গোবিন্দ রায়: প্রত্যেকদিন বিচার চাইতে যাঁদের কাছে হাজির হন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষ, সেই বিচারকরাই কিনা বঞ্চনার শিকার! হাই কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও নিম্ন আদালতের পরিকাঠামোর কোনও পরিবর্তন হয়নি। মঙ্গলবার এক মামলার শুনানি চলাকালীন এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম। ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতিকে এও বলতে শোনা যায়, “আর কয়েক মাস প্রধান বিচারপতির পদে রয়েছি। তার মধ্যে রাজ্য যদি পদক্ষেপ না করে তবে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে আমি যুদ্ধ করতেও প্রস্তুত।”
ঘটনার সূত্রপাত, রাজ্যের ১১টি জেলা আদালত থেকে পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিষয়ে। নিম্ন আদালতগুলোর পরিকাঠামোগত মানোন্নয়ন নিয়ে একাধিক অভিযোগ এসেছে প্রধান বিচারপতির কাছে। দীর্ঘ দিন জানানো সত্ত্বেও রাজ্যের নিম্ন আদালতগুলোতে পরিকাঠামোগত সমস্যার সমাধান ও মানোন্নয়নে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ। আগে এনিয়ে রাজ্যকে নির্দেশও দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি। কিন্তু তারপরও একই হাল।
এদিন প্রধান বিচারপতির এজলাসে ট্রাম সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলছিল। তখনই ঘটনাচক্রে আদালতগুলির পরিকাঠামোর প্রসঙ্গ এসে পড়ে। তারপরই ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতি রাজ্যের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কোথাও বারের ঘর নেই, কোথাও বিচারকদের বসার জায়গা নেই।” রাজ্যের বিভিন্ন নিম্ন আদালতগুলিতে কর্মচারীর সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় কম। এনিয়েও এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি।
প্রসঙ্গত, এই সংক্রান্ত মামলায় এর আগে অস্থায়ীভাবে কর্মী নিয়োগ নিয়েও রাজ্যকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছিল আদালত। সেই সঙ্গে, বিশেষত জেলা আদালতগুলির বিচারক ও আইনজীবীদের কোথাও বসার ভালো ঘর জন্য ঘর নেই। কোথাও আবার বিচারকদের নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। নিম্ন আদালতগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে রাজ্যের গাফিলতি নিয়ে অভিযোগ ছিলই। এবার ভরা এজলাসে এবিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেল কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে।
সর্বশেষ খবর
-
মমতার তিরস্কার, শুভেন্দুর পুরস্কার! দময়ন্তী সেন-সহ ৬ আইপিএসকে স্বাধীনতা দিবসে সম্মান মুখ্যমন্ত্রীর
-
কলকাতা মেডিক্যালে মহিলা কর্মীর আত্মহত্যার চেষ্টা! নেপথ্যে কী কারণ?
-
কার্যালয়ে কার্তুজ, গোপন ডেরায় ইসিএলের নথি! দেড় মাস পর পুলিশের জালে বিধায়ক পুত্র ‘বাহুবলী’ প্রেমপাল
-
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ‘তিজ’ উদযাপনে কাকলি-শতাব্দী-রচনারা, মেহেন্দি-সেলফিতে হুল্লোড়, শামিল কঙ্গনাও
-
অনুশীলন সমিতি থেকে হিন্দুস্তান রিপাবলিকান আর্মির সদস্য! ফিরে দেখা ঝাড়গ্রামের বিস্মৃতপ্রায় বিপ্লবীকে