১২ আশ্বিন  ১৪২৭  বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সব রাজ্যকে এক হওয়ার ডাক মুখ্যমন্ত্রীর

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 24, 2016 8:51 am|    Updated: June 24, 2016 8:51 am

An Images

স্টাফ রিপোর্টার: বিস্ফোরক তথ্য দিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ আগামী পাঁচ বছরে ২ লক্ষ ৫৩ হাজার কোটি টাকা দেনা শোধ করতে হবে বাংলার সরকারকে৷ গত পাঁচ বছরে সুদ সমেত প্রায় দেড় লক্ষ কোটি টাকা দেনা শোধ করেছেন৷ কেন্দ্রের ঋণের বোঝার উপর সুদ চেপে আগামী পাঁচ বছরে তার পরিমাণ আরও এক লক্ষ টাকা বেশি৷ এত টাকা দেনা শোধ করতে হলে উন্নয়ন হবে কবে? বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এই তথ্য দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মমতা৷ মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, বাংলার মতো অন্য রাজ্যগুলিরও একই অবস্থা৷ কেন্দ্র এবার তাদের দিকে নজর দিক৷ মমতার উদ্বেগ, “না হলে ডেথ ট্র্যাপে পড়বে রাজ্যগুলি৷ ভেঙে পড়বে দেশের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো৷” একইসঙ্গে এফডিআইয়েরও বিরোধিতা করেন মমতা৷

বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভায় রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর ভাষণের উপর ছিল জবাবি ভাষণ৷ বক্তৃতা দিতে উঠে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন জানিয়ে মমতা বলেন, সব রাজ্যের প্রতিনিধিদের আহ্বান করা হোক৷ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদেরও ডাকা হোক৷ বাংলার মতো অন্য রাজ্যগুলিও ঋণভারে মৃত্যুফাঁদে পড়বে৷ তাঁর কথায়, “নতুন পরিকল্পনা করতে হবে৷ ভাবতে হবে টাকা কোথা থেকে আসবে৷ এটা সিরিয়াস সমস্যা৷ সব ক’টা রাজ্য ডেথ ট্র্যাপে পড়েছে৷ বাংলা, কেরল, পাঞ্জাব তো ছিলই৷ এখন বাকি রাজ্যগুলিও মৃত্যুমুখে চলে যাচ্ছে৷ এতে ফেডারেল স্ট্রাকচার নষ্ট হয়ে যাবে৷” মমতার আহ্বান, “সবাইকে ভাবতে হবে৷ কোনও সরকারই একসঙ্গে সব দেনা শোধ করতে পারে না৷ রিস্ট্রাকচারিং হচ্ছে না৷ দেনা লফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে৷”

এর আগে হাওড়ায় প্রশাসনিক বৈঠকেও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ এদিন সরাসরি রাজ্যগুলির অর্থনৈতিক কাঠামোর দুর্বল অংশ চিহ্নিত করে মমতা বলেন, “এখনই যদি এই সমস্যার সমাধান না হয়, তবে তা বেড়েই চলবে৷ আমরা হারিয়ে যাব৷ রাজ্য ভাল না থাকলে কেউ ভাল থাকবে না৷” তাঁর কথায়, আমি শুধু বাংলার কথা বলছি না৷ সারা দেশে যত রাজনৈতিক দল আছে প্রত্যেককে আহ্বান করছি৷ এর আগে বারবার কেন্দ্রীয় সরকারকে বলেছি৷ আমাদের রাজনৈতিক বিরোধ থাকতে পারে৷ কিন্তু আর্থিক প্রতিবন্ধকতা থাকলে তো রাজ্যগুলো মুখ থুবড়ে পড়বে৷ বিরোধীদের উদ্দেশে মমতার বক্তব্য, “এটা প্যাকেজের ব্যাপার নয়৷ মার্কেটিংয়ের ব্যাপার নয়৷ বাস্তবটা বুঝতে হবে৷ বাংলাকে লিড করে সবাইকে ডেকে আনুন৷ একটা তর্কসভার আয়োজন করুন৷ সবাইকে ডাকুন, বোঝান৷”

বিধানসভায় এদিনও ওষুধ, কৃষিজাত সামগ্রী-সহ উত্পাদনের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগের বিরোধিতা করেন মমতা৷ আফ্রিকা থেকে ওষুধ রফতানি করলে তার দাম হবে এক হাজার টাকা৷ দেশের গরিব মানুষ কি তবে ওষুধ কিনতে পারবে না? একইসঙ্গে দেশের উৎপাদন ব্যাহত হবে বলে যুক্তি দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিদেশি বিনিয়োগ আসুক৷ আমি তার বিরোধী নই৷ কিন্তু নিজেদের ব্র্যান্ডটাও খুঁজে বের করতে হবে৷ অন্যের ব্র্যান্ডিং না করে নিজেদের ব্র্যান্ডিং করতে হবে৷” তাঁর বক্তব্য, “দেশে তো নতুন করে কিছু তৈরি করতে হবে৷ আমাদের ছেলেমেয়েরা চাকরি পাবে কী করে? আমাদের মেধাশক্তি কাজে লাগবে না৷” এ নিয়ে সংসদেও দলের সদস্যদের সরব হতে বলেন মমতা৷ এর পরই তৃণমূলের মুখপাত্র ডেরেক ও’ ব্রায়েন একটি বিবৃতি জারি করে বলেন, “ফার্মা সেক্টরে সঠিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই কেন্দ্রের নতুন এফডিআই নীতি ওষুধের দামের উপর প্রভাব ফেলবে৷ যার ফলে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষ সমস্যায় পড়বেন৷” বেসরকারি ফার্মা সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে এফডিআইয়ের সীমা বাড়িয়ে ৭৪ শতাংশ করা হয়েছে, যা ভারতীয় শিল্প, বাজার ও মানুষের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলবে বলে জানিয়েছে তৃণমূল৷ সব শেষে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের জবাবে মমতা বলেন, আলু, পিঁয়াজ, টম্যাটো, লঙ্কার মতো সবজির দাম নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে সরকার৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement