গোবিন্দ রায়: কলকাতা হাই কোর্টে বহাল রইল শুভেন্দু অধিকারীর রক্ষাকবচ। এফআইআর করতে চাইলে রাজ্য যথাযথ বেঞ্চে আবেদন করতেই পারে। আপাতত বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার দেওয়া রক্ষাকবচে কোনও অন্তর্বতী নির্দেশ দেওয়া যাবে না, শুক্রবার এমনই জানালেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। আগামী ৩ সপ্তাহ পিছিয়ে গিয়েছে মামলার শুনানি।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে মোট ২৬ টি এফআইআর রয়েছে বিভিন্ন থানায়। তার পরিপ্রেক্ষিতেই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেন, দলবদলের কারণে প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন। পরিকল্পনা মাফিক একের পর এক মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। যার অধিকাংশই ভিত্তিহীন। সেই কারণে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া সমস্ত মামলা খারিজের আবেদন করেন। অন্যথায় সিবিআই তদন্তের দাবি জানান। সেই মামলায় বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার পর্যবেক্ষণ, শুভেন্দু অধিকারী একটা সময়ে তৃণমূলে ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিরোধী দলেনতা। মানুষের ভোটে নির্বাচিত। ফলে পুলিশ নিজে অথবা অন্য কারও নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলে বিরোধী দলনেতার কাজ স্তব্ধ করার চেষ্টাও করতে পারে। সেই কারণেই শুভেন্দুর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ২৬টি এফআইআরেই অন্তবর্তী স্থগিতাদেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। এছাড়া কলকাতা হাই কোর্টের অনুমতি ছাড়া শুভেন্দুর বিরুদ্ধে নতুন করে আরও কোনও এফআইআর করা যাবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছিলেন বিচারপতি মান্থা।
[আরও পড়ুন: ‘হেফাজতে মৃত্যু হলে দায় কি আপনাদের নয়?’, লালন শেখের মৃত্যুতে CBI-কে ভর্ৎসনা হাই কোর্টের]
ইতিমধ্যে শুভেন্দুর কর্মসূচিতে কেন্দ্র করে আসানসোলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। যা নিয়ে গোটা রাজ্যে শোরগোল পড়ে যায়। বিরোধী দলনেতার গ্রেপ্তারির দাবিতে সরব হয় তৃণমূল। এই প্রেক্ষাপটে রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের মামলার আরজি জানানো হয়। তবে মামলা ফিরিয়ে দেয় সর্বোচ্চ আদালত। হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে মামলার পরামর্শ দেওয়া হয়। শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে নতুন এফআইআর করতে চেয়ে শুক্রবার হাই কোর্টে মামলার আবেদন জানায় রাজ্য। আইনজীবী অনির্বাণ রায় জানান, বিচারপতি মান্থা তাঁর নির্দেশের শেষে জানিয়েছেন শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কোন এফআইআর করা যাবে না। আসানসোলের ঘটনা অপরাধ। এফআইআর করা জরুরি।
বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত বলেন, “রাজ্য কি কোন প্রাথমিক তদন্ত করছে? ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে? এফআইআর করার আগে এগুলি হওয়া প্রয়োজন। এই সংক্রান্ত আরেকটি মামলা প্রধান বিচারপতির এজলাসে বিচারাধীন। সেক্ষেত্রে এই বেঞ্চ কি করবে? আপনারা কি ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছিলেন চ্যালেঞ্জ করে? রাজ্য এবিষয়ে কোন স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেনি। শুভেন্দুর আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার জানান, রাজ্য সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল। একথা শোনার পর বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত আপাতত শুভেন্দুর রক্ষাকবচ বহাল রাখার নির্দেশ দেন।
[আরও পড়ুন: হিন্দি-উর্দুভাষীকে জোর করে বাংলা বলানো যাবে না, জানাল পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশন]
সর্বশেষ খবর
-
সুইডেনের স্কুলে ‘নিষিদ্ধ’ হচ্ছে স্মার্টফোন, আমাদেরও বোধোদয় হবে?
-
পরনে গেঞ্জি-বারমুডা, জাহাঙ্গিরকে ফলতা ঘোরাল পুলিশ, লজ্জার লেশমাত্র নেই! মাথা উঁচু করেই হাঁটলেন ‘পুষ্পা’
-
সহজেই ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন? অদৃশ্য লাল পেনেই থামবে কথা কাটাকাটি, জানাচ্ছেন মনোবিদ
-
‘তিলে তিলে মরবি’, প্রয়াত কনটেন্ট ক্রিয়েটার সায়নীর ‘প্রেমিক’কে তোপ সন্তানহারা মায়ের
-
মাঝমাঠে শক্তি বাড়ানোই লক্ষ্য, পাঞ্জাব এফসির জেলকোভিচকে দলে নিল মোহনবাগান