পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় বাদ ২৭ লক্ষ নাম। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জুডিশিয়াল অফিসাররা ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের মধ্যে ‘যোগ্য’, ‘অযোগ্য’ ভোটার চিহ্নিত করেছিলেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এবার নাম বাদের সেই দায় মমতার বলে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, “২৭ লক্ষ নাম বাদের দায় বিজেপি ও কমিশনের নয়। মমতার মামলাতেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জুডিসিয়াল অফিসাররা কাজ করেছেন। তাঁরাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
মমতা তৃণমূল দাবি করছে, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে তাদের তালিকায় যুক্ত করে নতুন করে নির্বাচন করা হোক। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে সেই দাবিকেই তুলোধনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, “কেরলে এসআইআর ভালো। পশ্চিমবঙ্গে খারাপ। আমরা ২০৮ আসন পেয়েছি। ওরা দু’পক্ষ ৮০। জনতার রায় মানতে পারছেন না মমতা।”
আরও পড়ুন:
এসআইআর নিয়ে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তদন্তমূলক রিপোর্টে সামনে আসতেই দেশের রাজনীতিতে শোরগোল। বিরোধীদলগুলি এসআইআরের বিরোধিতা করছে। মমতা তৃণমূল দাবি করছে, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁদের তালিকায় যুক্ত করে নতুন করে নির্বাচন করা হোক। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে সেই দাবিকেই তুলোধনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এ দিন বৈঠকে সাফ জানান, এসআইআর নাম বাদ গিয়েছে মমতার দায়ের করা মামলায় পর সুপ্রিম কোর্টের নিয়োজিত জুডিসিয়াল অফিসারদের সিদ্ধান্তে। এতে কোনও ভাবেই বিজেপি বা কমিশনের হাত নেই। গতকাল শনিবার নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ বাকি দুই কমিশনারের ছবি দেখিয়ে তিনি জানান, কমিশনের কোনও সিদ্ধান্ত একক ভাবে নেওয়া হয়নি তা এই ছবিই স্পষ্ট করে। শুভেন্দু বলেন, “কেরলে এসআইআর ভালো। পশ্চিমবঙ্গে খারাপ। আমরা ২০৮ আসন পেয়েছি। ওরা দু’পক্ষ ৮০। জনতার রায় মানতে পারছেন না মমতা। নাম ও প্রতীক নেই। দলটাই সাফ হয়ে গিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “যে বিষয় নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নিজেরাই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল, আদালতের নির্দেশে যে প্রক্রিয়া হয়েছে। আজ সেই বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়াকেই প্রশ্ন করা হচ্ছে। এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।”
এসআইআর প্রসঙ্গের পাশাপাশি তৃণমূল ও বামের ‘জোট’কে বিঁধেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সিপিএমকে একযোগে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। “সিপিএম-তৃণমূলের ভালোবাসা” বলে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক সমঝোতার জন্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সিপিএম নেতা এমএ বেবি ফোন করেছিলেন, এমনই খোঁচা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, শ্রীরামপুরে গতকাল শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভা করেছিলেন। সেই মঞ্চ থেকে বাংলা ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে একযোগে আক্রমণ করেছিলেন তিনি। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারকে এসআইআর ইস্যুতে বিঁধেছেন। মমতার মুখে ‘আজাদি’ স্লোগান শোনা যায় মঞ্চ থেকেই। তাহলে কি সিপিএমকে কাছে টানতে ‘আজাদি’ স্লোগানকেই বেছে নিলেন নেত্রী? সেই প্রশ্ন উঠেছিল। রবিবারের সকালে সেই ইস্যুকে সামনে রেখে পালটা আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
নিজেকে রাজ্য পুলিশের ডিএসপি পরিচয় দিয়ে ৫ লক্ষ টাকা তোলাবাজির চেষ্টা, গ্রেপ্তার প্রতারক
-
চূড়ান্ত হয়ে গেল আগরকরের উত্তরসূরি! গম্ভীরের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে চার নির্বাচক
-
রেজিনগরে ঋত-তৃণমূলের ভোটের প্রচারে লজেন্স কুড়োতে গিয়ে দুর্ঘটনা! মৃত ৬ বছরের শিশু
-
প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর ইন্দ্রনীল সেনের বাড়ি থেকে বেরল ইডি, আগামিকাল তলব প্রাক্তন মন্ত্রীকে
-
‘ইন্ডির পিণ্ডি চটকে গিয়েছে, দিমাগি নকশালদের পরামর্শ দিতে দিল্লিতে মমতা’, বিস্ফোরক শুভেন্দু