কলহার মুখোপাধ্যায়, রবিন গিরি ও ব্রতীন দাস: চোখের জল যেন বাঁধ মানছে না। এমনটাও হতে পারে! কলকাতা বিমানবন্দরে তাই প্রিয়জনদের দেখে বিমানের সিঁড়িতেই আর্তনাদ শহিদ অমিতাভ মালিকের স্ত্রী বিউটি মালিকের–“পারলাম না। আমি পারলাম না ওকে ফিরিয়ে আনতে…।” এখনও যেন বিশ্বাস হচ্ছে না কোনওকিছু। স্বামীর কফিন বন্দি দেহ বারবার আঁকড়ে ধরতে চাইছেন বিউটি। মনে হচ্ছে এখনই অমিতাভ এসে ডাকবে–“মনা! কোথায় গেলে। এখনও দরজা খুলছ না কেন। দেখো আমি এসে গেছি।”
[স্কুলের খাবারে টিকটিকির লেজ, অসুস্থ ৯০ জন পড়ুয়া]
না। অমিতাভ আর ফিরবে না। শত ডাকলেও আর সে ফিরে আসবে না এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে। মাত্র ছ’মাস আগে ১৩ মার্চ, সাত পাকে বাঁধা পড়েছিলেন দু’জনে। বিয়ের পর মাত্র সাতমাস। এখনও ঘোর কাটেনি। কত স্বপ্ন। কত প্রাণবন্ত ছিল জীবন। দার্জিলিংয়ে অশান্তির পরিবেশ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে এসেছিল। কিন্তু হঠাৎ সবকিছু এভাবে শেষ হয়ে যাবে ভেবে কুল-কিনারা পাচ্ছেন না বিউটি। বিমানবন্দরে আপনজনদের দেখে তাই নিজেকে ঠিক রাখতে পারলেন না তিনি। পরিজনদের আঁকড়ে ধরে কেঁদে উঠলেন। আর্তনাদে লুটিয়ে পড়লেন বিমানের সিঁড়িতেই। অমিতাভের কফিনের দিকে তাকিয়ে তাঁর একটাই প্রশ্ন “এ হয় না। তুমি এভাবে ছেড়ে চলে যেতে পারো না।” বিমান থেকে নামিয়ে যখন শ্রদ্ধা জানাতে রাখা হয়েছিল তখনও ফের কফিন আঁকড়ে ধরে বারবার বিলাপ করেছেন বিউটি। বাড়ি ফিরে অসুস্থ শাশুড়ির কাছে গিয়ে ফের আর্তনাদ করে কার্যত জ্ঞান হারান সদ্য স্বামীহারা। মধ্যমগ্রামের শরৎকাননের আনাচে কানাচে এখন শুধুই কান্নার রোল। শোকস্তব্ধ। বিপর্যস্ত। নিষ্প্রাণ। অস্বস্তিকর। কালীপুজোর আগেই বাড়ি ফিরব বলেছিল। ফিরল তার আগেই। কিন্তু সাদা কাপড়ে মুড়ে। নিষ্প্রাণ শরীর হয়ে। সঙ্গে নিদারুণ বিষাদ আর একরাশ প্রশ্ন নিয়ে।
[শীতের দেখা নেই, বৃষ্টিতে ভেস্তে যেতে পারে কালীপুজোর আনন্দও]
এদিকে, গুলি চালিয়ে পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর অমিতাভ মালিককে হত্যার ঘটনায় নিজের ঘনিষ্ঠ মহলেই এখন কড়া তোপের মুখে ফেরার মোর্চা নেতা বিমল গুরুং। বাংলা-সিকিম সীমানায় শিরুবাড়িতে বিমল বাহিনী যেভাবে পুলিশের উপর সশস্ত্র জঙ্গি হামলা চালিয়েছে, তাতে পাহাড়জুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। শান্ত হয়ে যাওয়া পাহাড়ে নতুন করে অশান্তি তৈরির চেষ্টার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝরে পড়েছে সাধারণ পাহাড়বাসীর মধ্যে। শনিবার সকাল থেকে প্রকাশ্যেই সমালোচনায় সরব হয়েছে পাহাড়ের বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক মহল। মোর্চার বেশিরভাগ অংশ এমনিতেই বিনয় শিবিরে চলে গিয়েছে। যে ক’জন অনুগামী শেষমেশ গুরুংয়ের সঙ্গে ছিলেন, পুলিশ খুনের ঘটনার পর তাঁরাও আর এক মুহূর্ত বিমলের পাশে থাকতে নারাজ। বস্তুত সেই কারণে বিমলের সন্ধানে ‘অল আউট’ তল্লাশিতে যাওয়া পুলিশের অভিযানে পাহাড়ের সাধারণ মোর্চা সমর্থকরাও অংশ নিচ্ছেন।
[ছোট ছেলেও ফৌজে যাবে, বলছেন গর্বিত শহিদের বাবা]
সারারাত তল্লাশির পর শনিবার বেলা পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে শিরুবাড়িতে যেখানে বিমল বাহিনী পুলিশের উপর এলোপাথাড়ি গুলি চালায়, সেখান থেকে একজনকে ধরা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনও পর্যন্ত তার নাম জানাতে চায়নি পুলিশ। কালিম্পংয়ের পেডংয়ে অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনায় নারী মোর্চার সদস্য রাখী ছেত্রী ও গুরুংপন্থী বিবেক রাই নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুংকে অর্থ সরবরাহের অভিযোগে চার ব্যবসায়ীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে চলেছে সিআইডি।
সর্বশেষ খবর
-
১০ দিনের মধ্যে ১৮ জুটমিল খুলতে উদ্যোগী মন্ত্রী অর্জুন, কাজে ফেরার অপেক্ষায় সাড়ে ৭ হাজার শ্রমিক!
-
মালদহের আমের বিদেশ সফর! আকাশপথে উড়ে গেল হিমসাগর-আম্রপালিরা
-
জোড়া রেকর্ড এমবাপের, সমান গোলেও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কেন মেসির থেকে এগিয়ে ফরাসি তারকা?
-
বুকিং নিয়ে চিন্তার দিন শেষ! উত্তরবঙ্গে হোমস্টেতে বাড়ছে ঘর, পর্যটকদের সুবিধায় আসছে ‘বন্ধু’ অ্যাপ
-
গ্যাসের মূল্যে স্বস্তি আমজনতার! একধাক্কায় ১৮৩ টাকা কমল সিলিন্ডারের দাম