সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পাহাড়ে বাহিনী প্রত্যাহার নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মুখ পুড়ল কেন্দ্রের। দার্জিলিং থেকে বাহিনী প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্তে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করলেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন। আগামী ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত জারি থাকবে এই স্থগিতাদেশ। এদিন শুনানিতে বিচারপতি বুঝিয়ে দেন পাহাড়ের পরিস্থিতি এমন কিছু বদলায়নি যেখানে বাহিনী সরানোর মতো অবস্থা হবে। ২৭ অক্টোবর ফের এই মামলার শুনানি। হাই কোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা মুখোপাধ্যায়।
[পাহাড় থেকে আচমকা তুলে নেওয়া হল কেন্দ্রীয় বাহিনী, ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী]
পাহাড় থেকে বাহিনী প্রত্যাহারের প্রতিবাদে মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করে রাজ্য। সেই মামলার ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারি করাই শুধু নয়, কেন্দ্রকে রীতিমতো তিরষ্কার করেন বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন। কেন্দ্রের কাছে তিনি জানতে চান, একসময়ে যথেষ্ট কারণ ছিল বলেই বাহিনী পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু, এই ক’দিনে পাহাড়ে পরিস্থিতি কী এমন উন্নতি হল, যে বাহিনী প্রত্যাহার করতে চাইছেন? বিচারপতি আরও প্রশ্ন, উপযুক্ত কারণ না দেখিয়ে কীভাবে পাহাড় থেকে বাহিনী সরিয়ে নেবে কেন্দ্র? কিন্তু, হঠাৎ করে কেন পাহাড় থেকে বাহিনী প্রত্যাহার কেন করতে চাইছে কেন্দ্র? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যুক্তি, হিমাচল প্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন নির্ঘন্ট ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা প্রয়োজন। কেন্দ্রের অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রীয় বাহিনী বিশেষ প্রশিক্ষিত। কিন্তু, পাহাড়ে তাদের লাঠি ধরিয়ে কার্যত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করাচ্ছে রাজ্য। যদিও কেন্দ্রের কোনও যুক্তিই মানতে চাননি কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন।
[গুরুংবাহিনীর সঙ্গে মোকাবিলায় এবার পুলিশের হাতে অত্যাধুনিক বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট]
গত জুনে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঘিরে অশান্তির সূত্রপাত হয় পাহাড়ে। একশোর দিনেরও বেশি সময়ে ধরে চলা বনধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল জনজীবন। মোর্চার তাণ্ডবে পুড়েছিল একের পর এক সরকারি অফিস। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। প্রথমে অবশ্য দার্জিলিংয়ে বাহিনী পাঠানো নিয়ে টালবাহানা করছিল কেন্দ্র। শেষপর্যন্ত কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ পাহাড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এখন দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে ১২ কোম্পানি সিআরপিএফ ও ৩ কোম্পানি এসএসবি মোতায়েন রয়েছে। কিন্তু, বিমল গুরুকে ধরতে গিয়ে মোর্চা সমর্থকদের গুলিতে এসআই অমিতাভ মালিকের মৃত্যুর পর আচমকাই পাহাড় থেকে বাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। রবিবার রাজ্যকে জানিয়ে দেওয়া হয়, দার্জিলিং ও কালিম্পং থেকে সাত কোম্পানি সিআরপিএফ ও তিন কোম্পানি এসএসবি প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় এই সিদ্ধান্তে বেজায় ক্ষুদ্ধ হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু, তাতেও বাহিনী প্রত্যাহার নিয়ে কেন্দ্রের তরফে কোনও আশ্বাস মেলেনি।
[‘শান্তি ফেরাতে নিজেদের উৎসর্গ করতে পারি, দার্জিলিংকে নয়’]
সর্বশেষ খবর
-
‘হকার’ না ‘ভোটার’, আমরা কোন চোখে মানুষগুলিকে দেখেছি?
-
‘আলোচনা ব্যর্থ হলে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত’, আমেরিকার বিরুদ্ধে ‘আল্লার উপহার’ হরমুজই অস্ত্র ইরানের!
-
জার্সি বেচে সন্তানকে বাঁচান প্যারাগুয়ের নায়ক গিল, ‘আকাশের ঠিকানায়’ দাদুকে চুমু গোলদাতা এনসিসোর
-
মমতা অতীত, জোটের প্রশ্নই নেই! বিজেপির বাংলায় কংগ্রেস কর্মীদের লড়াইয়ের ডাক বেণুগোপালের
-
‘মা-কাকিমা ছাড়া রোল পাবে না’, এবার রচনাকে পালটা কল্যাণের, প্রশ্ন তুললেন শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও