বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা! কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনারের অফিসেই বিপুল টাকা তছরূপের অভিযোগ। ১১২টি জাল বিল তৈরি করে কলকাতা পুলিশের ৫১ লাখ টাকা হাতানোর অভিযোগ উঠেছে এক সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, প্রায় চার বছর ধরে কলকাতা পুলিশের ইস্ট ডিভিশনের সদর দপ্তর ডিসি (ইস্ট) ডিভিশনেই ঘটে চলেছে এই ঘটনা। পুলকেন্দু ঘোষ নামে আপার ডিভিশন অ্যাসিস্ট্যান্টের এই কীর্তি সামনে আসে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর। সরকারি অ্যাকাউন্টের বদলে ভুয়া বিল ব্যবহার করে নিজের দু’টি অ্যাকাউন্টে ওই বিপুল টাকা পাঠিয়েছেন ওই আধিকারিক। লালবাজার এই ব্যাপারে প্রাথমিক তদন্তের পর পূর্ব কলকাতার আনন্দপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করে। তারই ভিত্তিতে পুলকেন্দু ঘোষকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে সূত্রের খবর।
পুলিশ জানিয়েছে, এই বিপুল টাকা তছরূপের ব্যাপারে লালবাজারের কাছে অভিযোগ আসে। গত মাসে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (সদর) এই ব্যাপারে তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন। ডিসি (ইডি)-র নির্দেশে পুলিশের একটি টিম গত ১৫ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত টানা এই ব্যাপারে তদন্ত করে। অভিযোগ ওঠে, ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অভিযুক্ত পুলকেন্দু ঘোষ ১১২টি জাল বিল তৈরি করেন। এর মধ্যে ৮৮টি ভুয়ো বিল দেখিয়ে তিনি ৪০ লাখ ৩৩ হাজার ২৯০ টাকা নিজের নামে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠান। বাকি ২৪টি ভুয়ো বিলের মাধ্যমে ১০ লাখ ৬৮ হাজার ২৫৫ টাকা ‘হাতিয়ে’ পাঠানো হয় অন্য একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে, যেটি রয়েছে পুলকেন্দুর মায়ের নামে। লালবাজারের সূত্র জানিয়েছে, পুলকেন্দুর উপর ঠিকাদার ও বিভিন্ন সরবরাহকারীদের বিল তৈরি করে সেই বিপুল টাকা দেওয়ার দায়িত্ব ছিল। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই তিনি চার বছর ধরে ওই ৫১ লাখ টাকার ভুয়ো বিল তৈরি করে তা পাস করিয়ে নেন।
আরও পড়ুন:
লালবাজার জানিয়েছে, তদন্ত শুরুর পর ডেটাবেসেও বেশ কিছু কারচুপি সামনে আসে। জানা যায়, এইচআরএমএস সিস্টেম থেকে অভিযুক্ত ওই আধিকারিক আসল ঠিকাদার ও সরবরাহকারীদের ডেটাবেস, যেখানে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য ছিল, তা উড়িয়ে দেন। ফলে এই সিস্টেমে তাঁদের রেকর্ড আর থাকে না। অনেক সময়ই তাঁদের নাম সিস্টেমে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। ওই ঠিকাদার ও সরবরাহকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের জায়গায় পুলকেন্দু নিজের ও তাঁর মায়ের অ্যাকাউন্ট দিয়ে দেন। এমনভাবে তা দেওয়া হয়েছিল যে, চার বছরেও জালিয়াতি ধরা পড়েনি। পুরো টাকা জমা পড়তে শুরু করে পুলকেন্দুর নিয়ন্ত্রিত দু’টি অ্যাকাউন্টেই। যদিও বিল তৈরি করা হত ওই সরকারি ঠিকাদার ও সরবরাহকারীদের নামেই। তার জন্য তাঁদের ভুয়ো স্ট্যাম্প, জাল নথি তৈরি করা হয়। এই ভুয়ো বিলগুলি পুলিশ উদ্ধারও করেছে।
ইস্ট ডিভিশনের ওই দপ্তরের অন্য আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ আধিকারিকরা জানতে পারেন যে, পুলকেন্দু এতটাই ‘অবাধ্য ও অহংকারী’ ছিলেন যে, তাঁকে প্রশ্ন করার সাহস কেউ পেতেন না। তদন্তের সময় চারটি ঠিকাদারি সংস্থার কর্ণধারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁরা জানান যে, তাঁদের বিল মেটানো হয়নি। অথচ তদন্ত করে দেখা যায়, তাঁদের পাওনা বিলের টাকা পুলকেন্দু ও তাঁর মায়ের অ্যাকাউন্টেই গিয়েছে। যেহেতু পুলকেন্দু নিজের দপ্তরে সবথেকে উচ্চপদস্থ ছিলেন, তাই কেউ তাঁকে প্রশ্ন করেননি। জেরার মুখে তিনি টাকা তছরূপের বিষয়টি স্বীকারই করে নেন। যদিও তদন্তে কয়েকজন পদস্থ আধিকারিকের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সর্বশেষ খবর
-
টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড, ইংল্যান্ডকে হেলায় হারিয়ে সাতবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান অস্ট্রেলিয়া
-
টোটোতে অ্যাম্বুল্যান্সের ধাক্কা, চালকের হাত কেটে পড়ে গেল রাস্তায়! ভয়ংকর কাণ্ড দুর্গাপুরে
-
বদ্রীনাথে অনুদান চুরির তদন্তে চার সদস্যের কমিটি, সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট তলব
-
বাথরুমে লুকিয়ে দাড়ি কাটছেন স্ত্রী! ৩ বছর সংসারের পর এ দৃশ্যে স্তম্ভিত স্বামী, তারপর…
-
বারুইপুরের নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা মমতার, বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন নিয়ে ক্ষোভ