বাংলা জয়ে উচ্ছ্বসিত বিজেপি শিবির। এবার তাঁদের লক্ষ্য পুরভোট। ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর বিজয় ওঝার কথায়, ‘‘এ বার আমাদের লক্ষ্য কলকাতা পুরসভা। যে ধাক্কা দিয়েছি, তা জারি থাকবে পুরসভার ভোটেও।’

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে