পুজো প্রায় এসেই গেল৷ পাড়ায় পাড়ায় পুজোর বাদ্যি বেজে গিয়েছে৷ সেরা পুজোর লড়াইয়ে এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায়৷ এমনই কিছু বাছাই করা সেরা পুজোর প্রস্তুতির সুলুকসন্ধান নিয়ে হাজির Sangbadpratidin.in৷ আজ পড়ুন দমদম পার্ক তরুণ সংঘের পুজো প্রস্তুতি৷
শুভময় মণ্ডল: ইতিহাস সাক্ষী আছে, ভারতে জাতপাত ও নিম্নবর্ণের দোহাই দিয়ে বরাবর প্রান্তিক মানুষদের পূজার্চনা, উপাসনা থেকে দূরে রাখা হত। তখন প্রান্তিক মানবগোষ্ঠীগুলি নিজস্ব ভাবনায় নিজেদের ধর্মীয় অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে বিভিন্ন শিল্পকলার আশ্রয় নিত। এইভাবেই প্রায় ৩০০ বছরেরও বেশি পুরনো এক চিত্রশৈলি জীবন্ত হয়ে আছে গুজরাটের ভার্গিস জনজাতির হাত ধরে। আদ্যন্ত যাযাবর সেই জনজাতির চিত্রকলার নাম ‘মাতা-নি-পাছেড়ি’। একসময় যখন জাতপাতের দোহাই দিয়ে তাদের মন্দিরে প্রবেশ থেকে বিরত রাখে সমাজের উচ্চবর্ণের ধ্বজাধারীরা। তখনই এই চিত্রশৈলির আশ্রয় নেন তাঁরা। কিন্তু বর্তমানে সেই শিল্প অস্তিত্ব সংকটের মুখে। চিতারা উপাধিধারী জনজাতির হাত ধরেই বেঁচে রয়েছে এই শিল্প। এবার সেই তিন শতকের পুরনো চিত্রশৈলিই জীবন্ত হয়ে উঠবে শহরের পুজোয়। দমদম পার্ক তরুণ সংঘের পুজোমণ্ডপ এবছর সেজে উঠবে ‘মাতা-নি-পাছেড়ি’ শিল্পকলায়। সৃজনে বিখ্যাত থিমমেকার শিল্পী গোপাল পোদ্দার, যাঁর ভাবনা-পরিকল্পনায় দেশের বহু পুরনো শিল্পকলা বারবার উঠে এসেছে বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে। তাঁর হাত ধরেই এবার ৩২তম বর্ষে গুজরাটের এই অনন্য শিল্পকলায় সেজে উঠছে তরুণ সংঘের পুজো।

গুজরাটের আমেদাবাদ, সৌরাষ্ট্র, জম্বুসারের মতো এলাকায় আজও ছড়িয়ে আছেন এই চিত্রকররা। অস্থায়ী ঠিকানায় ছড়িয়ে থাকা চিতারা জনগোষ্ঠীর সেই শিল্পীরা কাপড়ের উপর ফুটিয়ে তোলেন দেবী দুর্গার মহিমা। শুধুমাত্র প্রাকৃতিক রঙের ব্যবহারে ফুটিয়ে তোলা হয় এই শিল্পকর্ম। মূলত, লাল ও কালো রঙের ব্যবহার করা হয় চিত্রপটে। লাল হল ধরিত্রী ও কালো অশুভ শক্তির প্রতীক। আয়তাকার ছবিগুলি জড়ানো পটের মতো, ছবির বিষয় বিভক্ত থাকে সাত বা নয় ভাগে| প্রত্যেকটা ভাগ এক একটি আলাদা দেবীর বা সামাজিক গল্প তুলে ধরে। পুরোটাই থাকে মাতৃমূর্তির পিছনদিকে, তাই এই শিল্পের নাম ‘মাতা-নি-পাছেড়ি’। বিশালাকার দেবীমূর্তি ছবিটির কেন্দ্রস্থলে তার বাহনের ওপর অধিষ্ঠিত থাকেন আর তাকে ঘিরে আবর্তিত হয় এই জনজাতির লোককথা, লোকাচার ও মহাকাব্য| এই জনজাতির মতোই প্রতিটি ছবির প্রান্ত রেখাটি অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও ঋজু। এই চিত্রশৈলীতে বর্ণিত মাতা দুর্গা পূজিত হন এই জনজাতির সর্বময় রক্ষাকর্তী রূপে| হিন্দু পুরান অনুযায়ী, দেবী দূর্গা ৬৪ রূপে পূজিত হন আর এই ৬৪ রূপের বর্ণনা চিত্রকলায় ফুটিয়ে তোলেন চিতারা শিল্পীরা। শিল্পী গোপাল পোদ্দারের পরিকল্পনায় ও সৌরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত সঞ্জয় মনুভাই চিতারার সৃজনে গোটা মণ্ডপে এই চিত্রপট চোখে পড়বে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আনা প্রায় ছয় প্রজাতির বাঁশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে এই মণ্ডপটি। সারা পৃথিবীতে বাঁশের ব্যবহার সৌভাগ্য ও শক্তির প্রতীক হিসেবে মান্যতা পায়। তাই মূল প্রবেশদ্বারের সামনে বাঁশ দিয়ে একটি সূৰ্য্যতোরণ তৈরি করা হচ্ছে। যা প্রকৃতি মাতা ও শুভ শক্তির প্রতীকের বিচ্ছুরণ| মাতা-নি-পাছেড়ির লাল ও কালো রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূলমণ্ডপটি তৈরি হয়েছে ওড়িশার লাল রঙের ঝামা পাথরে। প্রতিমাতেও রয়েছে বৈচিত্র। গোপাল পোদ্দারের ভাবনায় প্রতিমা গড়ছেন ওড়িশার বিখ্যাত মৃৎশিল্পী শ্রীধর মহারাণা। প্রতিমাতে গুজরাটি ও ওড়িশার লোকশিল্পর মিশ্রণ দেখা যাবে। তবে চমক আরও আছে। আবহ সংগীতেই রয়েছে সেই চমক। বিখ্যাত গুজরাটি লোকসংগীত শিল্পী মুরালালা মারওয়াড়ার নাম এখন ইউটিউব-সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে গোটা দেশই জানে। তাঁর কন্ঠে গাওয়া একটি জনপ্রিয় লোকসংগীত বাজবে মণ্ডপে। একইসঙ্গে পুজোর সময় তিনদিক খোলা একটি ইটের মঞ্চে লোকসংগীতের মূর্ছনায় দর্শককে আবিষ্ট করবেন মুরালালা। আলোর দায়িত্বে রয়েছেন দীপঙ্কর। গতবছর থিমমেকার অমর সরকারের সৃজনে দশে মিলে শুভশক্তির সূচনায় মেতেছিল তরুণ সংঘ৷ এবার গুজরাটের তিন শতকের পুরনো মাতা-নি-পাছেড়ি শিল্প পুজোপ্রেমীদের কতটা মনে ধরে সেটাই দেখার।

কেমন চলছে পুজোর প্রস্তুতি. দেখুন ভিডিওয়-
সর্বশেষ খবর
-
দুই ‘সেরা’ গোলের ম্যাচে বাজিমাত ‘গোলদস্যু’ হালান্ডের, প্রি কোয়ার্টারে ব্রাজিলের সামনে নরওয়ে
-
বাড়িতে পাথর ছুড়ছে দুষ্কৃতী! সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে তোপ অভিষেকের
-
ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপ প্রধানমন্ত্রী মোদির, কী কথা হল, চাপ বাড়বে ট্রাম্পের?
-
নীচু জাত! কলেজের অশিক্ষক কর্মীকে নির্যাতন, ঘরে ঢুকতে বাধা অধ্যক্ষার! বিতর্ক পুরুলিয়ায়
-
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সস্ত্রীক দিলীপ ঘোষের সাক্ষাৎ, উপহার আম ও সন্দেশ! কী কথা হল?