অর্ণব আইচ: প্রচণ্ড গরমে তাদের পছন্দ কচি ঘাস। সবুজ ঘাসেই তাজা থাকতে চায় তারা। তাই তাদের জন্য কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলায় হচ্ছে ঘাসের চাষ। এই গর্জাস গার্ল বা এক রাইডাররা আসলে কলকাতা মাউন্টেড পুলিশের ঘোড়া। প্রচণ্ড গরম হোক, শীত বা বর্ষা, যে কোনও অবস্থায় পুলিশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ডিউটি করতে হয় ওদের। পিঠে পুলিশ সওয়ার নিয়ে ময়দান জুড়ে টহল দেয় ওরা। বিশেষ করে ময়দানে যে কোনও খেলা বা ম্যাচের সময় ওদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। প্রচণ্ড গরমে রোদের মধ্যেও ছুটে বেড়াতে হয় ওদের। কিন্তু গরমের মধ্যে যে দৈনন্দিন খাবার ওদের ভাল করে রোচে না। ঘোড়াদের জন্য প্রতিদিনের বরাদ্দে রয়েছে ছোলা, ভুসি। এ ছাড়াও প্রত্যেকদিন দেওয়া হয় গাজর। কিন্তু গরম পড়লে ওদের খাওয়ার অনিচ্ছা জাগে। অথচ দৌড়াদৌড়ি করে ডিউটি করতে হলে ভাল করে না খেলেও যে চলবে না। তাদের ‘মন’ও চাঙ্গা রাখতে হবে। অশ্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীর ভাল ও চনমনে রাখতে গেলে ঘোড়াদের বেঁধে রাখলে চলবে না। অনেকটা ‘বুনো’ ঘোড়ার মতো তাদের কিছুক্ষণের জন্য ছেড়ে দিতে হবে। ওরা ঘুরে ঘুরে ঘাস খেয়ে বেড়াবে। তাতে ওদের রুচি ফিরবে। গরমে ওরা চাঙ্গাও থাকবে।
[আরপিএফ জওয়ানদের বদলিতে বেনিয়মের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে মেট্রোর নিরাপত্তা]
ময়দানে ঘাস আছে। ময়দানে ঘুরে ডিউটিও দেয় পুলিশের ঘোড়া। কিন্তু ডিউটির সময় যে তাদের মুখে খাবার তোলা বারণ। এ ছাড়াও ময়দানের ঘাস সবসময় পুলিশের ঘোড়ার পক্ষে স্বাস্থ্যকর নাও হতে পারে। ময়দানের ঘাস মাড়িয়ে জুতো পরে যাতায়াত করেন বহু মানুষ। তা থেকে যদি কোনও সংক্রমণ হয়, তবে সমস্যায় পড়তে পারে সেই ঘোড়া। তাই এমন জায়গার প্রয়োজন, যেখানে নির্বিঘ্নে চড়ে বেড়াতে পারবে পুলিশের ঘোড়া। খেতে পারবে ঘাস। তাই পুলিশের পক্ষ থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলায় মাউন্টেড পুলিশের ‘প্যাডক’কে। এই ‘প্যাডক’-এ পুলিশের ঘোড়াগুলি অনুশীলন করে। এখানেই কিছুটা জায়গা বেছে নিয়ে তৈরি করা হয়েছে ঘোড়ার চারণভূমি। এখানেই চলছে ভাল মানের এমন ঘাসের চাষ, যা ঘোড়ার প্রিয়। প্রতিদিন জল দিয়ে সেই ঘাসের যত্ন করছেন মালিরা। কিছুদিন পরই সকাল ও বিকেলে পালা করে সেই সবুজ ঘাসের ভূমিতে ছেড়ে দেওয়া হবে পুলিশের ঘোড়াগুলিকে। সেই সময় তাদের শরীরে জিন বা লাগাম কিছুই থাকবে না। কলকাতার বুকে অনেকটা ‘বুনো ঘোড়া’র মতোই তারা চড়ে বেড়াবে সেই জায়গায়। নিজেদের ইচ্ছামতো ঘাস খাবে। পুলিশ জানিয়েছে, বিকেলে গঙ্গার দিক থেকে বয়ে আসা হাওয়ায় ঘোড়াদের প্রাণ জুড়োয়। কিন্তু মে মাসের গুমোট গরমে অনেক সময়ই বন্ধ হয়ে যায় সেই হাওয়া। তখন তাদের ডিউটিতে রাশ টানা হবে। সেজন্য পুলিশ ঘোড়াদের আস্তাবলে রয়েছে বিশেষ ‘ওয়াটার কুলার’।
[দমদমের মানবিক মুখ, বালির স্তূপ থেকে সদ্যোজাতকে উদ্ধার করলেন স্থানীয় বাসিন্দারা]
সর্বশেষ খবর
-
‘তোমার বাবার টাকায় খাই?’, ৬৭ বছর বয়সে বিয়ের কথা শুনেই রেগে আগুন নীনা গুপ্তা
-
এবার সরাসরি ‘নীতুদা’র নাম নিয়ে আক্রমণ! ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের জন্যও বিস্ফোরক বার্তা অস্কারের
-
ব্রিকসে যোগ দিতে চায় পাকিস্তানও, সমর্থন চিনের! কী পদক্ষেপ নয়াদিল্লির?
-
ঝাড়খণ্ডের ব্যবসায়ী খুনে চাঞ্চল্যকর মোড়! লোকেশনের তথ্য দিতেন কলকাতার ট্রাফিক সার্জেন্ট
-
উদয়পুর-তালসারির বনাঞ্চলে ওরাংওটাং উদ্ধারে দিঘা যোগ, হোটেল থেকে আটক ৩