Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
Cigarette Price

তামাকশিল্পে অস্থিরতা, বাজেটের পরও কলকাতায় সিগারেটের দেদার কালোবাজারি

কোম্পানির দাম বাড়ার আগেই অতিরিক্ত দাম ধরে নিয়ে কালোবাজারি সিগারেটের বাজারে। এরই মধ্যে পাশের রাজ্য ওড়িশা তামাকজাত পানমশলা ও সিগারেটের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

তরুণকান্তি দাস
তরুণকান্তি দাস

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ১৬:৩৬

link
তরুণকান্তি দাস
তরুণকান্তি দাস

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ১৬:৩৬

options
link
তামাকশিল্পে অস্থিরতা, বাজেটের পরও কলকাতায় সিগারেটের দেদার কালোবাজারি zoom
বাজেটের পরেও এখনও চলছে সিগারেটে কালোবাজারি
Advertisement

বাড়তি শুল্ক (জিএসটি) লাগু ফেব্রুয়ারি থেকে। কিন্তু তার আগে পুরো জানুয়ারি মাস ধরে অস্থিরতা দেখল তামাক শিল্প, আরও স্পষ্ট করে বললে সিগারেট ও পানমশলার বাজার। সেই  অস্থিরতা কার্যত এখনও অব্যাহত। 

বাজেটে বাড়ল সিগারেটের দাম (Cigarette Price)। তারও আগে কোম্পানির দাম বাড়ার আগেই অতিরিক্ত দাম ধরে নিয়ে কালোবাজারি চলেছে সিগারেটের বাজারে। এরই মধ্যে পাশের রাজ্য ওড়িশা তামাকজাত পানমশলা ও সিগারেটের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আর টোবাকো ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া খোলা বাজারে সিগারেটের বাড়তি দাম (প্রিন্টেড প্রাইসের বেশি) নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, প্রচুর অভিযোগ জমা পড়েছে এই বিষয়ে। শুধু ছোট বিক্রেতারা নন, বড় পরিবেশকরা কালোবাজারিতে যুক্ত। পাশাপাশি এই শুল্ক লাগু নিয়ে ঘরে বাইরে সমালোচনার মুখে মোদি সরকার। টোব্যাকো বোর্ডের চেয়ারম্যান যশবন্তকুমার চিডিপথু বিজেপিরই সাংসদ। তিনি সরাসরি কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে বলেছেন, এতে সিগারেট ও তামাক শিল্প কালোবাজারির পথে হাঁটবে। শুধু তাই নয়, মায়ানমার ও নেপালের সিগারেট বেআইনিভাবে দেশের বাজারে ঢুকে এখানকার শিল্পকে চ্যালেঞ্জ করবে। ফলে ক্ষতির মুখে পড়বে ভারতীয় বাজার।

Advertisement

এখনই নেপাল ও মায়ানমারের সিগারেট উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি দাপাচ্ছে। শিলিগুড়িতেও মেলে নেপালের সিগারেট। কড়া তামাকের ওই সিগারেটে আসক্ত অনেকেই। এখন ভারতে তামাকজাত পণ্যে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে জিএসটি ২৮% হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে অতিরিক্ত কমপেনসেসন সেস এবং কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক। অন্যদিকে, বিড়ির ওপর জিএসটি হার কমিয়ে ১৮ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে। ফলে এখন এক প্যাকেট সিগারেট (১০টি) তৈরি করে বাজারে ছাড়তে মোটামুটি ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি বরাদ্দ করতে হবে কোম্পানিগুলিকে। শিল্পের সঙ্গে যুক্তরা বলছেন, সবচেয়ে কমদামি পাঁচ টাকার সিগারেট কমপক্ষে ৬ টাকায় গিয়ে দাঁড়াবে। আর দামি সিগারেট হবে অনেক বেশি দামি। তাই এখনই অনেক ক্রেতা প্রচুর সিগারেট কিনে রাখতে গিয়ে ছ্যাঁকা খাচ্ছেন। কারণ, দোকানদাররা নিজেদের মতো করে এখনই বাড়তি দাম চাইছেন। 

কলকাতার সিগারেট পরিবেশক গৌরধনদাস অ্যান্ড কোম্পানির এক কর্তা বলেন, কিছু দোকানদার কালোবাজারি করছেন তা ঠিক। তবে জিএসটি লাগু করায় যে পরিমাণ দাম বাড়বে, তার ভয়ে অনেকে বাড়তি সিগরেট কিনে রাখছেন। সেটাই সমস্যা।” তামাকজাত বিভিন্ন রোগ, বিশেষ করে ক্যানসারের সম্ভাবনা কমাতে এর ব্যবহারে লাগাম টানতেই এই মাত্রাতিরিক্ত জিএসটি চাপানো হয়েছে বলে কেন্দ্রের দাবি। কিন্তু এতে করে এই শিল্পের শেয়ার বাজারেও ধস নেমেছে।

কলকাতার সিগারেট পরিবেশক গৌরধনদাস অ্যান্ড কোম্পানির এক কর্তা বলেন, কিছু দোকানদার কালোবাজারি করছেন তা ঠিক। তবে জিএসটি লাগু করায় যে পরিমাণ দাম বাড়বে, তার ভয়ে অনেকে বাড়তি সিগরেট কিনে রাখছেন। সেটাই সমস্যা।”

আইটিসির শেয়ারের দামে ব্যাপক ধস নেমেছে। অন্য তামাকজাত পণ্যের সংস্থার শেয়ারও নেমেছে। কিন্তু ফেব্রুয়ারির দু’তারিখ গড়ালেও বাজারে নতুন দামের প্রিন্ট-ওয়ালা সিগারেট বা পানমশলা, তামাকের প্যাকেট আসেনি। বরং পুরনো সিগারেট বিকোচ্ছে বাড়তি দামে। প্যাকেট পিছু পাঁচ থেকে দশ টাকা বাড়তি নেওয়া হচ্ছে। কলকাতায় বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউটররা পুরনো দামে প্রচুর সিগারেট, পান মশটা স্টক করে কালোবাজারি করছেন বলে অভিযোগ। এদিকে শেয়ার বাজারে যে ধস নেমেছে, তা শুধরে যাওরা খুব বড় কোনো লক্ষ্মণ নেই। সোমবার বাজার আরও নেমেছিল। বিকেলের পর তা কিছুটা শুধরোয়। বিড়ির জিএসটি কমালেও তার দাম কমবে সেই ইঙ্গিত নেই বাজারে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.