রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: পার্টিতে তরুণ ও মহিলাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আলিমুদ্দিন। অথচ নিচুতলায় তার ঠিক উল্টো ছবি। সিপিএমের শাখাস্তরে মহিলা ও ৩১ বছরের কম বয়সিদের না থাকা নিয়ে এবার দুর্বলতার কথা স্বীকার করে নিল সিপিএম তাদের পার্টি দলিলেই। অর্থাৎ দলে তরুণদের অগ্রাধিকার ও অন্তর্ভুক্ত করার যে দাবি সিপিএমের শীর্ষ নেতারা করে আসছেন, তা নিচুতলায় কার্যকর হচ্ছে না। আর তাই শীর্ষস্তর থেকে পার্টি চিঠিতে নির্দেশিকা জারি করে বলতে হচ্ছে, পার্টিতে অন্তর্ভুক্তি ও পুনর্নবীকরণের ক্ষেত্রে কঠোরভাবে মাপকাঠিগুলি মেনে চলতে হবে।
এজি সদস্যবিহীন শাখা, শাখায় মহিলা ও ৩১ বছরের কম বয়সিদের না থাকা, এই সমস্ত দুর্বলতাগুলির অবসান চাই। শুধু তাই নয়, বর্তমানে পার্টির দুঃসময়। এখন ক্যাডার পলিসি ও সর্বক্ষণের কর্মীদের পরিচর্যার কাজ যে গুরুত্বের সঙ্গে হচ্ছে না, তা স্পষ্ট পার্টি চিঠির রিপোর্টে।
দলের অভ্যন্তরীণ চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্ভাবনাপূর্ণ কর্মীদের চিহ্নিত করে গুণগতভাবে উন্নীত করার বিষয়টি সর্বস্তরের পার্টি কমিটিগুলির অবশ্য পালনীয় কাজ। এই লক্ষ্যে ষান্মাসিক সাংগঠনিক পর্যালোচনা অব্যাহত রাখতে হবে। আবার তরুণ অংশ থেকে পার্টির হোলটাইমার আসছে না বলে সিপিএমের নিচুতলার খবর। আর তাই পার্টি চিঠিতে এই বিষয়ে বলা হয়েছে, তরুণ সর্বক্ষণের কর্মী গড়ে তোলার বিষয়টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়।
পার্টির মধ্যেই প্রশ্ন, কেন শাখা বা এরিয়া কমিটি স্তরে তরুণ প্রজন্মকে সেভাবে পাওয়া যাচ্ছে না? ‘বৃদ্ধতন্ত্র’ হঠিয়ে তরুণ মুখ এনে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা করছে বঙ্গ সিপিএম। রাজ্য কমিটি থেকে এই চেষ্টা শুরু হয়েছে। কিন্তু নিচুতলায় কেন সেই প্রচেষ্টা সর্বতোভাবে কার্যকর হচ্ছে না, কেন ধাক্কা খাচ্ছে পার্টিতে সিংহভাগ ক্ষেত্রে তরুণ মুখ নিয়ে আসার কাজ?
পার্টির একাংশ মনে করছে, ১) তরুণ প্রজন্মকে পার্টির প্রতি আগ্রহী করে তোলা সেভাবে যাচ্ছে না। ২) ৩৪ বছরের বাম শাসনের নেতিবাচক দিক প্রভাব ফেলছে। ৩) তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ ফেসবুকে সক্রিয়, পার্টির কাজে সক্রিয়ভাবে তাদের দেখা যাচ্ছে না। প্রসঙ্গত, পার্টি সম্মেলনে বিভিন্ন কমিটিতে সদস্যদের গড় বয়স নিয়ে আগেই উল্লেখ করেছিল সিপিএম। তরুণ প্রজন্মের নেতা-নেত্রীদের কমিটিতে গুরুত্ব দিতে কার্যত নজিরবিহীন নির্দেশিকা দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়েছিল এরিয়া ও জেলা কমিটির সদস্য বা নেতৃত্বের বয়স। কিন্তু তারপরও শাখা বা বুথস্তরে তরুণ-মহিলা মুখ উঠে আসছে না। এই অংশকে পার্টিতে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে চরম দুর্বলতা কাজ করছে, যা স্পষ্ট পার্টি চিঠিতেই।
আবার গত লোকসভা ভোটের আগে গত জানুয়ারিতে দলের যুব সংগঠনের নেতাদের সামনে রেখে ব্রিগেড সমাবেশ করেছিল আলিমুদ্দিন। তারপর লোকসভা ভোটেও সিংহভাগ প্রার্থীই ছিল তরুণ মুখ। তবে এসব রাজ্যস্তরে। নিচুতলায় এসবের কোনও প্রভাব পড়েনি।
সর্বশেষ খবর
-
বদলে যাবে সোদপুর ও খড়দহ স্টেশনের নাম! রেলমন্ত্রকে প্রস্তাব মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তীর
-
অধিনায়কত্ব খোয়াচ্ছেন সূর্যকুমার, ভারতের নতুন টি-২০ অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার!
-
এই ৬ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে স্থগিত ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা! বড় সিদ্ধান্ত দেশের বৃহত্তম উড়ান সংস্থার
-
প্রয়াত ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা নারায়ণ বসু
-
শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বরূপ বিশ্বাস, ডিম হাতে থানা ঘেরাও ক্রুদ্ধ জনতার