স্টাফ রিপোর্টার: জোট থাকবে কি না তা নিয়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ই সিপিএম-কংগ্রেসের সম্পর্কে ফাটল ধরিয়ে দিল তৃণমূল৷ মূল কাজটা করলেন বরানগরের তৃণমূল বিধায়ক তথা বিধানসভার সরকারি ডেপুটি চিফ হুইপ তাপস রায়৷ বিধানসভায় তথ্য তুলে ধরে দাবি করলেন, বাম-কংগ্রেসের জোট বলে কিছুই ছিল না৷ পুরোটাই ছিল চমকের রাজনীতি৷ আর রাজ্যের মানুষ জোটকে তো গ্রহণ করেনইনি৷ উল্টে তৃণমূলের প্রতি আস্থা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন৷
গত তিন দিন ধরে সিপিএম-কংগ্রেসের সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা চলছে৷ বিশেষত সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির রিপোর্টের পর কংগ্রেসকে বাদ দিয়েই কর্মসূচি নিচ্ছে বামফ্রণ্ট৷ এই অবস্থায় বিধানসভার ভিতরেও রাজ্যপালের ভাষণের উপর আলোচনায় বারবার ঘুরেফিরে এসেছে জোট প্রসঙ্গ৷ তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায় বলেন, “সিপিএম-কংগ্রেসের মধ্যে প্রেম আগে ছিল গোপনে৷ পরে হয় প্রকাশ্যে৷ এখন আলাদা হতে চাইছে৷ যা পরিস্থিতি তাতে বিচ্ছেদ অনিবার্য৷” তাপসবাবু উল্লেখ করেন, “দেবতা আর গণদেবতার মাঝে আছেন মমতা৷ পশ্চিমে সূর্য অস্ত গিয়েছে৷ আর বুবাবু মালাবদলের পর ঘরে ঢুকে গিয়েছেন৷ মানুষ থেকে কেন বিচ্ছিন্ন সেটা অনুধাবন না করে শুধু ভোটে জেতার জন্য জোট করেছিল সিপিএম৷” তাপসবাবুর বক্তব্যের মাঝেই ওয়াকআউট করে বামেরা৷ তাদের যুক্তি, ফাটা বাঁশে আটকে গিয়েছে, নির্লজ্জ-বেহায়ার মতো একাধিক অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করেছেন তৃণমূল বিধায়ক৷ স্পিকারের কাছে তৃণমূল বিধায়কের নামে অভিযোগও জানান বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী৷ এদিন জোটকে কটাক্ষ করেন বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত৷
বামেদের দেখাদেখি কংগ্রেসও একই সময়ে ওয়াকআউট করে অধিবেশন৷ সেই সময় অধিবেশন কক্ষে ছিলেন না বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান৷ ক্ষুব্ধ মান্নান মিনিট পনেরো পরে ফের কংগ্রেস বিধায়কদের নিয়ে অধিবেশন কক্ষে ঢোকেন৷ তাতেই স্পষ্ট হয়ে যায় বাম-কংগ্রেসের জোটে ফাটলের ছবি৷ এ বিষয়ে বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নানের যুক্তি, “আমরা শুধু তাপস রায়ের বক্তব্যের সময় ওয়াকআউট করেছিলাম৷ পরে আবার ফিরে এসেছি আমাদের দু’জন বিধায়কের বক্তব্য বাকি ছিল৷” তৃণমূল বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তীর বক্তব্যেও ধরা পড়েছে কেন অপ্রাসঙ্গিক জোট৷
বিধানসভার ভিতরে যখন জোটের ভাঙন, বাইরে তখন একই অবস্থা৷ এদিনই মূল্যবৃদ্ধি ইস্যুতে বামেদের কর্মসূচিতে ডাকা হয়নি কংগ্রেসকে৷ আবার ২৫ জুন কংগ্রেসের মিছিলে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রকে ডাকা হলেও তিনি যাচ্ছেন না বলেই খবর৷ কংগ্রেসের কর্মসূচিতে আদৌ যাওয়া হবে কি না, তা নিয়ে বাম বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করবেন সুজন চক্রবর্তী৷ যদিও বাজেটের আলোচনার দিনে কংগ্রেসের কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷ ২৪ জুন, শুক্রবার বেলা চটোয় বিধানসভায় বাজেট পেশ করবেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র৷ শনিবার থেকে শুরু হবে বাজেট নিয়ে আলোচনা৷ সিপিএম-কংগ্রেসের এখন যা অবস্থা, তাতে জোট আদৌ থাকবে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন!
সর্বশেষ খবর
-
প্রয়াত ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা নারায়ণ বসু
-
গ্রেপ্তার স্বরূপ বিশ্বাস, স্টুডিও পাড়ায় তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত অরূপের ভাই
-
টিটাগড়-বারাকপুর পুর-দুর্নীতিতে স্পেশাল অডিটের দাবি, মেট্রো নিয়েও তৎপর কৌস্তভ
-
‘পিঠে বানাতে’ বিধায়ক কার্যালয়ে মহিলাদের ডাক! গ্রেপ্তার বর্ধমানের ‘শাহজাহান’ খোকন
-
৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বার ঝুঁকিপূর্ণ শারীরিক কসরত! ভিডিও দেখে হতবাক নেটপাড়া, উঠল সমালোচনার ঝড়