অর্নব আইচ : মশলার প্যাকেটে করে মাদক পাচার। ৬ কোটি টাকার মাদক পাচারের অভিযোগে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার হল নদিয়ার এক পাচারকারী। তাকে গ্রেপ্তার করেন কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এটিএফ)-এর আধিকারিকরা। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ধৃত ব্যক্তির নাম হাসিবুর রহমান। তার বাড়ি নদিয়া জেলার কালীগঞ্জে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আগেভাগেই ফাঁদ পেতেছিলেন গোয়েন্দারা। সেই ফাঁদেই পড়ল পাচারকারী। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাচারের ছক, পাচারে আর কারা কারা যুক্ত রয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।

গোপন সূত্রে খবর আসে যে, কলকাতায় পাচার হচ্ছে প্রচুর পরিমাণ হেরোইন। সেইমতো পূর্ব যাদবপুরের পূর্বালোক রোডে ফাঁদ পাতেন গোয়েন্দারা। হাবিবুরকে দেখে গোয়েন্দাদের সন্দেহ হয়। কিন্তু তার ব্যাগ তল্লাশি করে বের হয় একটি বিশেষ ব্র‌্যান্ডের মশলার প্যাকেট। সন্দেহের বশে সেই মশলার প্যাকেট খুলে ফেলেন গোয়েন্দারা। বেরিয়ে পড়ে সাদা গুঁড়োর পাউডার। ধৃত ব্যক্তি স্বীকার করে যে, ওই পাউডার আসলে মাদক হেরোইন। সে কলকাতায় এক পাচারকারীর হাতে এই মাদক তুলে দিতে এসেছিল। সম্প্রতি কয়েক দফায় পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে হেরোইন। কলকাতায় ছাত্রছাত্রীদের হাতেও চলে আসছে  এই মাদক। তাই এই মাদক রোধে তদন্ত শুরু করেন গোয়েন্দারা। এই মাদক চক্রের অন্য মাথাদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

[আরও পড়ুন : ‘ওদের মা-বাবার ঠিক নেই’, নজিরবিহীন কুকথায় বিরোধীদের তোপ দিলীপ ঘোষের]

প্রসঙ্গত, বুধবারই প্রেসিডেন্সি জেলের ভিতর মাদক পাচার করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছিল এক মহিলা। মহম্মদ বাবু নামে এক যুবক বর্তমানে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে বন্দি। ওই যুবকের সঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই সংশোধনগারে দেখা করতে যান তার মা সায়েদা বেগম। সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, নিজের ছেলে শুকনো খাবার, বিস্কুট দিয়ে যেত বন্দির মা। পাকা পেঁপে নিয়ে সংশোধনাগারে ছেলের সঙ্গে দেখা করতে আসেন তার মা। পেঁপে নিয়েও নেয় ছেলে। তবে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের পাকা পেঁপে দেখে সন্দেহ হয়। স্ক্যান করা হয় পাকা পেঁপের। তাতেই দেখা যায় ওই পাকা পেঁপের ভিতরে রয়েছে মাদক। হেস্টিংস থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ওই মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিত্যনতুন কায়দায় মাদক পাচারের ঘটনা কলকাতা পুলিশের উপর চাপ যে বাড়াচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।