স্টাফ রিপোর্টার: ‘এক লাখ টাকা না দিলে মা ওঁরা আমাকে পুড়িয়ে মারবে বলেছে। আমাকে খুব মারধর করছে মা। প্লিজ বাঁচাও।’ গত ৩০ অক্টোবর সন্ধ্যে সাত’টা নাগাদ বিহারে মাকে ফোন করে বলেছিল ফুলবাগানের গৃহবধূ পিঙ্কি মালিক। সেই ছিল শেষ ফোন। তারপরের ফোনটা গিয়েছিল ফুলবাগান থেকেই। তবে মেয়ের এক প্রতিবেশীর। মা ফোন ধরতেই বলেছিল, ‘আপনার মেয়ে পুড়ে গিয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চলে আসুন।’
[এটিএমে আটকে টাকা, মেশিন আগলে দীর্ঘ অপেক্ষা গ্রাহকের]
খোদ কলকাতাতেই এবার পণের দাবিতে গৃহবধূকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ। অভিযোগ, দিনের পর দিন টাকা চেয়ে অত্যাচার চলত। ৩০ অক্টোবর তা মাত্রা ছাড়ায়। সেদিন রাতে পিঙ্কির গায়ে আগুন লাগিয়ে তাঁকে খুন করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওইদিন মাঝ রাতে তাঁকে এম আর বাঙুর হাসপাতালে ভরতি করা হয়। প্রায় ৮০ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল শরীরের। চিকিৎসকরা অনেক চেষ্টা করেও তাঁকে বাঁচাতে পারেননি। পরিবারের অভিযোগ, পণের দাবিতে পিঙ্কিকে পুড়িয়ে মেরেছে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বিয়ের পর থেকেই অত্যাচার চালাত স্বামী-শ্বশুর এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। নানা সময়ই টাকা চেয়ে চাপ দেওয়া হত। না দিতে পারলেই প্রাণে মারার হুমকি দিত। গত ৩০ অক্টোবরের পরই পিঙ্কির পরিবারের তরফে ফুলবাগান থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু পরিবারের দাবি, সেই সময় পুলিশ বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়নি। সোমবার সকালে পুলিশ স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে আটক করেছে।
পরিববারসূত্রে খবর, ২০১০ সালে বিহারের বাসিন্দা পিঙ্কির সঙ্গে বিয়ে হয় ফুলবাগান কাদাপাড়ার বাসিন্দা সাজন মালিকের। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই ওই গৃহবধূর উপর অত্যাচার চালাত স্বামী। কখনও এক লক্ষ, কখনও দুই লক্ষ টাকা চাইত বলে অভিযোগ, না দিলেই চলত অকথ্য অত্যাচার। পিঙ্কির চার সন্তান। মায়ের উপর অত্যাচার চালাত বাবা, দাবি মৃতার সন্তানদেরও। অভিযোগ, কোনওদিনই শ্বশুর বাড়িতে সুখের মুখ দেখেনি পিঙ্কি। ২০১৫ সালে সালিশি করিয়ে মিটিয়ে ফেলারও চেষ্টা হয়। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। ৩০ তারিখ চরম পরিণতি নেমে আসে তাঁর উপর। মৃতের প্রতিবেশীদের দাবি, ওইদিন রাতে চিৎকার চেঁচামেচি শুনে রাত ১২টা নাগাদ বাইরে বেরিয়ে তাঁরা দেখেন অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় ওই গৃহবধূকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে তাঁর দেওর। তখনই তাঁরা ফোনে পিঙ্কির বাপের বাড়ির লোককে বিষয়টি জানান।
[নোট বাতিলের বর্ষপূর্তিতে টুইটার ‘ডিপি’ কালো করার ডাক মুখ্যমন্ত্রীর]
প্রায় পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর রবিবার রাতে মারা যান তিনি। যদিও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, ওইদিন রাতে সকলে যখন শুয়ে পড়েছিল, সেই সময় ছোট ছেলের জন্য দুধ গরম করতে যান পিঙ্কি। তখন রান্নাঘরেই গ্যাস থেকে তাঁর গায়ে আগুন ধরে যায়। স্বামী সাজন তাঁকে বাঁচাতে গেলে তাঁর হাতও পুড়ে যায়। কোনও অত্যাচার তাঁর উপর করা হত না। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। মৃতের শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।
সর্বশেষ খবর
-
স্কটিশ চার্চে অভিনব উদ্যোগ, চালু হল বিনামূল্যে ডেটা সায়েন্স ও সংবাদ পাঠের কোর্স
-
ভারতের রাষ্ট্রপতি কে? সাধারণ জ্ঞান নিয়ে আলিয়াকে খোঁচা! ‘আলফা’ জবাব কাপুরবধূর
-
দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে বিশ্বকাপ নকআউটে জয়, বাঁধনভাঙা উচ্ছ্বাসে দমবন্ধ হয়ে মৃত ৩ সমর্থক
-
‘মেসি আরও গোল করুক, বিশ্বকাপটা আমার চাই’, ফ্রান্সকে শেষ ষোলোয় তুলে হুঙ্কার এমবাপের
-
‘যদি অর্থের লোভ থাকত…’, অভয়ার বাবার প্রণামী বাক্স ‘দখলের চেষ্টা’ নিয়ে কী বললেন রত্না দেবনাথ?