৯ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

অযৌক্তিক আক্রমণ নয় মমতাকে, সতর্কবার্তা সিপিএমকে

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: May 24, 2016 10:21 am|    Updated: May 24, 2016 10:21 am

An Images

স্টাফ রিপোর্টার: বিধানসভা ভোটে জোটের ভরাডুবির পর বামফ্রন্টের শরিকদলগুলির মতবিরোধ এবার প্রকাশ্যে চলে এল৷ রাজ্যে ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাস বাড়ছে, এই কারণে আগামী ২৫ এবং ২৬ মে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে সমস্ত শরিক দলকে নিয়ে একটি অবস্থান বিক্ষোভ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কলকাতা জেলা বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে৷ সূত্রের খবর, বামফ্রন্টের এই কর্মসূচি থেকে বেঁকে বসেছে আরএসপি৷ যৌথভাবে নেওয়া কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে তারা৷ কিন্তু কেন এই সিান্ত? আরএসপির কলকাতা জেলানেতৃত্বের ধারণা, বিপুল জনমত নিয়ে ক্ষমতা দখল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ স্বচ্ছ, অবাধ ভোটে কোনওরকম ছাপ্পা বা রিগিংয়েরও অভিযোগ তোলা যায়নি৷ সাধারণ মানুষের এত সমর্থন নিয়ে যিনি পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন তাঁর বিরু‌দ্ধে রাস্তায় বসে আন্দোলন করলে ভুল বার্তা যাবে মানুষের কাছে৷ শুধু তাই নয় এই অবস্থান বিক্ষোভে সমর্থক আনতেও হিমশিম খেতে হবে বলে মনে করছেন তাঁরা৷ রাজনৈতিক সংঘর্ষেগ্রামে গ্রামে আক্রান্ত হচ্ছেন বাম সমর্থকরা৷ ভোটের আগে যে সমস্ত নেতা পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন তাঁরা সকলেই এখন কলকাতায়৷ ফোনেও তাঁদের পাওয়া যাচ্ছে না৷ ফলে মাটি আঁকড়ে যারা তৃণমূলের বিরু‌দ্ধে লড়েছিলেন, গ্রামের সমর্থকরা আজ নেতাদের বিরু‌দ্ধে উষ্মা প্রকাশ করছেন৷ আরএসপি-র কলকাতা জেলা নেতৃত্বের কথায়, এখন আত্মসমালোচনার সময়৷ ভোটের ফলাফলে সংগঠনের দেউলিয়াভাব প্রকাশ্যে চলে এসেছে৷ সংগঠন মজবুত না করে ফের আন্দোলন করা মানে আত্মহত্যা করার শামিল৷ তবে শেষ পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিতে রাজি হয়েছে আরএসপি৷ সোমবার কলকাতা জেলা বামফ্রন্টের ডাকা এক সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির থেকে আরএসপি জানিয়ে দেয়, সন্ত্রাস বিরোধী আন্দোলনে তারা একসঙ্গেই পথে নামবে৷

উল্লেখ্য, ভোটের আগে বাম-কংগ্রেস জোটের সময়ও প্রকাশ্যে এসেছিল ফ্রন্টের দ্বন্দ্ব৷ শরিকদলগুলির অভিযোগ ছিল বেশ কিছু আসন চেয়েও তারা পায়নি৷ তখন বড় শরিক সিপিএম ক্ষমতা দখলের কথা বলে তাদের শান্ত করে৷ বোঝানো হয় রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরে আসাই আসল৷ ফলাফল বেরনোর পরে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে এখন জোটপন্থী নেতাদের মুন্ডুপাত করছেন সমর্থকরা৷ স্বাভাবিকভাবেই ঘরের অন্দরেও যে গৃহযুদ্ধ বাধবে তা জানতেন জোটপন্থী নেতারাও৷ এদিকে রানি রাসমণি রোডে অবস্থান বিক্ষোভ করা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে৷ সেখানে কলকাতা পুলিশের কাছ থেকে সভা করার অনুমতি পায়নি জেলা বামফ্রন্ট৷ তার বদলে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে অবস্থান বিক্ষোভের অনুমতি মিলেছে৷ এদিন বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কলকাতা জেলাতে ৩০ জন বামকর্মী দৈহিকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন৷ ২৮টি বসত বাড়ির উপর হামলা হয়েছে৷ ৫২টি পার্টি অফিস দখল করে নেওয়া হয়েছে৷ এর প্রতিবাদে লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি চলবে৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement