Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Cyber Fraud

ট্রাফিক আইন ভাঙার জরিমানা, ফোনে আসা মেসেজে ক্লিক করলেই সব শেষ! কীভাবে বাঁচবেন?

সম্প্রতি এই রকম প্রতারণার একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে পুলিশের কাছে। গত বছর ডিসেম্বরেই এই প্রতারণার শিকার হয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খুইয়েছিলেন পর্ণশ্রী থানা এলাকার অন্তর্গত হেমন্ত মুখোপাধ্যায় রোডের বাসিন্দা কুণাল মাইতি।

Advertisement
রমেন দাস
রমেন দাস

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ১৫:৪২

link
রমেন দাস
রমেন দাস

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ১৫:৪২

options
link
ট্রাফিক আইন ভাঙার জরিমানা, ফোনে আসা মেসেজে ক্লিক করলেই সব শেষ! কীভাবে বাঁচবেন? zoom

ট্রাফিক আইন ভাঙায় ১০০০ হাজার টাকা জরিমানা। এই মর্মে বার্তা আসছে হোয়াট্সঅ্যাপে। সঙ্গে লিঙ্ক বা কোনও এপিকে ফাইল। বলা হচ্ছে, ওই লিঙ্কে গিয়ে বা অ্যাপটি ডাউনলোড করে টাকা জমা দিন। প্রতারকদের এই ফাঁদে পা দিয়েই সর্বস্বান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ! চোখের সামনে নিমেষে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। চেষ্টা করেও তা আটকানো যাচ্ছে না, কারণ ততক্ষণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ফোন চলে গিয়েছে প্রতারকের দখলে।

সম্প্রতি এই রকম প্রতারণার একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে পুলিশের কাছে। গত বছর ডিসেম্বরেই এই প্রতারণার শিকার হয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খুইয়েছিলেন পর্ণশ্রী থানা এলাকার অন্তর্গত হেমন্ত মুখোপাধ্যায় রোডের বাসিন্দা কুণাল মাইতি। পর্ণশ্রী থানায় তিনি অভিযোগও দায়ের করেছিলেন। পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তাঁর ফোনে একটি বার্তা এসেছিল। তাতে বলা হয়েছিল, ট্রাফিক আইন ভাঙার জন্য তাঁকে জরিমানা দিতে হবে। জরিমানার চালান দেখার জন্য তাঁকে একটি লিঙ্কও পাঠানো হয়েছিল। সেই ক্লিক করতেই কুণালের ফোনে একটি অ্যাপ ডাউনলোড হয়। তার কিছু ক্ষণ পর থেকেই একের পর এক ওটিপি ঢুকতে থাকে তাঁর ফোনে। খানিক পরে কুণাল দেখেন, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যত টাকা ছিল, সব তুলে নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

সাইবার বিশেষজ্ঞ সাম্যজিৎ মুখোপাধ্যায় জানান, এখন গাড়ির নম্বর থেকে কারও ফোন নম্বর জোগাড় করা অসম্ভব কিছু না। প্রতারকেরা এই ‘দুর্বলতা’কেই কাজে লাগাচ্ছে। ফোনে যে লিঙ্ক বা এপিকে ফাইল পাঠানো হচ্ছে, তা আসলে ‘রিমোট ডেস্কটপ’ বা ‘রিমোট অ্যাকসেস’। এই অ্যাপ ইনস্টল হলে ফোনের ‘অ্যাকসেস’ হ্যাকারদের হাতে চলে যায়। এর পর ফোনে যা কিছু করা হবে, তা সবই জানতে বা দেখতে পারবে প্রতারকেরা। এই ধরনের অ্য়াপ দিয়ে একরকম ভাবে ফোনে নজরদারি চালানো হয়। সাম্যজিৎ বলেন, “শুধু লিঙ্ক বা এপিকে ফাইল পাঠানোই নয়, প্রতারকেরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মোবাইলে ফোনও করে। তার পর তাঁকে বলে দেওয়া হয়, কী ভাবে সেই লিঙ্ক খুলতে হবে বা এপিকে ফাইল ডাউনলোড করতে হবে। প্রতারণার জন্য ঠিক যা যা দরকার, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দিয়ে ঠিক তা-ই করা হয়। মানুষও না বুঝতে পেরে সে সব করে যাবে। এর পর ফোনে ওটিপি এলে প্রতারককে আর ওটিপি জানতে চাইতে হবে না। কারণ সে এখন নিজেই সব দেখতে পাবে।”

সাম্যজিৎ জানান, এই ধরনের প্রচুর ভুয়ো এম-চালান ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে। পুলিশ কিছু বন্ধ করিয়েছে। তবে এখনও কিছু ওয়েবসাইট সক্রিয়। সাইবার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, “ই-চালান কখনওই এ ভাবে হোয়াট্সঅ্যাপে পাঠানো হয় না। সরকারের এ রকম কোনও হোয়াট্সঅ্যাপ নম্বর নেই। প্রথমত, এটা মাথায় রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, এই ধরনের লিঙ্কে ক্লিক বা এপিকে ফাইল কখনওই ইনস্টল করা উচিত নয়। যে নম্বর থেকে এ সব পাঠানো হয়, সোজা ব্লক করে দেওয়া দরকার। এই ধরনের প্রতারণা ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রেও হতে পারে। সেখানেও সাবধান থাকা দরকার।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.