৪ কার্তিক  ১৪২৬  মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

অর্ণব আইচ:  মাত্র কয়েকঘণ্টার মধ্যে চায়না টাউনে জোড়া খুনের ঘটনার কিনারা করল ট্যাংরা থানার পুলিশ৷ শ্বশুর-বউমার মৃতদেহ উদ্ধারের পরই পুলিশ ওই বৃদ্ধের ছেলেকে আটক করে৷ প্রথমে খুনের কথা অস্বীকার করলেও, দীর্ঘক্ষণ পুলিশি জেরায় ভেঙে পড়ে সে৷ স্বীকার করে নেয় স্ত্রী-বাবাকে নিজের হাতে খুন করেছে৷ আর কিছুক্ষণের মধ্যেই অভিযুক্ত ছেলে লি ওয়াং সাংকে গ্রেপ্তারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ 

[আরও পড়ুন: ফের ছন্দে-কথায় কাব্য সৃজন, সুদিনের স্বপ্নের ঝলক মুখ্যমন্ত্রীর লেখনীতে]

৮৯ বছর বয়সি বাবা লি কা সিয়ং এবং বছর ষাটের স্ত্রী লি হান মেইহাকে নিয়ে এই বাড়িটিতে বহুদিন ধরেই বসবাস করত লি ওয়াং সাং৷ পুলিশসূত্রে খবর, স্বামী বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত বলেই সন্দেহ করতেন লি হান মেইহা৷ তার জেরে দু’জনের অশান্তিও কম হত না৷ শুক্রবার সন্ধেতেও গন্ডগোল বাঁধে৷ ঝগড়াঝাটি চলাকালীন লি ওয়াং সাং তার স্ত্রীকে ধাক্কা মারে৷ কিছুটা দূরে পড়ে যান  লি হান মেইহা৷ এরপরই একটি লোহার বালতি দিয়ে স্ত্রীর মাথায় সজোরে আঘাত করে স্বামী৷  যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন ওই মহিলা৷ চিৎকার শুনে দৌড়ে আসেন মহিলার শ্বশুর লি কা সিয়ং৷ বউমাকে খুন করতে দেখে ছেলেকে বকাবকি করতে থাকেন৷ বাবার চেঁচামেচি বন্ধ করতে ওই লোহার বালতি দিয়ে তার মাথাতেও আঘাত করে ছেলে৷ বৃদ্ধও রক্তাক্ত অবস্থায় জ্ঞান হারান৷    

খুনের ঘটনা আড়াল করতে মনগড়া গল্প ফাঁদে সে।পরিকল্পনামাফিক সন্ধে সাতটা নাগাদ প্রথমে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যায় অভিযুক্ত৷বারবার স্ত্রী লি হান মেইহাকে ফোন করতে থাকে৷ যাতে বোঝানো যায় বারবার বাড়িতে ফোন করেও কেউ ধরছে না৷ বাধ্য হয়ে দরজা ধাক্কা দিতে থাকে তিনি৷ রাত আটটা নাগাদ বাড়ি ফেরে সে৷ চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা জড়ো হয়ে যান৷ প্রতিবেশী যুবক মইয়ের সাহায্যে পাঁচিল টপকে ভিতরে ঢোকেন৷  ভিতর দিক থেকে বন্ধ দরজা খুলে দেন তিনিই৷ এরপর একে একে সবাই বাড়িতে ঢোকেন৷ মূল দরজা দিয়ে প্রবেশের পর ভিতরের ঘরে বাবা এবং স্ত্রী দু’জনকেই পড়ে থাকতে দেখেন সকলেই৷ 

[আরও পড়ুন: মায়ের ইচ্ছাপূরণে গিয়েই মাতৃহীনা! শোকে পাথর কচুয়ায় মৃত পূর্ণিমার মেয়ে]


খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ট্যাংরা থানার বিশাল পুলিশবাহিনী৷ ছিলেন ডিসি দেবস্মিতা দাস ও গোয়েন্দাপ্রধান মুরলিধর শর্মা। দেহ উদ্ধারের সময় মহিলা এবং বৃদ্ধের মুখ, মাথা পুরোপুরি থেঁতলে গিয়েছিল৷ দেহের খুব কাছ থেকে রক্তমাখা অ্যালুমিনিয়াম বালতিও উদ্ধার করা হয়৷  ঘটনার তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ওই পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য লি ওয়াং সাংকে আটক করে জেরা করতে থাকে৷ প্রথমে ঘটনার বিন্দুবিসর্গ জানে না বলেই জানায় সে৷ তবে দীর্ঘক্ষণ পুলিশি জেরায় ভেঙে পড়ে লি৷ স্বীকার করে নেয় বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের পথে কাঁটাকে সরাতেই স্ত্রীকে খুন করেছিল সে৷ খুন দেখে ফেলায় বাধ্য হয়ে বাবাকেও মারতে হয় তাকে৷ এরপরই পুলিশ ওই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারির সিদ্ধান্ত নেয়৷ 

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং