অর্ণব আইচ: কলকাতায় কোকেন কারবারে আবারও উঠে এল নাইজেরিয়ান যোগ। নাইজেরিয়ান ফুটবলারের পর এবার কোকেন সমেত ধরা পড়ল এক নাইজেরিয়ান ফুটবল কোচ। এম্মানুয়েল নামে ওই প্রাক্তন ফুটবলারকে মঙ্গলবার রাতে ১০ গ্রাম কোকেন সমেত পাকড়াও করেছে লালবাজারের গোয়েন্দা শাখা। লালবাজার সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক অতীতে যে ক’জন নাইজেরিয়ান কোকেন পাচারকারী গ্রেপ্তার হয়েছে, তাদের মাথা এই এম্মানুয়েল। বিদেশ থেকে কোকেন আমদানি করে রাজ্যে খেলতে আসা বহু ফুটবলারকে কোকেন সাপ্লাই দিত সে। তদন্তে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা।
চলতি বছরের মার্চ মাসে কেলভিন চিনেডু নামে এক ফুটবলারকে কোকেন সমেত গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ধৃতকে জেরা করে তারা জানতে পারে, আর এক ফুটবলারের কাছ থেকে কোকেন কিনত সে। সেই কোকেন ‘সাপ্লায়ার’-এর খোঁজ করতে শুরু করেন তদন্তকারীরা। সেই তদন্তে উঠে আসে এম্মানুয়েলের নাম। এর পর কলকাতা বিমানবন্দর থেকেও এক নাইজেরিয়ান তরুণীকে কোকেন সমেত পাকড়াও করার পর, এম্মানুয়েলের নাম পান তদন্তকারীরা। তার সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন গোয়েন্দারা। জানা যায়, ২০০৯ সালে কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের হয়ে খেলত সে। ২০১৪ সালে গুয়াহাটি এফসি-র হয়ে খেলত। বর্তমানে গুয়াহাটির সেন্ট ক্ল্যারেট স্কুলের ফুটবল কোচ হিসাবে নিযুক্ত ছিল সে।
তবে এই মাদক পাচারকারীকে ফাঁদে ফেলাই সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল গোয়েন্দাদের কাছে। কারণ পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাক্তন এই নাইজেরিয়ান ফুটবলার খুবই চতুর। এম্মানুয়েলকে ধরার জন্য ফাঁদ পাতে পুলিশ। ক্রেতা সেজে তাকে ডাকা হয় হাজরা এলাকায়। জানা যায়, অসম থেকে কোকেন আনিয়ে সেটি বিক্রি করতে এসেছিল এম্মানুয়েল। তখনই তাকে হাতে নাতে পাকড়াও করে পুলিশ। তদন্তকারীরা ধৃতকে জেরা করে বিদেশি ফুটবলারদের লম্বা একটি তালিকা পেয়েছেন, যাদের এম্মানুয়েল কোকেন সাপ্লাই করত। সে সব ফুটবলারের বিরুদ্ধেও অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা।