BREAKING NEWS

৪ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

২৪ আগস্টই কি কলকাতার জন্মদিন?

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: August 24, 2016 1:51 pm|    Updated: August 24, 2016 1:51 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক:

‘তিন শতকের শহর

তিন শতকের ধাঁধা

সুতানুটির পাড়ে নেমে

এল সাহেবজাদা’

সাহেবজাদার এই ভূ-খণ্ডে পা রাখাকে মনে করেই ধার্য করা হয়েছে কলকাতার জন্মদিন৷ কিন্তু তার মানে এই নয় যে চার্ণক সাহেব আসার আগে পর্যন্ত কলকাতা ছিল না৷ বরং বিপ্রদাস পিপ্লাইয়ে মনসামঙ্গল কাব্যে প্রক্ষিপ্ত অংশে ছিল কলিকাতার উল্লেখ৷ তা রচনাকালের বহু পরে সাহেব পা রেখেছিলেন এই শহরে৷ কিন্তু ২৪ আগস্টই যে চার্ণক প্রথমবার পা রেখেছিলেন এমনটা কিন্তু নয়৷ বরং ইতিহাসবিদরা সাল তারিখ মিলিয়ে দেখছেন এটি হল তাঁর তৃতীয়বার সুতানুটিতে আসার দিন৷ আসলে চার্ণকের কাজকর্মের জন্যই কলকাতার জন্মদিন নিয়ে আদতে বেশ ধোঁযাশা তৈরি হয়েছে৷

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাশিমবাজার কুঠিতে বেতনভুক কর্মচারী হিসেবে কাজ শুরু করেন চার্ণক৷ সে সময় হুগলিতে বেশ কিছুদিন কাটিয়ে তিনি পাটনায় চলে যান৷ সেখানে চাকরি করেন প্রায় বহুদিন৷ কোম্পানির পাটনা কুঠির অধ্যক্ষও হয়েছিলেন তিনি৷ কাশিমবাজার রেশম চালান কুঠির অধ্যক্ষও হয়েছিলেন তিনি৷ কিন্তু সাহেবের ছিল নারীঘটিত বদনাম৷ টাকাপয়সা নিয়ে নানা অসঙ্গতিতেও নাম জড়ায় তাঁর৷ ফলে আবার হুগলি কুঠিতে ফিরে আসেন৷ কিছুদিন পর বাংলার এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ করা হয় তাঁকে৷ সেই সময় বাংলার সুবেদার ছিলেন শায়েস্তা খাঁ৷ তাঁর সঙ্গে ইংরেজদের খিটিমিটি লেগেই থাকত৷ ফলে আত্মরক্ষার্থে সাহেব কিছু গোলা বারুদের বন্দোবস্ত করেন৷ কিন্তু একদিন সে বারুদ মোঘলদের উপর প্রয়োগ করেই সাহেব পলাতক হন৷ হুগলির বালেশ্বরে থাকা সুবিধা নয় জেনেই, হুগলি নদীর পূর্ব পাড়ের এক নিরিবিলি জায়গা খুঁজে নেন বসবাসের জন্য৷ সুতানুটিতে সেই চার্ণকের প্রথম পদার্পণ৷

কিন্তু ফের মোঘলদের সঙ্গে বিবাদের জেরে তিনি চলে যান হিজলিতে৷ কিন্তু ততদিনে ঔরঙ্গজেব অসন্তুষ্ট শায়েস্তা খাঁর উপর৷ তাঁকে শায়েস্তাও করেছেন৷ ফলে দ্বিতীয়বার আবার সুতানুটিতে ফেরেন চার্ণক৷ কিন্তু মুঘলদের সঙ্গে বারবার বিবাদে জড়িয়ে পড়ার ফলে কোম্পানি তাঁকে মাদ্রাজ পাঠিয়ে দেয়৷ এদিকে ইংরেজরা বাংলা ছেড়ে চলে যাচ্ছে দেখে ঔরঙ্গজেবও শায়েস্তার বদলে ইব্রাহিম খাঁকে সুবেদার করে দেন৷ তখনই বার্ষিক ৩০০০ টাকা শুল্কের বিনিময়ে ইংরেজরা ব্যবসা করার অনুমতি পায়৷ ফলত ফের সুতানুটি আসেন চার্নক৷ সেটা ১৬৯০ সালের ২৪ আগস্ট৷ এই দিনটিকেই, অর্থাৎ তৃতীয় পদার্পণকেই কলকাতার জন্মদিন হিসেবে ধরা হয়৷

কিন্তু আসলে কলকাতায় এসেছিলেন গোল্ডসবেরা সাহেব৷ চার্ণকের আচমকা মৃত্যুর পর এলিস সাহেব তাঁর দায়িত্ব পূরণ করেন৷ কিন্তু তিনি কোম্পানির খুব একটা ভরসার পাত্র ছিলেন না৷ ফলে ডাক পড়ে গোল্ডসবেরা সাহেবের৷ সুতানুটিকে তাঁর মনে ধরেনি৷ তিনিই পাট চুকিয়ে চলে আসেন কলিকাতা বা কলকাতায়৷ এরপর কুঠির প্রধান হয়ে আসেন চার্ণকের জামাই চার্লস আয়ার৷ মূলত তাঁর আমলেই সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের থেকে ১৩০০ টাকার বিনিময়ে তিনটি গ্রামের প্রজাস্বত্ত কিনে নেন ইংরেজরা (১৬৯৮)৷

অর্থাৎ কলকাতা চার্ণকের আগেও ছিল৷ কিন্তু কলকাতার কোনও নির্দিষ্ট জন্মদিনে পৌঁছতে পারেননি ইতিহাসবিদরা৷ এ নিয়ে এক মামলা করে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার৷ সেই মামলার প্রেক্ষিতে কলকাতা হাই কোর্ট এক বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেন৷ তাঁদের মত অনুসারেই সেই মামলার রায়ে জানানো হয় যে, কলকাতার কোনও নির্দিষ্ট জন্মদিন নেই, কোনও প্রতিষ্ঠাতাও নেই৷ তবু জোব চার্ণকের সুতানুটিতে পদার্পণের দিন হিসেবে ২৪ আগস্টকেই কলকাতার জন্মদিন হিসেবে পালন করা হয়৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement